মসজিদে হামলার পর মুসলিম সম্প্রদায়ে নিরাপত্তাহীনতা


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 24-06-2026

মসজিদে হামলার পর মুসলিম সম্প্রদায়ে নিরাপত্তাহীনতা

সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে ১৮ মে প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণের এক মাস পর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফর্নিয়া, সান দিয়েগোর ইউএস ইমিগ্রেশন পলিসি সেন্টারনতুন এক জরিপে দেখা গেছে, স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলিম বাসিন্দা এখন তাদের কমিউনিটিতে আগের তুলনায় কম নিরাপদ বোধ করছেন।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সান দিয়েগো (ইউসি সান দিয়েগো)-এর ইউএস ইমিগ্রেশন পলিসি সেন্টার পরিচালিত এই জরিপে ৩১২ জন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম অংশগ্রহণ করেন। এতে সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরা হয়েছে।

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ৮৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন ওই হামলার পর তারা আগের চেয়ে বেশি অনিরাপদ অনুভব করছেন। ৭৪ শতাংশ জানান, মুসলিম পরিচয়ের কারণে তারা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা গত এক বছরে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো না কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে জানান।

জরিপে আরো উঠে এসেছে, প্রায় অর্ধেক অংশগ্রহণকারী মনে করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মুসলিমদের বিরুদ্ধে হুমকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে দেখে না। উল্লেখ্য, গত ১৮ মে সান দিয়েগোর ক্লেয়ারমন্ট এলাকায় ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়েগোর প্রাঙ্গণে দুই কিশোর বন্দুকধারীর হামলায় তিনজন নিহত হন। পরে হামলাকারীরা আত্মহত্যা করে বলে জানানো হয়।

ঘটনার পর ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক ইমাম তাহা হাসানে বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান ঘৃণারই একটি বেদনাদায়ক প্রকাশ। তার মতে, এটি আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিদ্বেষের ফল। এ জরিপের ফলাফল নীতিনির্ধারক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কারণ অনুসন্ধান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় মুসলিম নেতারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি জোট ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসোমের কাছে ২০ মিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিল বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়েছে।তবে উদ্বেগের মধ্যেও জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শক্তিশালী ধর্মীয় ও জাতীয় পরিচয়ের অনুভূতি দেখা গেছে। ৯৬ শতাংশ জানান তারা মুসলিম হিসেবে গর্বিত, এবং ৯৪ শতাংশ বলেন তারা আমেরিকান হিসেবে গর্বিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ফলাফল একদিকে যেমন নিরাপত্তাহীনতার বাস্তবতা তুলে ধরছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম পরিচয় ও নাগরিক পরিচয়ের মধ্যে দ্বৈত আত্মপরিচয়ের জটিল বাস্তবতাও প্রকাশ করছে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)