অন্তর্বর্তী সরকারের শুভ বিদায় হবে কি?


খন্দকার সালেক , আপডেট করা হয়েছে : 04-02-2026

অন্তর্বর্তী সরকারের শুভ বিদায় হবে কি?

অতি নাটকীয় কিছু না ঘটলে অচিরেই বিদায় নিতে চলেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নাগাদ দায়িত্ব গ্রহণ করবে নতুন সরকার।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় বেলা ঘনিয়ে আসায় সরকারের অধিকাংশ উপদেষ্টা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন। একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে মেটিকুলাস ডিজাইনে অপসারণ করে বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন লক্ষ্যে ১৮ মাস পার করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেশকে অগোছালো রেখে বিদায় নিচ্ছে সরকার। দুর্নীতি, অপশাসন, আমলাতান্ত্রিক দৌরাত্ম্য বিন্দুমাত্র কমেনি। সরকারের কাজে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা উন্নত হয়নি। চাদাবাজি, দখলদারিত্ব ভিন্ন মাত্রায় চলছে। যোগ হয়েছে মব সন্ত্রাস ও মামলা বাণিজ্য। অন্তর্বর্তী সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের চরম অপমান করেছে। স্বাধীনতার অনেক স্মারক ধ্বংস করেছে। আওয়ামী লীগ আর ভারত বিরোধিতার নামে দেশে গৃহযুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। সরকার না পেরেছে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষভাবে জুলাই আগস্ট ঘটনাবলির বিচার কাজ সম্পাদন করতে, না করেছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ কোন ক্ষেত্রে সংস্কার করতে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কিছুটা সংস্কার হলেও সরকার পাচার হওয়া কোনো অর্থ ফেরত আনতে পারেনি, বরং অভিযোগ আছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ নতুন করে পাচার হয়েছে।

সেনাবাহিনী পুরোটা সময় বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় থাকলেও কেন মব সন্ত্রাস সামাল দেওয়া গেল না তার জবাব একদিন কাউকে না কাউকে দিতেই হবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দুর্নীতি, অর্থপাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে বিস্তর অভিযোগ থাকলেও কেন ১৮ মাস সময়েও কোনো সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভাবে কারো বিচার হলো না? কেন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলো না? আইসিটি কিছু লোক দেখানো ফরমায়েশি বিচার কাজ অস্বচ্ছভাবে সম্পাদন করা ছাড়া কিছুই হলো না।

সরকার বিগত সরকারের আমলে অর্জিত উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়া বিষয় নিয়ে নানা কথা বলেছে। নিজেরা কি অর্থনীতিতে কোনো দৃশ্যমান উন্নতি অর্জন করেছে? কেন সমাপ্তির শেষ প্রান্তে থাকা রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র চালু হলো না? কেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এখনো চালু হলো না? কেন এলিভেটেড এক্সপ্রেস সড়ক, মেট্রো রেলের প্রথম পর্যায় এখনো শেষ হলো না?

জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকট এক বছরে আরো ঘনীভূত হয়েছে। ভোলার গ্যাস গ্রিডে সঞ্চালন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। স্থলভাবে গ্যাস অনুসন্ধানের অবস্থা তথৈবচ। সাগরে গ্যাস অনুসন্ধান স্থবির হয়ে আছে। জ্বালানি রূপান্তরের জন্য নবায়ণযোগ্য জ্বালানি বিষয়েও অগ্রগতি সীমিত। জ্বালানি বিদ্যুৎ সরবরাহ সঙ্কটে ইতিমধ্যেই অনেক শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বিনিয়োগ প্রায় শূন্যের কোঠায়। নতুন সরকারকে সূচনায় গভীর জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

সরকার প্রধান মেটিকুলাস ডিজাইনের আওতায় ছাত্র যুবকদের ক্ষমতার স্বাদ দিয়ে বিতর্কিত করলেন। তরুণদের সৃজনশীল কাজে ব্যবহার না করে রাজনৈতিক দল গঠনে উৎসাহিত করে বিপদে ফেলে দিলেন। জুলাই সনদ প্রণয়নের নামে কিছু দ্বৈত নাগরিকদের ব্যবহার করে জুলাই সনদ প্রণয়নে সময় অর্থ অপচয় করলেন। এখন যদি গণভোটে না জয়ী হয় কি পরিণতি হবে ইউনুস সরকারের?

নির্বাচন হচ্ছে যে নির্বাচনে দেশের মূল ধারার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল এবং মিত্রদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ২৫-৩০ শতাংশ ভোটার তাদের পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ভোট প্রদানে বঞ্চিত থাকবে। তার পরেও বিএনপি জোট এবং জামাতে ইসলামী জোটের মধ্যে ভোটযুদ্ধে মাঠপর্যায়ে সংঘর্ষ সংঘাত চলছে। সরকারের কিছু অতি উৎসাহী এবং অবিবেচক কাজের জন্য প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে শীতল সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ভঙ্গুর পুলিশ, বহুধা বিভক্ত প্রশাসন নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণ করতে পারবে শঙ্কা আছে। মোট কথা আমি ড. ইউনূস সরকারের খুব সুখকর বিদায় দেখতে পারছি না। আরো নিশ্চিত নই অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু বিতর্কিত উপদেষ্টাদের ভবিষ্যৎ বিষয়ে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)