নর্থ ফিনিক্স, অ্যারিজোনায় একটি মসজিদে রমজানের নামাজ চলাকালীন সময়ে মসজিদ লক্ষ্য করে গুলি ও নামাজ থেকে ফেরার পথে শিশুদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা স্থানীয় মুসলিম নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মুসলিম নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে ইরানকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার কারণে কিছু ব্যক্তি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংস কার্যক্রমে প্ররোচিত হতে পারেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ইসলামিক সেন্টার অফ নর্থ ফিনিক্সের কাছে ৮ মার্চ রাত ১২ট ৩০ মিনিটে সংঘটিত হয়। পুলিশ স্পোকসপারসন সার্জেন্ট লরেইন ফার্নান্দেজ বলেন, একজন ব্যক্তি পেলেট বা পেইন্টবল গান ব্যবহার করে মসজিদের দিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে এটি আগ্নেয়াস্ত্রের মতো মনে হলেও পরে দেখা যায় এটি পেইন্টবল বা পেলেট গান থেকে সৃষ্ট শব্দ ছিল।
ফিনিক্সের মেয়র কেট গ্যালেগোর মুখপাত্র টড জুবাটকিন জানিয়েছেন, পুলিশ এই ঘটনাকে ঘৃণামূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে। মসজিদের বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মূলত শিশু ও তরুণরা। ইসলামী কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও অ্যারিজোনা মুসলিম পুলিশ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের পরিচালক মোহামেদ এল-শারকাওয়ী বলেন, হামলার সময় মসজিদে নামাজে অংশ নিচ্ছিলেন রমজানের শেষ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা। তিনি আরো জানান, হামলাকারী প্রথমে শিশুদের সঙ্গে কথোপকথন করেন এবং পরে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এটি একটি হেইট ক্রাইম। হামলাকারী শিশুদের সঙ্গে কথা বলার পর অপ্ররোচিতভাবে গুলি চালায়।
পুলিশ জানিয়েছে, একাধিক ব্যক্তি একটি সন্দেহজনক গাড়ি মসজিদের গেটের কাছে আসতে দেখেছেন। একজন ব্যক্তি গাড়ি থেকে বের হয়ে প্রাথমিকভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের মতো কিছু দেখিয়েছিলেন। পরে তিনি গাড়িতে ফিরে এসে পেইন্টবল ছোড়েন, যা কিছু পার্কিং করা গাড়ি আঘাত করে। কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ এলাকার আশপাশে তল্লাশি চালিয়েছে, তবে হামলাকারীকে ধরা যায়নি।
ফিনিক্স পুলিশ আরো জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন এলাকায় বর্ধিত টহল চালানো হবে। যেকোনো তথ্য থাকলে গোপন সূত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সময়ে ফিনিক্স মেয়র কেট গ্যালেগো সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন, ঘৃণা আমাদের শহরে স্থান পাবে না। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি আইনের আওতায় আনা হবে।
মসজিদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রমজান হলো প্রার্থনা, উপবাস, দান এবং সবার প্রতি সদিচ্ছার মাস। ঘৃণার জন্ম ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়। আমরা সবাইকে সদিচ্ছা ছড়ানোর এবং সহনশীলতা বাড়ানোর আহ্বান জানাই। উল্লেখযোগ্য, এ মসজিদে মূলত বসনিয়ান শরণার্থী পরিবার বসবাস করেন, যারা ১৯৯০-এর দশকে বাল্কান যুদ্ধ থেকে আগত। ২০১১ সালে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নিয়মিত প্রায় ৩০০ সদস্য এতে অন্তর্ভুক্ত।
মসজিদে হামলার ঘটনাটি সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তারা সবাই একযোগে আহ্বান জানিয়েছেন যে, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা এবং ঘৃণার কোনো স্থান নেই। এ ধরনের ঘটনা মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ ধর্মচর্চার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এ হামলা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে রমজানের সময় শিশুরা নামাজ পড়ার সময় আক্রান্ত হওয়ার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশ এবং প্রশাসন এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সব ধরনের তথ্য পেতে সাধারণ মানুষকে গোপন সূত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলেছে।
সর্বশেষ মুসলিম সম্প্রদায়, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসন একযোগে এ ধরনের সহিংসতার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিশ্বাস করেন যে, ধর্মীয় স্থান ও প্রার্থনার সময় সব সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিরাপদে থাকার অধিকার রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।