প্রথমবারের মতো সরকারি অনুদান পেয়েছে প্রবাসীদের আমব্রেলা সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’। নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি থেকে ২০ হাজার ডলারের অনুদান চেক গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ ৫০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই প্রথম কোন সরকারি অনুদান পেল সংগঠনটি। গত ১ মার্চ রবিবার সোসাইটি আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে কুইন্স থেকে নির্বাচিত স্টেট অ্যাসেম্বলিমেম্বার জেনিফার রাজকুমার আনুষ্ঠানিকভাবে এই চেক হস্তান্তর করেন।
বিপুল করতালির মধ্যে এই চেক হস্তান্তরের সময় নিউইয়র্ক স্টেট পার্লামেন্টে প্রথম দক্ষিণ এশিয়ান নারী জেনিফার রাজকুমার প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বের রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশিদের সর্ববৃহৎ সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ সোসাইটি বরাবরই কল্যাণমূলক কাজে আমাকে পাশে পেয়েছে। তাই তাগিদেই ৫০ বছরের পুরনো এই সংগঠনের জন্যে এই প্রথম আমি স্টেট এ্যাসেম্বলী থেকে মোটা অংকের একটি অনুদান সংগ্রহ করেছি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান জেনিফার রাজকুমার এ সময় বাংলাদেশ সোসাইটির সকল কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
রাজনীতিক জেনিফার তার বক্তব্যে সোসাইটির সভাপতি সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নাম উচ্চারণ করেন বিশেষভাবে। এ সময় নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের আরেক সদস্য জন ল্যু মঞ্চে এসে প্রবাসীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন মানবতার কল্যাণে নিবেদিত থাকার জন্য। অনুষ্ঠানে জেনিফার ও জন ল্যু-কে কমিউনিটির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান কুইন্স ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এ্যাট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী।
উল্লেখ্য, কুইন্সের জয়া পার্টি হলে বাংলাদেশ সোসাইটির এ ইফতার-মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। সর্বস্তরের প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারি ব্যক্তিবর্গের বিপুল সমাগম ঘটেছিল। স্টেট এ্যাসেম্বলীর চেক হস্তান্তরকালে মঞ্চে হোস্ট সংগঠনের সকল কর্মকর্তা ছাড়াও বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, আবাসন ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী নুরুল আজিম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তোফায়েল চৌধুরী লিটন, স্টেট এ্যাসেম্বলীর আসন্ন নির্বাচনে ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নের দৌড়ে অবতীর্ণ জে মোল্লা সানী এবং মো. শামসুল হক প্রমুখ।
এটি ছিল নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশি অধ্যুষিত ইফতার মাহফিল আয়োজনে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রথম দিনের কর্মসূচি। এ উপলক্ষে প্রবাস প্রজন্মের অংশগ্রহণে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যেও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ক্বেরাত প্রতিযোগিতায়ন নেতৃত্ব দেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ইমাম মাওলানা আবু জাফর বেগ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মাওলানা শহীদুল্লাহ। বিভিন্ন ইভেন্টে বিভিন্ন বয়সী নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। ক্বেরাত প্রতিযোগিতা ছিলো বাংলাদেশ সোসাইটির প্রসংশিত একটি উদ্যোগ।
সমগ্র ইফতার মাহফিল ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্যে আয়োজক কমিটির আহবায়ক মো. কামরুজ্জামান কামরুল এবং সদস্য-সচিব অনিক রাজ সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এ সময় সোসাইটির কার্যকরি কমিটির অন্যতম সদস্য জাহাঙ্গির শহীদ সোহরাওয়ার্দি সকলকে আমন্ত্রণ জানান ৯ মার্চ জ্যামাইকায় ইকরা পার্টি হলে, ১১ মার্চ ব্রঙ্কসে গোল্ডেন প্যালেস এবং ১৩ মার্চ ব্রুকলীনে রাধুনি রেস্টুরেন্টের ইফতার মাহফিলে সপরিবারে যোগদানের জন্য।
কুইন্সের জয়া পার্টি হলে বাংলাদেশ সোসাইটির ইফতার-মাহফিল উপলক্ষে এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম এবং স্বাগত বক্তব্য ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেনিফার রাজকুমার, নিউইয়র্ক স্টেটের আইন প্রণেতা জন ল্যু, সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ, শামসুল হক, কুইন্স ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট-লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, দোয়া ও ইফতার মাহফিল উপ কমিটির আহ্বায়ক মোঃ কামরুজ্জামান কামরুল ও সদস্য সচিব অনিক রাজ প্রমূখ।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে জেনিফার রাজকুমার বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশিদের সর্ববৃহৎ সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটির কল্যাণে কাজ করে আসছে। সংগঠনের কর্মকান্ডে অনুপ্রাণিত হয়েই প্রথমবারের মতো স্টেট অ্যাসেম্বলি থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের এই অনুদান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। আমেরিকান এই আইনপ্রণেতা বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও কমিউনিটির উন্নয়নে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের সদস্য জন ল্যু প্রবাসী বাংলাদেশিদের মানবকল্যাণমূলক কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন এবং কমিউনিটির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সোসাইটির কর্মকর্তা, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, প্রাক্তন ও সাবেক কর্মকর্তা এবং সুধীজনদের পরিচয় করে দেয়া হয়।
দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠান সফল করতে আহ্বায়ক মোঃ কামরুজ্জামান কামরুলকে আহ্বায়ক, মোহাম্মদ হাসান জিলানীকে যুগ্ম আহ্বায়ক, অনিক রাজকে সদস্য সচিব, আবুল কাশেম চৌধুরীকে যুগ্ম সদস্য সচিব, ডিউক খানকে প্রধান সমন্বয়কারী, হাসান খানকে সমন্বয়কারী করে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের প্রবাসীদের বিপুল সমাগম ঘটে।
ইফতার মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আজিমুর রহমান বোরহান, আহসান হাবিব, কাজী আজহারুল হক মিলন, আক্তার হোসেন, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, ডা. ইনামুল হক, আতোয়ারুল আলম, নাঈম টুটুল, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, মাইনুল উদ্দিন মাহবুব, আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি ডা. ওয়াদুদ ভুইয়া, সাবেক সভাপতি আব্দুর রব মিয়া, আজমল হোসেন কুনু, মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, ফারুক হোসেন মজুমদার, বাবুল চৌধুরী, মোহাম্মদ জামান তপন, সাইফুল ইসলাম, খন্দকার ফরহাদ, সরওয়ার খান বাবু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার, সাবেক কোষাধ্যক্ষ নওশাদ হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম, আলী ইমাম শিকদার, কম্যুনিটি এক্টিভিস্ট আব্দুল খালেক, মূলধারার রাজনীতিবিদ এন মজুমদার, একেএম রফিকুল ইসলাম ডালিম, নাঈমা খান, সোহেল গাজী, আমিন খান জাকির, মামুন মিয়াজি, মোবারক হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলম, গোলাপগঞ্জ সোসাইটির সভাপতি এবাদ চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নূরুল আজিম, সাবেক কর্মকর্তা সৈয়দ এম কে জামান, বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সহ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ভুইয়া, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূইয়া রুমি, প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, স্কুল বিষয়ক সম্পাদক হাসান জিলানী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোস্তফা অনিক রাজ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জামিল আনসারি, কার্যকরি সদস্য এ বি সিদ্দিক পাটোয়ারি, সাবেক কর্মকর্তা কাজী তোফায়েল ইসলাম, জাহাঙ্গীর সরওয়ার্দি, সদস্য সাবেক সহ সভাপতি ওয়াসি চৌধুরী, আবুল কাশেম চৌধুরী, প্রধান সমন্বয়কারী ডিউক খান, হাসান খান, মোহাম্মদ আক্তার বাবুল, কম্যুনিটি এক্টিভিস্ট আব্দুস শহীদ, ওয়াহেদ কাজী এলিন, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের একাংশের সভাপতি বদরুল হোসেন খান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সভাপতি ইউনূস সরকার, নবাবগঞ্জ এসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম এন হায়দার মুকুট, সৈয়দ এনায়েত আলী, আব্দুর রহমান বাবু, সেলিম ইব্রাহিম, নার্গিস আহমেদ, রায়হান তাজ, প্রমি তাজ, নীরা রাব্বানী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিলাল চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আকিব হোসাইন, মিসবাহ আহমদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তোফায়েল চৌধুরী লিটন, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, সাবেক কর্মকর্তা কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, নওশাদ হোসেন, শাহ শহীদুল হক, মিলন মোল্লা, হেলাল মিয়া, কাজী আজিজুল হক, রুমানা আহমেদ, সাবেক কর্মকর্তা সালামত উল্যাহ প্রমুখ।