ফ্লোরিডার নর্থ ফোর্ট মায়ার্সের ইউটিউবে মুসলিমদের লক্ষ্য করে পুনরায় পুনরায় হুমকিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে ৫৫ বয়সী ফ্রেড চেনোল্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর লি কাউন্টি শেরিফ অফিস এবং এফবিআই যৌথ তদন্ত শুরু করে। কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, তাদের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে গত ২ জানুয়ারি এফবিআই জানায় যে ইউটিউবে কিছু অনলাইন মন্তব্যে মুসলিম ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংস হুমকির উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীরা এ পোস্টগুলোর উৎস শনাক্ত করে ৫৫ বছর বয়সী ফ্রেড চেনোল্টকে, যিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে এই মন্তব্যগুলো করছেন বলে জানানো হয়েছে। তদন্ত অনুযায়ী, হুমকিগুলোতে মুসলিমদের ওপর সহিংসতা চালানোর আহ্বান, হত্যার এবং গুলি চালানোর উল্লেখ ছিল। শেরিফের অফিস একটি সার্চ ওয়ারেন্ট হাতে নিয়ে ৯ জানুয়ারি ইউএস রুট ৪১, পন্ডেলা রোড সংলগ্ন চেনোল্টের মোবাইল হোমে অভিযান চালায়।
পুলিশ ও এফবিআই জানিয়েছেন, ব্যাপক তদন্তের পরও কোনো নির্দিষ্ট হামলার পরিকল্পনা বা তাৎক্ষণিক হুমকি পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তারা হুমকিগুলিকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেছেন। স্ট্যান্ডার্ড থ্রেট অ্যাসেসমেন্টের অংশ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, চেনোল্টের কাছে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই এবং তার ব্যবহার বা অ্যাক্সেসও নেই। ঘটনাটি নর্থ ফোর্ট মায়ার্সের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এলাকার বাসিন্দা টাইলার পামার বলেন, আমি ভাবিনি এটা এতো খারাপ হবে। তবে এটি শুনে আমার মনোবল পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, মন্তব্যগুলো অত্যন্ত দুরাচারপূর্ণ এবং ক্ষতিকর মনে হয়েছে। আমি কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে বিশ্বাসী নই। লি কাউন্টি শেরিফ কারমিনে মার্কেনো বলেন, প্রতিটি মানুষ তার পছন্দের ধর্ম পালন করার অধিকার রাখে, ভয়ে নয়।
লি কাউন্টি এনএএসিপির সভাপতি এবং মুসলিম জেমস মুওয়াক্কিল মন্তব্যগুলো নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে এই ভয়ঙ্কর মন্তব্য করা ব্যক্তিকে আইন অনুসারে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। তিনি আরো বলেন, এই হুমকিগুলো ইসলামের মূলনীতির পরিপন্থী। ইসলাম সহিংসতা শেখায় না। আমরা ঝামেলা চাই না, তবে আমাদের সচেতন থাকা প্রয়োজন। গ্রেফতারের পর তদন্তকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে চেনোল্ট তার মন্তব্যগুলোর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। শেষে শেরিফের অফিস স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছে যে, সন্দেহজনক কার্যক্রম বা সম্ভাব্য হুমকি দেখা দিলে তা রিপোর্ট করা জরুরি এবং স্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনের সঙ্গে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।