নাগরিকত্ব আবেদনের ফি ১৩৩০ ডলার বাতিল হতে পারে ফি মওকুফ


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 24-06-2026

নাগরিকত্ব আবেদনের ফি ১৩৩০ ডলার বাতিল হতে পারে ফি মওকুফ

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের স্বপ্ন দেখা লাখো বৈধ অভিবাসীর জন্য বড় ধরনের আর্থিক বাধা তৈরি করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাব। গত ২২ জুন প্রকাশিত একটি প্রস্তাবিত নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন ফি বর্তমানের তুলনায় ৫৭০ ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের আবেদনকারীদের জন্য দীর্ঘদিনের ফি মওকুফ এবং ফি কমানোর সুবিধাও বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) প্রস্তাব অনুযায়ী, কাগজে নাগরিকত্বের আবেদন জমা দিতে বর্তমানে যেখানে ৭৬০ ডলার ফি দিতে হয়, সেখানে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আবেদনকারীদের গুণতে হবে ১ হ্জাার ৩৩০ ডলার। অন্যদিকে অনলাইনে আবেদনকারীদের জন্য ফি ৭১০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৮০ ডলার হবে। এছাড়া কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে পুনর্বিবেচনার আবেদন করার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ৬৪৫ ডলার ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে অনেক নিম্ন আয়ের গ্রিন কার্ডধারী নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় ফি মওকুফ অথবা আংশিক ফি ছাড়ের সুবিধা পান। বিশেষ করে যেসব পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র‍্যসীমার ৪০০ শতাংশ বা তার নিচে, তারা কম খরচে আবেদন করার সুযোগ পান। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী এ দুটি সুবিধাই তুলে দেওয়া হবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে আর কোনো আবেদনকারী আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নাগরিকত্ব আবেদনের ফি মওকুফ বা কমানোর সুযোগ পাবেন না। তবে সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং ভেটেরানদের জন্য বিদ্যমান কিছু ফি ছাড় ও অব্যাহতি বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে।

অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নিম্ন আয়ের লাখো বৈধ অভিবাসীর জন্য নাগরিকত্ব অর্জন আরো কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে বয়স্ক অভিবাসী, শরণার্থী, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তবে এ ফি বৃদ্ধি এখনো কার্যকর হচ্ছে না। এটি এখনো একটি প্রস্তাবিত নিয়ম মাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নিয়ম প্রণয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এটি প্রকাশ করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে সাধারণ জনগণ, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, অধিকারকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে মতামত বা আপত্তি জমা দিতে পারবেন। এরপর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ফলে জনমতের ভিত্তিতে এ প্রস্তাবে পরিবর্তন আসারও সুযোগ রয়েছে।

নতুন প্রস্তাবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বলেছে, নাগরিকত্ব আবেদনের প্রকৃত খরচ পূরণ করতে এবং আবেদনকারীদের আরো গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। ইউএসসিআইএস অন্য অনেক ফেডারেল সংস্থার মতো সরাসরি কংগ্রেসের অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে না সংস্থাটির অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালিত হয় আবেদনকারীদের দেওয়া ফি থেকে।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি তাদের ব্যাখ্যায় বলেছে, অতীতের প্রশাসনগুলো নাগরিকত্বকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আবেদন ফি তুলনামূলকভাবে কম রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন মনে করে নাগরিকত্বের আবেদনকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কারণে অন্য অভিবাসন সুবিধার আবেদনকারীদের ওপর আর্থিক চাপ পড়ে। প্রস্তাবে ডিএইচএস উল্লেখ করেছে, পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোর অগ্রাধিকার ছিল নাগরিকত্ব ও সামাজিক একীকরণকে উৎসাহিত করা। সে কারণে ন্যাচারালাইজেশন আবেদনগুলো কম খরচে রাখা হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসন আর সে নীতি অনুসরণ করছে না। বর্তমানে অধিকাংশ বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা তিন বা পাঁচ বছর গ্রিনকার্ডধারী থাকার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে ইংরেজি ভাষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা সম্পর্কিত সিভিকস পরীক্ষা পাস করতে হয়। পাশাপাশি আবেদনকারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা এবং সুনৈতিক চরিত্র প্রমাণ করাও বাধ্যতামূলক।

নাগরিকত্ব পাওয়ার পর একজন অভিবাসী ভোটাধিকার, ফেডারেল চাকরির সুযোগ, মার্কিন পাসপোর্ট এবং পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন সুবিধা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অধিকার অর্জন করেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ এবং অবৈধ উভয় ধরনের অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নাগরিকত্ব আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও প্রশাসন গুড মোরাল ক্যারেক্টার বা নৈতিক চরিত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরো জোরদার করেছে।

এছাড়া বহু বছর ধরে কার্যত বন্ধ থাকা নেইবারহুড চেকস বা প্রতিবেশী যাচাই প্রক্রিয়াও পুনরায় চালু করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে কর্মকর্তারা আবেদনকারীর প্রতিবেশী, সহকর্মী এবং পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার চরিত্র ও আচরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। সমালোচকরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ আবেদন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করবে এবং নাগরিকত্ব পাওয়া আরো জটিল করে তুলবে।

একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে নাগরিকত্ব পাওয়া বিদেশে জন্মগ্রহণকারী মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে ডিন্যাচারালাইজেশন অভিযানও জোরদার করেছে। যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব আবেদনের সময় তথ্য গোপন করা, জালিয়াতি করা অথবা অপরাধমূলক ইতিহাস লুকানোর অভিযোগ রয়েছে, তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ বাড়ানো হয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, যারা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, অতিরিক্ত কঠোরতা অনেক বৈধ আবেদনকারীর মধ্যে ভয় এবং অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে গত কয়েক দশকের মধ্যে নাগরিকত্ব আবেদনের খরচে অন্যতম বড় বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হবে। অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে প্রস্তাবটির বিরোধিতা শুরু করেছে। তারা যুক্তি দিচ্ছে, নাগরিকত্বকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে এ পদক্ষেপ লাখো বৈধ অভিবাসীর সামনে নতুন আর্থিক বাধা সৃষ্টি করবে।

অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, আবেদনকারীদের আরো গভীরভাবে যাচাই করা এবং ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এ অতিরিক্ত অর্থ অপরিহার্য। আগামী কয়েক মাসে জনমত গ্রহণ, আইনি পর্যালোচনা এবং চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব অর্জনের পথ কতটা ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে যাচ্ছে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)