ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 14-01-2026

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা

ট্রাম্প প্রশাসনের সম্প্রতি পরিচালিত ব্যাপক অভিবাসন কার্যক্রমগুলো স্টেটগুলোর সংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মিনেসোটা ও ইলিনয় স্টেটের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা ১২ জানুয়ারি সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারাল আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করেছে। মিনেসোটা ও ইলিনয় স্টেটের শীর্ষ কর্মকর্তারা ১২ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের সম্প্রতি পরিচালিত ব্যাপক অভিবাসন কার্যক্রমগুলো স্টেটগুলোর সংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারাল আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করেছেন। মিনেসোটা ও শহর কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, হাজার হাজার সশস্ত্র ও মুখোশধারী ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মকর্তারা টুইন সিটিজে মিলিটারাইজড অভিযান চালাচ্ছেন, স্কুল ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে। মামলায় ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি এল নোয়েম, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক টড এম লায়ন্স এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনো।

ইলিনয় স্টেট ও শিকাগো সিটি আদালতে অনুরোধ করেছে যে, ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিপিবি) কোনো স্পষ্ট সাংবিধানিক অনুমোদন ছাড়া স্টেটে সিভিল অভিবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। একইভাবে, মিনেসোটা স্টেট ও মিনিয়াপলিস ও সেন্ট পল সিটি আদালতের কাছে আবেদন করেছে যে, ফেডারেল সরকার মিনেসোটা রাজ্যে অভূতপূর্ব সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা বন্ধ করবে।

এ মামলা সোমবার দায়ের করা হয়-এমন সময় যখন মিনেসোটা অঞ্চলে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান তীব্র আকার ধারণ করেছে আর এর আগে শিকাগোতেও বড় আকারের অভিযান চালানো হয়েছিল। উভয় স্টেট অভিযোগ করেছে, এ অভিযানগুলো সংবিধানের দশম সংশোধনী লঙ্ঘন করছে এবং স্টেটের সার্বভৌমত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা বারবার তাদের কার্যক্রমের ন্যায্যতা ব্যাখ্যা করেছেন এবং বলেছেন, রাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকারের সহযোগিতা না থাকলেও এ অভিযানগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি কার্যকর করার জন্য অপরিহার্য।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন ইলিনয় মামলার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এই মামলা ভিত্তিহীন এবং আমরা আদালতে প্রমাণ করার জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, এটা আশ্চর্যজনক যে তারা তখনই দশম সংশোধনীর কথা মনে করে যখন ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের আইন প্রয়োগ করতে বলা হয়। গত বুধবার একজন অভিবাসন কর্মকর্তা রিনি নিকোল গুড নামের একজন আমেরিকান নাগরিককে গুলিবিদ্ধ করে হত্যা করেন। এ ঘটনায় বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়। ফেডারেল সরকার গুলিটি আইনসিদ্ধ ও প্রয়োজনীয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে, কিন্তু স্থানীয় কর্মকর্তারা তা অগ্রাহ্য করেছেন। এর প্রতিবাদে মিনিয়াপলিস এলাকায় বিশেষভাবে বিক্ষোভ শুরু হয় ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

নতুন দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর ব্যাপক সীমাবদ্ধতা আরোপের আবেদন করা হয়েছে। ইলিনয় মামলায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন একটি সংগঠিত অভিযান পরিচালনা করেছে এবং ভয় সৃষ্টি করছে। মিনেসোটা মামলায় বলা হয়েছে, হাজার হাজার সশস্ত্র ও মুখোশধারী ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কর্মকর্তারা টুইন সিটিজে অভিযান চালাচ্ছে, বিপজ্জনক, অবৈধ ও সংবিধান বিরোধী তল্লাশি এবং গ্রেফতার কার্যক্রম চালাচ্ছে।

মিনেসোটা অ্যাটর্নি জেনারেল সাবেক কংগ্রেসম্যান কিথ এলিসন বলেন, মানুষকে জাতিগত ভিত্তিতে প্রোফাইলিং, হয়রানি, আতঙ্কিত করা এবং আক্রমণ করা হচ্ছে। মিনেসোটা পুলিশ তাদের অগণিত সময় ব্যয় করছে আইসির সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায়। এ ফেডারেল আগ্রাসন থামাতে হবে।

ইলিনয় মামলায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের রোভার প্যাট্রোল, টিয়ার গ্যাস ব্যবহার এবং ছবি ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহের মতো অভিযোগের তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের কয়েকটি উচ্চ প্রোফাইল অভিযানও এতে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে কর্মকর্তারা শিকাগোর ডাউনটাউনে অভিযান চালায়, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে একটি অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালায় এবং দুটি গুলির ঘটনায় জড়িত ছিল।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন প্রফেসর ডেভিড এ সুপার বলেন, প্রশাসন যে কোনো জাদুকরী মন্ত্র ব্যবহার করলেই এ মামলা বাতিল হবে না। তবে মামলাকারীদের প্রতিটি নীতির ক্ষেত্রে শক্ত প্রমাণ প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ইলিনয় মামলা নির্ভর করতে পারে আদালত কংগ্রেস কি পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিয়েছে এ অভিবাসন সংস্থাগুলোকে এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। মিনেসোটা মামলা নির্ভর করবে আদালত কতটা বিশ্বাস করে যে রাজ্যে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কর্মকর্তাদের এ বিপুল উপস্থিতি অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি করছে।

গত বছরও ফেডারেলায় ট্রাম্পের ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের কিছু পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ দায়ের করা হয়েছিল। সেই সময় আদালত অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির পদক্ষেপ বন্ধ করেছিলেন।ট্রাম্প প্রথম থেকেই অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচন করেছিলেন এবং প্রথম বছরে এ নীতিগুলো বাস্তবায়নে তীব্র পদক্ষেপ নিয়েছেন। শিকাগো ও মিনিয়াপলিসের পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলেস, নিউ অরলিন্স এবং পোর্টল্যান্ডে অভিবাসন কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করেছেন।

মিনেসোটায়, ফেডারেল কর্মকর্তারা স্টেটের সামাজিক সেবা ব্যবস্থায় ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি মিনিয়াপলিস এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে পুলিশ এবং অভিবাসন কর্মকর্তাদের মধ্যে মাঝে মাঝে সংঘর্ষ দেখা দিয়েছে। রিনি গুডের হত্যাকাণ্ড ফেডারেল ও স্টেট কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরোধ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এফবিআই এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে। শুরুতে স্টেট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও তদন্তে অংশ নিয়েছিল, কিন্তু পরে রাজনৈতিক আক্রমণের কারণে তারা তদন্ত থেকে সরে আসে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ফেডারেল এজেন্টরা ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ভেতরে বেআইনি কার্যকলাপে জড়িয়েছেন, যার মধ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) অভিযানের সময় যানবাহনের লাইসেন্স প্লেট বদলানো, ভুয়া লাইসেন্স প্লেট লাগানো বা প্লেট বিকৃত করার ঘটনাও রয়েছে। ইলিনয় আইনে কোনো যানবাহনের লাইসেন্স প্লেট ঢেকে রাখা, বদলানো বা পরিবর্তন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। মামলায় বলা হয়েছে, অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব আইন প্রয়োগের অধিকার রয়েছে এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বেআইনি কর্মকাণ্ড থেকে জননিরাপত্তা রক্ষায় ইলিনয় দৃঢ় অবস্থান নেবে।

ইলিনয় সেক্রেটারি অব স্টেট আলেক্সি জিয়ানুলিয়াস এক বিবৃতিতে বলেন, এই মামলা একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে-ইলিনয় কখনোই ফেডারেল এজেন্টদের আইন লঙ্ঘন ও জননিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে দেবে না। আমাদের বাসিন্দাদের সুরক্ষা দেওয়া আমাদের মৌলিক দায়িত্ব, এবং সেই ক্ষমতা আমরা প্রয়োগ করবই। লাইসেন্স প্লেট নিয়ে কারসাজি করা বেআইনি ও বিপজ্জনক। ংতিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সবার জন্য নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যে-ই আমাদের আইন ভাঙবে, তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

এছাড়া, গত ৪ ডিসেম্বর সেক্রেটারি জিয়ানুলিয়াসের দপ্তর ভাড়ার গাড়ি কোম্পানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। চিঠিতে ইলিনয় আইনে লাইসেন্স প্লেট বদল বা বিকৃত করা যে বেআইনি-তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় এবং সতর্ক করা হয় যে, এই ধরনের কাজে ভাড়ার গাড়ি ব্যবহার হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকেও আইনি দায় বহন করতে হতে পারে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)