ইহুদি সংগঠনের সঙ্গে সমঝোতায় নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 21-01-2026

ইহুদি সংগঠনের সঙ্গে সমঝোতায় নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস গত ১৩ জানুয়ারি ভয়, সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রো-প্যালেস্টিনিয়ান বিক্ষোভকারীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন বন্ধ করতে এক ডানপন্থী ইহুদি সংগঠনের সঙ্গে সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছেন। সংগঠনটির নাম বেতার ইউএস, যাদের বিরুদ্ধে প্রো-প্যালেস্টিনিয়ান আন্দোলনকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগ আদালতে আনা হয়েছিল। সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আর করবে না বলে, এই মর্মে অঙ্গীকার করার শর্তে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বেতার ইউএসকে আনা অভিযোগ থেকে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দেন। সমঝোতার আওতায় বেতার ইউএসকে মুসলিম, ইহুদি ও প্যালেস্টিনিয়ান অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকি বা ভীতিকর কার্যক্রম বন্ধ করবে । অন্যথায় প্রতিটি ঘটনার জন্য তাদের ৫০ হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হবে।

বেতার ইউএস গত বছর আলোচনায় আসে, যখন তারা দাবি করে যে গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নাম সংগ্রহ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি আরো দাবি করেছিল, মুখোশধারী আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করতে তারা ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যার ব্যবহার করেছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, নিউইয়র্ক এমন কোনো সংগঠনকে সহ্য করবে না, যারা ভয়, সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করতে চায় বা মানুষের পরিচয়ের কারণে তাদের নিশানা করে। তার দফতরের নথিতে উল্লেখ করা হয়, এক ঘটনায় বেতার সদস্যরা নিউইয়র্কের একটি ক্যাম্পাসে প্রো-প্যালেস্টিনিয়ান বিক্ষোভকারীদের ‘বিপার’ নিতে বলেন। এটি লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিস্ফোরিত পেজার হামলার প্রতি ইঙ্গিত ছিল।

তবে বেতার ইউএস-এর চেয়ারম্যান রন টোরোসিয়ান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার সংগঠন কোনো বেআইনি কাজ বা ভীতি প্রদর্শনে জড়িত নয়। তিনি দাবি করেন, রাস্তায় এমন মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে যারা ইহুদিদের হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে কেউ যদি ইবে থেকে কেনা একটি বিপার দেয়, তাতে অপরাধ কী? তিনি আরো জানান, সমঝোতা নথিতে তারা কোনো দোষ স্বীকার করেননি।

জেমসের দফতর বেতার ইউএস-এর বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট ও বেআইনি হয়রানির একটি উদ্বেগজনক ধারা থাকার কথা উল্লেখ করেছে। দফতর জানায়, সংগঠনটি নিউইয়র্কে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। টোরোসিয়ান বলেন, নিউইয়র্কে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানটি আর সক্রিয় নয় এবং তাদের উত্তরসূরি সংগঠন অন্য স্টেটে অবস্থিত।

বেতার নিজেদের শতাব্দীপ্রাচীন একটি কট্টর জায়নবাদী সংগঠনের অংশ হিসেবে পরিচয় দেয়, যার শিকড় পূর্ব ইউরোপে এবং বর্তমানে ইসরায়েলকেন্দ্রিক। নিউইয়র্কে নিবন্ধিত শাখাটি মূলত মহানগর এলাকায় সক্রিয় ছিল এবং নিয়মিতভাবে প্রো-প্যালেস্টিনিয়ান বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়াত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্র ভাষা ব্যবহার করতো। এই সংগঠনের কার্যক্রম নতুন করে গুরুত্ব পায়, যখন গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তারা কয়েকজন ক্যাম্পাস আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করেন। পরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক কর্মকর্তা কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেন যে, সরকার বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্যবস্তু করতে ক্যানারি মিশন ও বেতারের তৈরি করা তালিকা ব্যবহার করেছিল।

নিউইয়র্কের আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিল-এর নির্বাহী পরিচালক আফাফ নাশের এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ করায় যেসব নিউইয়র্কবাসী ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাদের সুরক্ষায় এটি একটি ঐতিহাসিক ও ইতিবাচক পদক্ষেপ।’ তিনি ফেডারেল সরকারকে বেতারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করার আহ্বান জানান।

এই সমঝোতার মাধ্যমে নিউইয়র্কে প্রো-প্যালেস্টিনিয়ান আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে প্রথমবারের মতো একটি কট্টরপন্থী সংগঠনের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)