যুক্তরাষ্ট্রে হাউজিং মার্কেট আবারও চাপের মুখে পড়েছে, কারণ ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজ রেট বেড়ে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশে পৌঁছেছে। গত ২২ জুন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৫ বছর মেয়াদি মর্টগেজ রেটও বেড়ে ৫ দশমিক ৯০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকরেট-এর তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রেট তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও তা এখনো উচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সুদের হারকে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভ গত ১৭ জুনের বৈঠকে ফেড ফান্ড রেট ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখে। ফেড জানায়, অর্থনীতি এখনো সম্প্রসারণশীল এবং শ্রমবাজার স্থিতিশীল থাকলেও মূল্যস্ফীতি এখনো বড় উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে। তবে ফেডের নীতিনির্ধারকদের বড় অংশ ২০২৬ সালের শেষ দিকে আবার সুদের হার বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে ভবিষ্যতে মর্টগেজ রেট আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা হাউজিং বাজারে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বর্তমানে বাজারে ৩০ বছর ফিক্সড মর্টগেজ রেট ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ১৫ বছর ফিক্সড ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ, ৫/১ অ্যাডজাস্টেবল রেট মর্টগেজ (এআরএম) ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং ৩০ বছর জুম্বো লোন ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশে অবস্থান করছে। রিফাইন্যান্স রেটেও সামান্য পরিবর্তন দেখা গেছে, যেখানে ৩০ বছর ফিক্সড রিফাইন্যান্স রেট ৬ দশমিক ৭২ শতাংশে পৌঁছেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৫ সালের তুলনায় রেট কিছুটা কম থাকলেও ২০২৬ সালের শুরু থেকে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বছরের শুরুতে রেট ৬ শতাংশের নিচে নেমেছিল, তবে বর্তমানে তা আবার ৬ দশমিক ৪ থেকে ৬ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ২০২৩ সালে মর্টগেজ রেট ৭ শতাংশের ওপরে উঠেছিল, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ স্তরগুলোর একটি।
উচ্চসুদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন ক্রেতাদের জন্য বাজারে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়ছে এবং মাসিক কিস্তির চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে ৩ দশমিক ৫ লাখ ডলারের একটি লোনে ৩০ বছরের মেয়াদে মাসিক কিস্তি প্রায় ২ হাজার ১৫০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যেখানে মোট সুদের পরিমাণ কয়েক লাখ ডলারে পৌঁছায়।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ফ্যানি মের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৬ সালজুড়ে মর্টগেজ রেট ৬ শতাংশের ওপরে থাকতে পারে। ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে বাজারে আরো ওঠানামা দেখা যেতে পারে, তবে আপাতত উচ্চ সুদের চাপ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।