জানুয়ারিকে মুসলিম আমেরিকান হেরিটেজ মাস ঘোষণা


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 07-01-2026

জানুয়ারিকে মুসলিম আমেরিকান হেরিটেজ মাস ঘোষণা

নিউইয়র্ক স্টেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গভর্নর ক্যাথি হোচুল গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার জানুয়ারি মাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলিম আমেরিকান হেরিটেজ মান্থ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই ঐতিহাসিক ঘোষণার অংশ হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক জুড়ে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেট স্থাপনা সবুজ আলোয় আলোকিত করার নির্দেশ দেন গভর্নর। এর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক সিটির প্রতীকী স্থাপনা ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, নাইয়াগ্রা ফলস, গ্র‍্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনাল, মোইনিহান ট্রেন হল, রুজভেল্ট আইল্যান্ড লাইটহাউসসহ রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের সেতু, সরকারি ভবন ও পরিবহন কেন্দ্র।

গভর্নর হোচুল এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্টের সবচেয়ে বড় মুসলিম আমেরিকান জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল হিসেবে নিউইয়র্ক এই মাসব্যাপী উদযাপনে গর্বের সঙ্গে অংশ নিচ্ছে। মুসলিম আমেরিকান কমিউনিটির মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্ক সহনশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও বৈচিত্র‍্যরে এক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে যেখানে মুসলিম আমেরিকানদের ইসলামোফোবিয়া, ঘৃণা, পক্ষপাত ও সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া হবে।এই ঘোষণার মাধ্যমে নিউইয়র্ক স্টেট প্রথমবারের মতো মুসলিম আমেরিকানদের ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলো। ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, শিল্পকলা, বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি, সাহিত্য, সংগীত, চিকিৎসা ও দর্শনসহ সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলিম আমেরিকানরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। জানুয়ারি মাসজুড়ে এই ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে নিউইয়র্কবাসীকে আরো জানার আহ্বান জানানো হয়।

সবুজ আলোয় আলোকিত স্টেটের ১৬টি স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, গভর্নর মারিও এম. কুওমো ব্রিজ, কোসিয়াস্কো ব্রিজ, স্টেট এডুকেশন বিল্ডিং, আলফ্রেড ই. স্মিথ স্টেট অফিস বিল্ডিং, এম্পায়ার স্টেট প্লাজা, স্টেট ফেয়ারগ্রাউন্ডস, গ্র‍্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনাল–পারশিং স্কয়ার ভায়াডাক্ট, অ্যালবানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গেটওয়ে, পেন স্টেশনের এলআইআরআর ইস্ট এন্ড গেটওয়ে, মোইনিহান ট্রেন হল, ফেয়ারপোর্ট লিফট ব্রিজ, রুজভেল্ট আইল্যান্ড লাইটহাউস এবং প্রাকৃতিক বিস্ময় নাইয়াগ্রা ফলস।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, গত ১ জানুয়ারি শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়া আমার জন্য গর্বের, তবে মুসলিমরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নিউইয়র্কের অংশ। আমরা ব্যবসা গড়েছি, পরিবার লালন করেছি, সব পেশায় কাজ করেছি এবং শহরের সংস্কৃতি ও খাদ্যকে সমৃদ্ধ করেছি। তিনি গভর্নর হোচুলের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, এই স্বীকৃতি মুসলিম নিউইয়র্কারদের নিজেদের ঘরের মতো অনুভব করার বার্তা দেয়।

স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য চার্লস ডি. ফল বলেন, জানুয়ারিকে মুসলিম আমেরিকান হেরিটেজ মান্থ ঘোষণা করা প্রমাণ করে যে সলিম নিউইয়র্কাররা দৃশ্যমান, মূল্যবান ও সম্মানিত। স্টেট সিনেটর রবার্ট জ্যাকসন বলেন, নিউইয়র্ক বিশ্বের অন্যতম বৈচিত্র‍্যময় মুসলিম জনগোষ্ঠীর আবাস, যা রাজ্যের অর্থনীতি ও নাগরিক জীবনে গভীর প্রভাব রেখেছে।সিটি কাউন্সিল সদস্য শাহানা হানিফ বলেন, আমার মুসলিম পরিচয় ও নিউইয়র্কার পরিচয় আলাদা নয়। ব্রুকলিন থেকে বাফেলো পর্যন্ত মুসলিমরা এই রাজ্যের বৈচিত্র‍্য ও সহনশীলতার প্রতিচ্ছবি। কাউন্সিল সদস্য ইউসুফ সালাম বলেন, এই স্বীকৃতি আমাদের গভীর শিকড় ও দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি। নিউইয়র্ক স্টেটের বিভিন্ন মুসলিম নেতা, ইমাম, একাডেমিক, নাগরিক অধিকারকর্মী ও সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরাও এই ঘোষণাকে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। এমগেজ মেট্রো নিউইয়র্কের সিনিয়র উপদেষ্টা ড. ডেবি আলমন্টাসার বলেন, এতে প্রতিটি মুসলিম শিশু নিজেকে রাষ্ট্রের কাছে স্বীকৃত ও মূল্যবান মনে করবে। আইএসপিইউর নির্বাহী পরিচালক তুকা নুসাইরাত বলেন, এই ঘোষণা ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

আইএসপিইউর গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, নিউইয়র্ক সিটিতে মোট ফার্মাসিস্টের ১২ দশমিক ৫ শতাংশ, ট্যাক্সি চালকের ৪০ শতাংশ এবং স্ট্রিট ফুড ভেন্ডরের ৫৭ শতাংশের বেশি মুসলিম। ২০১৬ সালে মুসলিম মালিকানাধীন প্রায় ৯৫ হাজার ৮১৬টি ছোট ব্যবসা ২ লাখ ৫১ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এটি প্রমাণ করে মুসলিমরা নিউইয়র্কের অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ধর্মীয় নেতারা বলেন, এই স্বীকৃতি কেবল প্রতীকী নয় এটি ঐক্য, অন্তর্ভুক্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা বহন করে। অনেকেই উল্লেখ করেন, এনওয়াইপিডি ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলামের মতো মুসলিম নিউইয়র্কাররা জীবন দিয়ে এই শহরকে রক্ষা করেছেন। সব মিলিয়ে, জানুয়ারিকে মুসলিম আমেরিকান হেরিটেজ মান্থ ঘোষণা এবং রাজ্যজুড়ে সবুজ আলো প্রজ্বালন নিউইয়র্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি শুধু অতীতের অবদানকে সম্মান জানায় না, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে নিউইয়র্ক সবার এবং তার শক্তি নিহিত রয়েছে তার বৈচিত্র্যে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)