যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস স্টেটের অস্টিন শহরে মুসলিম ধর্মীয় নেতা ইমাম ইসলাম মোসাদ্দ নিহত হওয়ার ঘটনায় মার্কেল টার্নারের বিরুদ্ধে দুই ধারায় ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ট্রাভিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস ১২ জানুয়ারি এক ঘোষণায় জানায়, ৩৪ বছর বয়সী মার্কেল টার্নারের বিরুদ্ধে ম্যানস্লটার বা অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড এবং চুরি এই দুই অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২৭ জুলাই ২০২৫। ইমাম ইসলাম মোসাদ্দ নর্থ লামার বুলেভার্ডের পাশে হাঁটার সময় একটি গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন। স্থানটি নর্থ অস্টিন মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার থেকে আনুমানিক এক মাইল দূরে অবস্থিত। অস্টিন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এপিডি) জানায়, দুর্ঘটনার সময় ইমাম মোসাদ্দ সড়কের এক পাশে হাঁটছিলেন এবং ওই এলাকায় পথচারীদের জন্য কোনো নির্ধারিত ক্রসওয়াক নেই।
আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রথমে একটি ১৬ বছর বয়সী চালকের গাড়ি আরেকটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। পরবর্তীতে সেই গাড়িগুলোর একটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘুরে গিয়ে ইমাম মোসাদ্দকে আঘাত করে। দ্বিতীয় গাড়িটির চালক হিসেবে মার্কেল টার্নারকে শনাক্ত করা হয়। এই ঘটনায় কিশোর চালকের বিরুদ্ধে ডেডলি উইপন হিসেবে গাড়ি ব্যবহার করে গুরুতর হামলার অভিযোগ আনা হয়। অপরদিকে, মার্কেল টার্নারের বিরুদ্ধে শুরুতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ ছিল, যা এখন গ্র্যান্ড জুরির মাধ্যমে আরো গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে রূপ নিয়েছে।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি হোসে গারজা এক বিবৃতিতে বলেন, মোসাদ্দ পরিবারের প্রতি আমাদের হৃদয় এখনো শোকাহত। এই মামলায় ট্রাভিস কাউন্টির স্বাধীন কমিউনিটি সদস্যদের একটি গ্র্যান্ড জুরি উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে টার্নারের আচরণ আইনবিরোধী ছিল।
ইমাম মোসাদ্দের মৃত্যুর পর টেক্সাস কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের প্রতিনিধি শাইমা জাইয়ান জানান, ওই এলাকায় ক্রসওয়াক না থাকা দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় মসজিদের জন্য উদ্বেগের কারণ ছিল। তিনি আরো বলেন বলেন, পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহর কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের শুরুতেই ফুটপাত ও সড়ক উন্নয়নকাজ শুরু করেছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা।
ইমাম ইসলাম মোসাদ্দ ছিলেন নর্থ অস্টিন মুসলিম কমিউনিটির একজন পরিচিত ও সম্মানিত ধর্মীয় নেতা। তার মৃত্যু শুধু একটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়, বরং পথচারী নিরাপত্তা, অবহেলাজনিত চালনা এবং নগর অবকাঠামোর ঘাটতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই মামলায় স্বচ্ছ বিচার ও দোষীদের যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে রয়েছে।