নিউইয়র্কের তিন প্রধান হাসপাতালে ১৫ হাজার নার্স কর্মবিরতিতে


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 14-01-2026

নিউইয়র্কের তিন প্রধান হাসপাতালে ১৫ হাজার নার্স কর্মবিরতিতে

নিউইয়র্ক সিটিতে উচ্চ বেতন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও ন্যূনতম স্টাফিং নিশ্চিত করার দাবিতে প্রায় ১৫ হাজার নার্স একযোগে কাজে যোগ না দিয়ে ধর্মঘটে নেমেছেন। ১২ জানুয়ারি ভোর থেকে সিটির তিনটি প্রধান হাসপাতাল নেটওয়ার্ক : নিউইয়র্ক প্রেসবিটারিয়ান, মাউন্ট সিনাই ও মন্টেফিওরে মেডিকেল সেন্টারের নার্সরা এই কর্মবিরতিতে অংশ নেন। দীর্ঘ আলোচনার পরও শ্রমিক সংগঠন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো না যাওয়ায় ধর্মঘট অনিবার্য হয়ে ওঠে। ধর্মঘটরত নার্সদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ওয়াশিংটন হাইটসে নিউইয়র্ক-প্রেসবিটারিয়ান কলম্বিয়া হাসপাতালের সামনে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন। সেখানে নার্সরা স্লোগান দেন যে, আমরা কী চাই? ন্যায্য চুক্তি! আমরা কখন চাই? এখনই! মেয়র মামদানি বলেন, সব পক্ষকে অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে হবে। সৎ মনোভাব নিয়ে দরকষাকষি করতে হবে এবং এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, যাতে এই শহরের নার্সরা এই শহরেই সম্মানজনকভাবে বসবাস করতে পারেন।

মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের এক মুখপাত্র দাবি করেন, নার্সদের অতিরিক্ত অর্থনৈতিক দাবি'র কারণেই আলোচনা ভেস্তে গেছে। অন্যদিকে ধর্মঘটের প্রভাব মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট বেসরকারি অলাভজনক হাসপাতালগুলো এক হাজারেরও বেশি অস্থায়ী নার্স নিয়োগ দিয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ।

নিউইয়র্ক-প্রেসবিটারিয়ানে গত এক দশক ধরে কর্মরত নার্স মিক্কো ডি কাস্ত্রো বলেন, আমরা ধনী হতে চাই না। আমরা শুধু চাই আমাদের ন্যূনতম নিরাপত্তা ও যত্ন নিশ্চিত করা হোক, কারণ আমরাই প্রতিদিন অসুস্থ রোগীদের দেখভাল করি। তার প্রধান উদ্বেগ হাসপাতালের বিপজ্জনক স্টাফিং সংকট। তিনি জানান, প্রতিদিন রিকভারি রুমে ১০০ থেকে ১৩০ জন রোগী আসছে, অথচ পর্যাপ্ত নার্স না থাকায় অনেক সময় ‘রেড স্টাফিং’ বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ করতে হচ্ছে। এ স্টাফিং সংকটের কারণে নার্সদের টানা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিরতি ছাড়া কাজ করতে হচ্ছে, যা কর্মীদের পাশাপাশি রোগীদের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। ডি কাস্ত্রো বলেন, আমরা প্রতিদিনই চরম চাপের মধ্যে কাজ করছি। নার্সদের আরেকটি বড় দাবি হলো কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা। ন্যাশনাল নার্সেস ইউনাইটেড-এর ২০২৪ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮১ শতাংশ নার্স কর্মস্থলে সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

এই ধর্মঘটের প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল শুক্রবার আগাম ব্যবস্থা হিসেবে একটি নির্বাহী আদেশে সম্ভাব্য দুর্যোগ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এর আগে ডিসেম্বরে নিউইয়র্ক স্টেট নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন বিপুল ভোটে সিদ্ধান্ত নেয়, দাবি পূরণ না হলে তারা ধর্মঘটে যাবে।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসও ধর্মঘটরত নার্সদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, যদি হাসপাতালগুলোর কাছে ধর্মঘট ভাঙতে অস্থায়ী নার্স নিয়োগের অর্থ থাকে, তাহলে নার্সদের ন্যায্য দাবি পূরণের জন্যও তাদের পর্যাপ্ত সম্পদ রয়েছে। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিরাপদ স্টাফিং নিয়ে পূর্ব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ করে সৎ মনোভাব নিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান। ধর্মঘট চলমান থাকায় নিউইয়র্কের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নার্স সংগঠনগুলো বলছে, এই আন্দোলন কেবল বেতন নয়-রোগীর নিরাপত্তা, নার্সদের মর্যাদা এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)