ওকলাহোমায় প্রস্তাবিত মসজিদ প্রকল্প ঘিরে তদন্তে স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 14-01-2026

ওকলাহোমায় প্রস্তাবিত মসজিদ প্রকল্প ঘিরে তদন্তে স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা স্টেটের ব্রোকেন অ্যারো শহরে ইসলামিক সোসাইটি অব তুলসার একটি প্রস্তাবিত মসজিদ ও বাণিজ্যিক প্রকল্প ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই তদন্ত শুরু করেছেন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল জেন্টনার ড্রামন্ড। গুরুত্বপূর্ণ এক জনশুনানি ও সিটি কাউন্সিলের ভোটের আগে গত ৮ জানুয়ারি তিনি জানান, প্রকল্পটির উদ্যোক্তা, মালিকানা কাঠামো ও অর্থায়ন নিয়ে জনমনে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ ওঠায় তার দফতর বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। ড্রামন্ডের ভাষায়, অলিভ অ্যাভিনিউয়ে ক্রিক টার্নপাইকের ঠিক দক্ষিণে প্রস্তাবিত এই উন্নয়ন প্রকল্পটি ওকলাহোমা আইন এবং প্রযোজ্য ফেডারেল আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা হবে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্থানীয় ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যেন আইনসম্মত, স্বচ্ছ এবং অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইনের পূর্ণ অনুসরণে নেওয়া হয়-এ বিষয়ে ওকলাহোমাবাসীর আস্থা থাকা জরুরি। তাই প্রস্তাবিত উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো আইনি মানদণ্ড পূরণ করছে কি না, তা পরীক্ষা করবে তার দফতর।

তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকল্পটির অর্থায়নের উৎসও খতিয়ে দেখা হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, যে জমিতে মসজিদ ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে, তার মালিকানা রয়েছে নর্থ আমেরিকান ইসলামিক ট্রাস্ট (নাইট)-এর হাতে। এই সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৩০০টিরও বেশি মসজিদ ও ধর্মীয় কেন্দ্রের দলিল নিয়ন্ত্রণ করে। ড্রামন্ড দাবি করেন, নাইটের সঙ্গে কট্টরপন্থী মুসলিম ব্রাদারহুড-এর যোগসূত্র রয়েছে-এমন অভিযোগ অতীতেও উঠেছে। ২০০৮ সালে হলি ল্যান্ড ফাউন্ডেশন মামলায় নাইটকে ‘অভিযোগবিহীন সহ-ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই মামলায় পাঁচজন আসামিকে হামাসে ১ কোটি ২৪ লাখ ডলার অনুদান পাঠানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৫ সালেই হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে।

পরবর্তীতে নাইট নিজেদের নাম পরিষ্কার করতে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। পরে প্রকাশিত আদালতের একটি গোপন রায়ে বলা হয়, সহ-ষড়যন্ত্রকারীদের নাম প্রকাশের প্রক্রিয়ায় নাইটের আইনি অধিকার লঙ্ঘিত হয়ে থাকতে পারে। তবে বিচারক সংগঠনটিকে ওই তালিকা থেকে বাদ দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং উল্লেখ করেন, প্রসিকিউশন পক্ষ নাইটকে তালিকাভুক্ত করার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করেছিল। এই প্রেক্ষাপটে ড্রামন্ড বলেন, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের বাস্তবতায় জননিরাপত্তা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা যায় না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ওকলাহোমায় এর আগেও এক কট্টর ইসলামপন্থী গণহত্যার ষড়যন্ত্রে দণ্ডিত হয়েছে এবং ৯/১১ হামলার কয়েকজন ছিনতাইকারী ওকলাহোমার একটি ফ্লাইট স্কুলে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। তার মতে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটির সঙ্গে যদি মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্ভাব্য যোগসূত্র থাকে, তবে সতর্কতার সঙ্গে এগোনোই যুক্তিযুক্ত।

প্রস্তাবিত ১৫ একর জমিটি ২০১৪ সালে ইসলামিক সোসাইটি অব তুলসা (আইএসটি) ৬ লাখ ২৫ হাজার ডলারে কিনলেও কয়েক মাসের মধ্যেই এর দলিল হস্তান্তর করা হয় নাইটের কাছে। তবে ইসলামিক সোসাইটি অব তুলসা এক বিবৃতিতে জানায়, জমি কেনা বা প্রকল্পের পরিকল্পনার জন্য কোনো বিদেশি অর্থায়ন চাওয়া হয়নি বা পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, বৃহত্তর তুলসা এলাকার বাসিন্দাদের দানের অর্থ থেকেই ২০১৪ সালে জমিটি কেনা হয়। প্রকল্পটির স্থপতি রিক ব্রাউনসহ আইএসটির নেতারা জানান, তুলসা শহরের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত বর্তমান মসজিদে বিশেষ করে শুক্রবারের নামাজ ও রমজান মাসে তীব্র ভিড় হয়। সেই অতিরিক্ত চাপ সামলাতেই নতুন কেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি ব্রোকেন অ্যারো প্ল্যানিং কমিশনের এক বৈঠকে প্রস্তাবিত মসজিদ প্রকল্প নিয়ে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আবেগঘন জনমত শোনা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে কমিশন জমিটির জোনিং কৃষি থেকে পরিবর্তন এবং শর্তসাপেক্ষ ব্যবহার (কন্ডিশনাল ইউজ) অনুমোদনের পক্ষে ভোট দেয়। এখন বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ব্রোকেন অ্যারো সিটি কাউন্সিলের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্ল্যানিং কমিশনের বৈঠকে অংশ নেওয়া অনেকেই সাংস্কৃতিক কারণ দেখিয়ে প্রকল্পটির বিরোধিতা করেন। তবে কেউ কেউ ইসলামিক সোসাইটি অব তুলসার পক্ষে অবস্থান নেন এবং বলেন, বর্তমান মসজিদটি প্রয়োজনের তুলনায় ছোট হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে কিছু বাসিন্দা জমিটির ভৌত সীমাবদ্ধতা, প্রবেশাধিকার, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য যানজট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আইএসটি আরো জানায়, ব্রোকেন অ্যারো এলাকায় বসবাস ও কাজ করা ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনগোষ্ঠীর সেবাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কেন্দ্রের নকশা ও পরিসর শহরের পেশাদার কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সমন্বয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এবং সব আইন, জোনিং ও নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড পূরণ করেই প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংগঠনটি বলেছে, তারা শহর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করে এই অত্যাবশ্যক কমিউনিটি সেন্টার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেলের তদন্ত ঘোষণার পর সমালোচনামুখর হয়েছে আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিল (কেয়ার)-এর ওকলাহোমা শাখা। সংগঠনটি অভিযোগ করে, কোনো অনিয়মের প্রমাণ ছাড়াই একটি মসজিদ প্রকল্পকে উইচ হান্টের আওতায় আনা ওকলাহোমার মুসলমানদের জন্য বৈষম্যমূলক বার্তা দিচ্ছে। কেয়ারের মতে, এটি রাজনৈতিক ফায়দার জন্য মুসলিমবিরোধী ভয় ছড়ানোর বৃহত্তর প্রবণতার অংশ। তারা সতর্ক করে জানায়, আইন লঙ্ঘন করে যদি এই উপাসনালয়ে হস্তক্ষেপ করা হয়, তবে বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)