নির্বাসন দেশে প্রত্যাবর্তন শেষে জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তারেক জিয়া। ঢাকার একটি প্রশস্ত মহাসড়কে দলীয় সমর্থক এবং সাধারণ জনতার মহাসমুদ্রে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য একটি পরিকল্পনার কথা। সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০০৮ সালে জেলজুলুম নির্যাতনে বিপর্যস্ত হয়ে যুক্তরাজ্যে গমন করেছিলেন। তার অবর্তমানে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কারণে অনেক মামলা দিয়ে কয়েকটি মামলায় তাকে দনিমবত করে। কিন্তু মানতেই হবে প্রবাসে থেকেও দীর্ঘ সময় বিএনপির মতো বিশাল রাজনৈতিক দলকে নেতৃত্ব দিয়ে একতাবদ্ধ রেখেছে। সামান্য আঁচও লাগতে দেয়নি দলের ললাটে।
২০২৪ ছাত্র-জনতা আন্দোলনের পরবর্তী পরিবর্তনেও তার সম্পৃক্ততা সবার জানা। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সকল মামলা এবং দণ্ড থেকে মুক্তি পেয়েও ভূরাজনীতির অশুভ প্রভাবের কারণে দেশে ফিরতে বিলম্ব হয়। এমনকি মৃত্যু পথযাত্রী মায়ের গুরুতর অসুস্থতার জন্য তার দেশে ফেরা বাধাগ্রস্ত ছিল। কীভাবে সেই বাধা দূর হয়েছে সেটি হয়তো কিছুদিন পরই জনসম্মুখে প্রকাশিত হবে। তবে এটি অনস্বীকার্য তারেকের প্রত্যাবর্তন বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রাণের সঞ্চার করবে।
জাতি ১৯৭২ থেকে ২০২৪ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং সেনা শাসন দেখেছে। কিন্তু দেশে এখনো গণতন্ত্র সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আড়ালে মেটিকুলাস ডিজাইনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আশা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আবার একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নানা কারণে তৃণমূলে বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের কার্যক্রম বিতর্কিত হয়েছে। এগুলো মোকাবিলা করে রাজপথের সঙ্গীদের নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হবে তারেক জিয়াকে। জানি না, মা খালেদা জিয়া সুস্থ হলেও রাজনীতি বা সরকার পরিচালনার ধকল সইতে পারবেন কি না। সেক্ষেত্রে হাল ধরতে হবে তারেক জিয়াকেই। জাতির কল্যাণ ডান বাম মধ্যপন্থী সবার মাঝে একটা সেতু তৈরি করতে হবে।
তারেক বলেছেন, তার একটি পরিকল্পনা আছে। ইদানীং তার বিভিন্ন বার্তায় অনেক রাজনৈতিক পরিপক্বতার ছাপ দেখা গেছে। আশা করি, প্রতিবেশীসহ সব দেশের প্রতি সুসম্পর্ক বজায় রেখে, ন্যায়বিচার এবং মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে তারেক অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আমি ইংরেজ কবির বিখ্যাত ‘The Patriot’ কবিতার কথা স্মরণ করাতে চাই। যে মানুষ বিজয়ী বীরকে স্মরণ করে তারাই কিন্তু ব্যর্থ রাষ্ট্র নায়ককে নির্দয়ভাবে বিদায় দেয়। স্মরণে রাখতে হবে জাতীয় স্বার্থে দুর্নীতির প্রতি আপসহীন থেকে, যুবসমাজের সৃজনশীলতা এবং মেধাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আইনের শাসন আর সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।