মহীয়সী খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিগন্তে যেন এক গভীর শূন্যতা বিরাজ করছে। তিনি তিন মেয়াদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী ও গণতন্ত্রের প্রতীক। তার বিদায় শুধু একজন রাজনীতিকের মৃত্যু নয়; এটি একটি যুগের সমাপ্তি, একটি আদর্শিক সংগ্রামের এবং কোটি কোটি মানুষের আশা-ভরসার প্রদীপ নিভে যাওয়ার মতো। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে প্রায় সকল রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, গ্রুপ তথা জনগণের ঐক্যের প্রতীক। বিশেষ করে, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়নে যতগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার অধিকাংশ তার নেতৃত্বে হয়েছে। রাজনৈতিক উন্নয়নে তার অবদান অন্য কারও সঙ্গে তুলনা হয় না। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে তার অবদান অনন্য। বাংলাদেশকে তিনটি ক্রান্তিকাল থেকে উদ্ধার করেছিলেন জিয়া পরিবার। খালেদা জিয়া গৃহী থেকে রাষ্ট্রনায়ক হয়েছিলেন। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন শ্রদ্ধার মণিকোঠায় তার নাম থাকবে। গত ৯ জুন শ্রক্রবার সন্ধ্যায় সার্বজনীন নাগরিক কমিটির আয়োজিত শোকসভা এবং বিশেষ দোয়া মাহফিলে বক্তারা এ সব কথা বলেন।
এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে ছিল না কোনো সভাপতি। সঞ্চালনায় ছিলেন কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট আবুল কাশেম, রাজনীতিবিদ মোতাহার হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অন্যতম আয়োজক, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার। অতিথি হিসেবে টেলিকনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন-ওয়াশিংটন বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস সেক্রেটারি গোলাম মর্তুজা, অধ্যাপক তাজ হাশমী, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য জিল্লুর রহমান জিল্লু, কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট আলী ইমাম শিকদার, সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের, সপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, শেকিল চৌধুরী, বাংলা পত্রিকা এবং টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার, গ্রে-মেকানিক্যালের প্রেসিডেন্ট তোফায়েল চৌধুরী লিটন, আশা হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট আকাশ রহমান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির আহবায়ক ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিলাল চৌধুরী, গাজীপুর জাতীয়তাবাদী ফোরামের নাঈম আহমেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাসানুজ্জামান হাসান, অধ্যাপক শওকত আলী, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জনি, যুবদল নেতা মনিরুল ইসলাম মনির, বাংলাদেশ সোসাইটির সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, এজে জাহাঙ্গীর হোসাইন, নাসিম আহমেদ, বিএনপি নেতা এবাদ চৌধুরী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান, ষেয়দা মাহফুজা শিরিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন, ডা. জাহিদ দেওয়ান শামীম, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাকসুদুল হক চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী, আব্দুর সবুর, আব্দুল কুদ্দুস, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুরুজ্জামান।
গোলাম মর্তুজা বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে আমার আসার কথা ছিল কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে আসতে পারিনি, সেজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া রাজনৈতিক নেতার পরিচয় ছাপিয়ে ঊর্ধ্বে উঠে গিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন।
মঈনুদ্দীন নাসের খালেদা জিয়াকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন এবং বলেন, তিনটি ক্রান্তিকাল থেকে বাংলাদেশকে উদ্ধার করেছিল এই জিয়া পরিবার।
তাজ হাশমী বলেন, তিনি ছিলেন সৎ ও আপসহীন রাজনীতিবিদ। এমন রাজনীতিদ বাংলাদেশ আর আসেনি।
আব্দুল লতিফ সম্রাট বলেন, খালেদা জিয়াই প্রবাসে সোনালী এক্সচেঞ্জ চালু করেছিলেন, ঢাকা-নিউইয়র্ক-ঢাকা রুটে বিমান চালু করেছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের কথা চিন্তা করেই।
জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, খালেদা জিয়া ভালোবাসতে হলে বিএনপি করতে হয় না, দেশপ্রেমিক হলেই হয়। তিনি আরো বলেন, ২০০৫ সালে খালেদা জিয়া যখন নিউইয়র্ক আসেন তখন ড. একে আব্দুল মোমেন তার সঙ্গে দেখা করে বিএনপিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন।
ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, খালেদা জিয়ার মৃৃত্যুর মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের প্রতীক।
তোফায়েল চৌধুরী লিটন বাংলাদেশে যখন ছাত্রদল করতাম তখন থেকেই তার সঙ্গে আমার পরিচয়। প্রায়ই তার সঙ্গে দেখা হতো। এই প্রবাসেও আমি ৮ দিন আমার গাড়িতে করে তাকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়েগিয়েছি। কার প্রতিচ্ছবিই আমি বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মাঝে দেখতে পাই।
ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার অনুষ্ঠানকে সফল এবং স্বার্থক করার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনীতির প্রতি বাঁক ছিল দেশ, মাটি এবং মানুষের জন্য। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন খালেদা জিয়াও বেঁচে থাকবেন।
আকাশ রহমান বলেন, খালেদা জিয়া সারা জীবন রাজনীতি করেছেন মানুষের জন্য। তিনি ছিলেন আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক।
বিলাল চৌধুরী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, আমাদের সবার উচিত খালেদা জিয়ার আদর্শকে লালন করা। খালেদা জিয়ার আদর্শকে লালন করলেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র বিপন্ন হবে না। তিনি আরো বলেন, এই দেশের মানুষের জন্য তিনি তার জীবনও উৎসর্গ করেছেন।