মেডিকেইড তথ্য আইস’র সঙ্গে শেয়ার বৈধ


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 31-12-2025

মেডিকেইড তথ্য আইস’র সঙ্গে শেয়ার বৈধ

ক্যালিফোর্নিয়ার ইউএস নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট অব ক্যালিফোর্নিয়া বিচারক ২৯ ডিসেম্বর সোমবার রায় দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের কিছু মৌলিক তথ্য ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস )-এর সঙ্গে শেয়ার করতে পারবে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও আদালত। একই সঙ্গে সংবেদনশীল ও বিস্তৃত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য শেয়ারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন।

সোমবার ইউ এস নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিচারক ভিন্স চ্যাব্রিয়া স্টেটগুলোর আবেদনের ওপর আংশিকভাবে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেন। রায়ে তিনি বলেন, আইনের ভাষা অনুযায়ী মৌলিক জীবনীসংক্রান্ত তথ্য, অবস্থান ও যোগাযোগের তথ্য যেমন নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থা শেয়ার করা সম্পূর্ণরূপে অবৈধ বলা যায় না। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এর বাইরে যেকোনো তথ্য শেয়ার আইনসম্মত নয় এবং সে অংশে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। বিচারক তার আদেশে উল্লেখ করেন যে, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কাছে এ ধরনের মৌলিক তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা অতীতেও ছিল। তবে তিনি সমালোচনা করে বলেন, সাম্প্রতিক নীতিমালা “অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ এবং সুসংগঠিত সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়ার ফল নয়।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, মৌলিক তথ্যের বাইরে কী তথ্য চাওয়া হবে, কেন তা প্রয়োজন এবং তা ভাগাভাগির ঝুঁকি কী, এসব বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।

এই মামলাটি দায়ের করে ক্যালিফোর্নিয়াসহ মোট ২০টি অঙ্গরাজ্য, যাদের নেতৃত্বে ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা। বাদীপক্ষের দাবি ছিল, মেডিকেইড তথ্য আইস-এর সঙ্গে শেয়ার করা ফেডারেল স্বাস্থ্য গোপনীয়তা আইন, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসিডিউর অ্যাক্ট এবং দীর্ঘদিনের সরকারি নীতির পরিপন্থী। তাদের যুক্তি অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ অভিবাসী ও মিশ্র পরিবারের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করবে এবং মানুষকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ থেকেও বিরত রাখতে পারে।বাদীপক্ষ আরও উল্লেখ করে যে, মেডিকেইড একটি জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি, কোনো অভিবাসন প্রয়োগের হাতিয়ার নয়। এই কর্মসূচিতে নাম লেখানোর সময় অংশগ্রহণকারীদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে অভিবাসন প্রয়োগের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। ফলে এটি বিশ্বাসভঙ্গ এবং গোপনীয়তার লঙ্ঘন বলেও তারা আদালতে যুক্তি তুলে ধরে।

মামলায় প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস, সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস এবং সংশ্লিষ্ট ফেডারেল কর্মকর্তারা। সরকারের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয় যে, অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিরা সাধারণত মেডিকেইডের জন্য যোগ্য নন এবং সীমিত তথ্য ভাগাভাগি করলে করদাতাদের অর্থের অপব্যবহার রোধ ও অভিবাসন আইন প্রয়োগ সহজ হবে।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি আইনের শাসন নিশ্চিত করেছে। ডিএইচএস -এর সহকারী সচিব ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, এই সিদ্ধান্ত সরকারের অভিবাসন প্রয়োগে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের বৈধ ক্ষমতাকে পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং করদাতাদের স্বার্থ রক্ষা করবে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা সন্তুষ্ট যে আদালত সংবেদনশীল স্বাস্থ্যতথ্য, বৈধ মার্কিন নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের তথ্য এবং অন্যান্য সিএমএস পরিচালিত স্বাস্থ্য কর্মসূচির তথ্য শেয়ার করার অনুমতি দেয়নি। তবে মৌলিক তথ্য শেয়ারের অনুমতি নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিচারক চ্যাব্রিয়া রায়ে বিশেষভাবে মিশ্র পরিবারের বিষয়টি তুলে ধরেন, যেখানে একই পরিবারের কিছু সদস্য বৈধভাবে এবং অন্যরা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের পরিবারের ক্ষেত্রে বৈধ নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের তথ্য আইসির কাছে গেলে গুরুতর গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

মেডিকেইড একটি যৌথ ফেডারেল-স্টেট স্বাস্থ্য কর্মসূচি, যার আওতায় সারা দেশে প্রায় ৭৯ মিলিয়ন আমেরিকান স্বাস্থ্যসেবা পান। ক্যালিফোর্নিয়ায় এই কর্মসূচি ‘মেডি-ক্যাল’ নামে পরিচিত। অবৈধ অভিবাসীরা সাধারণত পূর্ণ মেডিকেইড সুবিধার জন্য যোগ্য নন, তবে সব রাজ্যেই জরুরি চিকিৎসার জন্য ইমার্জেন্সি মেডিকেইড দেওয়া বাধ্যতামূলক, যা অভিবাসন অবস্থান নির্বিশেষে প্রযোজ্য।

চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, ইমার্জেন্সি মেডিকেইড কর্মসূচির ব্যয় মোট মেডিকেইড ব্যয়ের এক শতাংশেরও কম। তবুও বাদীপক্ষের আশঙ্কা, এই কর্মসূচির সঙ্গে অভিবাসন প্রয়োগ জড়িয়ে পড়লে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় বাড়বে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস দীর্ঘদিন ধরে আইসির সঙ্গে মেডিকেইড রোগীদের তথ্য শেয়ার না করার নীতি অনুসরণ করে আসছিল এবং ২০১৩ সাল থেকে আইস'ও ঘোষণা দিয়ে আসছিল যে তারা এসব তথ্য অভিবাসন প্রয়োগে ব্যবহার করবে না। তবে চলতি বছরের জুনে সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস এই তথ্য শেয়ার শুরু করে এবং জুলাই মাসে সিএমএস ও আইস একটি আনুষ্ঠানিক তথ্য আদান-প্রদান চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যা এই মামলার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই মামলায় এখনও চূড়ান্ত রায় হয়নি। আদালত প্রশাসনিক কারণে পূর্বের নিষেধাজ্ঞা ৫ জানুয়ারি, আগামী সোমবার পর্যন্ত বহাল রেখেছে এবং প্রয়োজনে শুক্রবার শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার চূড়ান্ত রায় যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা গোপনীয়তা, স্টেট -ফেডারেল সম্পর্ক এবং অভিবাসন প্রয়োগ নীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)