যুক্তরাষ্ট্রে মাদকজনিত অতিরিক্ত সেবনে মৃত্যুর সংখ্যা ২০২৫ সালে আবারও কমেছে। ইউনাইটেড স্টেটস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৭০ হাজার আমেরিকান মাদকজনিত কারণে প্রাণ হারিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ কম। ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, এটি টানা তৃতীয় বছরের মতো ওভারডোজ মৃত্যুর হার কমার ঘটনা এবং কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী পতন। ২০২৫ সালের মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২০১৯ সালের সমপর্যায়ে নেমে এসেছে, অর্থাৎ কোভিড-১৯ মহামারির আগের অবস্থার কাছাকাছি। প্রতিবেদনে আরো দেখা গেছে, মোট মাদকজনিত ওভারডোজ মৃত্যু ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৯৭৩ জনে। এর মধ্যে সিন্থেটিক ওপিওয়েড বিশেষ করে ফেন্টানিল সম্পর্কিত মৃত্যুই সবচেয়ে বেশি।
সিডিসির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সিন্থেটিক ওপিওয়েড, মূলত ফেন্টানিল, জড়িত ওভারডোজে আনুমানিক ৩৮ হাজার ৮৪ জন আমেরিকান মারা গেছেন। এটি ২০২৪ সালের ৪৮ হাজার ৯১৩ জন মৃত্যুর তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ কম। ফেন্টানিল এখনো যুক্তরাষ্ট্রে মাদকজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে রয়েছে এবং মোট ওভারডোজ মৃত্যুর প্রায় ৫৪ শতাংশ এই মাদকের কারণে ঘটছে।
অন্যদিকে ফেন্টানিল, কোকেইন এবং মেথঅ্যামফেটামিনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ওভারডোজে মৃত্যু কমলেও অ্যারিজোনা, কলোরাডো এবং নিউ মেক্সিকোসহ সাতটি অঙ্গরাজ্যে উল্টো বৃদ্ধি দেখা গেছে। এসব রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ শতাংশ বা তারও বেশি বেড়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, মানসিক চাপ এবং আসক্তি চিকিৎসাসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ওভারডোজ মৃত্যু রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। ২০২২ সালে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ ওভারডোজে মারা যান, যা ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যা। পরবর্তী সময়ে নালোক্সোন নামের জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি, আসক্তি চিকিৎসা সম্প্রসারণ, মাদক ব্যবহারের ধরনে পরিবর্তন এবং ওপিওয়েড প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে মামলার নিষ্পত্তি থেকে পাওয়া বিলিয়ন ডলারের তহবিল পরিস্থিতির উন্নতিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
তবে নতুন উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ মাদকের বাজারে নতুন ও আরো শক্তিশালী রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি বাড়ছে। পেনসিলভানিয়া ভিত্তিক সেন্টার ফর ফরেনসিক সায়েন্স রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশনের পরিচালক অ্যালেক্স ক্রোটুলস্কি জানান, ২০২৫ সালে তাদের ল্যাব ২৭টি নতুন মাদক শনাক্ত করেছে। কিন্তু ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই ২৩টি নতুন মাদক শনাক্ত হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পদার্থগুলোর একটি হলো সাইক্লোরফিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ফেন্টানিলের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী একটি সিন্থেটিক ওপিওয়েড। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর অজান্তেই এটি অন্যান্য অবৈধ মাদকের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। যদিও ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান আশাব্যঞ্জক, তবুও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ৭০ হাজার মানুষের ওভারডোজে মৃত্যু এখনো একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট। নতুন শক্তিশালী মাদকের আগমন, নীতিগত পরিবর্তন এবং চিকিৎসা ও প্রতিরোধ কর্মসূচির অর্থায়ন কমে গেলে পরিস্থিতি আবারও খারাপ হতে পারে।