নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে একের পর এক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে তেমন ফুটে না উঠলেও খোদ বিএনপি নেতৃত্বাধীন শ্রমিক সংগঠন ও স্কপের এই আন্দোলন বেশ ইঙ্গিতবহ। কারো কারো মতে, এই আন্দোলন অন্যদিকেও টার্ন নিতে পারে। বদলে দিতে পারে পুরো রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ।
গত কয়েকদিনে শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর বলা চলে অচল। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন বন্দরে অপারেশনাল কার্যক্রমের পাশাপাশি কোনো ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম হচ্ছে না। গণমাধ্যমের খবরে দেখা গেছে, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, ডেলিভারি ও খালাস হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদ দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শেষে ২ ফেব্রুয়ারি সোমবারও সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সরকার এনসিটির চুক্তি প্রক্রিয়া থেকে সরে না এলে বন্দর ঘিরে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিদিনই ক্ষতি
এদিকে বন্দর সূত্রে থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে বলে একটি গণমাধ্যমে বলা হয় যে, কর্মবিরতি শুরুর আগের দিন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী কনটেইনার খালাস হয়েছে চার হাজার ৯৯টি। কিন্তু ৩১ জানুয়ারির কর্মবিরতি শুরুর প্রথম দিন এটি কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৫০টি। কর্মবিরতির পরের দুই দিন এটি আরও কমে এক হাজার ৬৮৪ ও এক হাজার ২৩০টি তে দাঁড়িয়েছে। এই হিসাবে গত তিন দিনে পণ্যভর্তি কনটেইনার হয়েছে এক হাজার ৫৫৪টি। অন্য সময়ে প্রতিদিন পাঁচ হাজার কনটেইনার খালাস হয়ে থাকে। এদিকে এর প্রভাব এক জায়গায় নেই। পড়েছে কাস্টম হাউস ও রাজস্ব। কেননা রাজস্বও কমেছে। বলা হচ্ছে প্রতিদিন গড়ে ১৭০ কোটি টাকা আদায় করা প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। জানা গেছে এককভাবে দেশের সবচেয়ে বড় রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। চট্টগ্রাম বন্দরে আসা পণ্য শুল্কায়ন করে এই প্রতিষ্ঠানটি। টানা কর্মবিরতির কারণে খালাস কার্যক্রম কমে গেছে বন্দরে। আর এর প্রভার পড়েছে কাস্টম হাউসে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে গত তিন দিনে রাজস্ব কমেছে ১৫০ কোটি টাকারও বেশি। আরও জানা গেছে এই কর্মবিরতির কারণে ২১টি বেসরকারি ডিপোতে রপ্তানি কনটেইনার জমেছে আট হাজার ৯০০টি।
নেওয়া হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা কিন্তু
এদিকে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শ্রমিক নেতাদের বদলি অব্যাহত রেখেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এটা করা হচ্ছে একধরণের শাস্তিমূলক বা ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির জন্য, যা আন্দোলনকারী বলে যাচ্ছেন। ৩১ জানুয়ারি শনিবার ৪ কর্মকর্তা-কর্মচারিকে বদলির পর ১ ফেব্রুয়ারি রোববার আরও ১২ কর্মকর্তাকে পায়রা বন্দর ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলির আদেশ জারি করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। গণমাধ্যমের খবর দেখা গেলো এর আগে প্রথম দিনে চার কর্মকর্তাকে বদলির আদেশ দিয়ে তাদের রোববার যোগ দেওয়ার আদেশ দেয়। কিন্তু তারা বদলিকৃত স্থানে যোগ দেননি। বিভিন্ন জেটি ও ইয়ার্ডে কনটেইনার হ্যান্ডলিং থেকে শুরুকরে ডেলিভারি কিছুই হয়নি। বন্দরের সবকটি জেটি ও ইয়ার্ড ছিল ফাঁকা। কর্মচঞ্চল বন্দর দ্বিতীয় দিনের মতো ছিল স্থবির। রোববার বদলি করা কর্মচারির মধ্যে রয়েছেন-বন্দরের উচ্চ বহিঃসহকারী মোহাম্মদ শফিউদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, স্টেনো টাইপিস্ট জহিরুল ইসলাম, এসএস পেইন্টার হুমায়ুন কবির, উচ্চমান সহকারী শাকিল রায়হান, ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিঝি ও প্রকৌশল বিভাগের মেসন মোহাম্মদ শামসু মিয়া। তাদের পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইডিসিতে বদলি করা হয়। বন্দরের চিফ পার্সোনেল অফিসার স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল কাজে চবকের উল্লেখিত কর্মচারীদের বদলি করা হয়েছে।
গণমাধ্যমের খবরে আরও দেখা যোয় যে, এর আগে শনিবারও চার কর্মচারিকে পানগাঁও আইসিডিতে বদলি করা হয়েছিল। এ নিয়ে দুদিনে ১৬ জনকে বদলি করা হলো। চট্টগ্রাম বন্দরের যে চারজন কর্মচারী তথা শ্রমিক নেতাকে শনিবার পানগাঁও টার্মিনালে বদলি করা হয়েছিল তারা হলেন-অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী হুমায়ুন কবির, নৌ বিভাগের ইঞ্জিন ড্রাইভার (১ম শ্রেণি) ইব্রাহিম খোকন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের উচ্চ হিসাব সহকারী (ব্যয় মূলধন শাখা) আনোয়ারুল আজিম, প্রকৌশল বিভাগের এসএস খালাসী (চবক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সংযুক্ত) ফরিদুর রহমান। অন্যদিকে রোববার সকাল ৮টা থেকে বন্দর জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য উঠানো-নামানোর কাজে যোগ দেননি বন্দরের কর্মচারি ও বেসরকারি শ্রমিকরা। ফলে জিসিবি টার্মিনাল, সিসিটি ও এনসিটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও বন্দরের মেরিন বিভাগের কর্মচারি ইব্রাহিম খোকন গণমাধ্যমে জানিয়েছেন বন্দরে সফলভাবে কর্মবিরতি পালন করেছেন শ্রমিক-কর্মচারিরা। সোমবারও কর্মবিরতি পালন হবে।
এদিকে বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল, ডিপি ওয়ার্ল্ড নামক বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক-কর্মচারিদের কর্মবিরতী এবং চট্টগ্রাম স্কপ ঘোষিত বন্দর অভিমুখী কালো পতাকা মিছিলের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন ও সংহতি জানিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের জন্য ৩১ জানুয়ারি এক বিবৃতি প্রদান করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ। বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বাসদের নেতাকর্মী এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারি এবং চট্টগ্রাম স্কপের কর্মসূচি সফল করতে সক্রিয় সমর্থন প্রদান ও অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে জনস্বার্থ উপেক্ষা করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা চুক্তি প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা। শনিবার ৩১ জানুয়ারি ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবত্তী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভুঁইয়া, গণমুক্তি ইউনিয়ন আহ্বায়ক নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ নাসু, বাংলাদেশের সোস্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মুকুল গণমাধ্যমে এক বিবৃতি প্রদান করেন।
নতুন নতুন চুক্তি রহস্য ও শেষ কথা
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক টার্মিনাল এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ড তথা বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে না এলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে শ্রমিক নেতারা জোরালোভাবে বলে আসছেন। মঙ্গলবারও উত্তাল ছিল বন্দর পরিস্থিতি। সামনে আন্দোলন আরও কঠিন হবে অনেকের আশঙ্কা। কেননা তারা মনে করেন আন্দোলনকারী নেতাদের বদলি করে এবং বন্দর এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে সরকার তথা প্রশাসন দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে সর্বশেষ খবরে দেখা গেছে, অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শেষ না হতেই নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। বুধবার সকাল ৮টায় শেষ হবে পূর্বঘোষিত ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি। এরপর শুরু হবে এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি।
বন্দর কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সভা-মিছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী দ্রুত বিচার আইন ২০০২, ‘সরকারি কর্মচারি (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯’ ও ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারি চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৯১’সহ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী সুস্পষ্ট পেশাগত অসদাচরণ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের কর্মকান্ডে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে একটি বড় রাজনৈতিক দলের শ্রমিক সংগঠনের পাশাপাশি সর্বস্তরের শ্রমিকদের নিয়ে গঠন করা স্কপের আন্দোলন এভাবে ভয়ভীতি দমন পীড়ন করে কর্তৃপক্ষ কতটা সফল হবে সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এর পাশাপাশি সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র এক সপ্তাহের মত। শিডিউল অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। কিন্তু ওই সংসদের তোয়াক্কা না করে অন্তর্বর্তী সরকার তড়িঘড়ি করে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তির সব প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে, যা রহস্যজনক। সরকারের এমন তৎপরতাকে ‘রহস্যজনক’ এবং ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ কর্মকান্ড বলে অনেকে মনে করেন। তারা চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী এবং এখানে কর্মরত শ্রমিকদের আন্দোলন কোন দিকে যায় তা নিয়েও চিন্তিত। তাদেরও প্রশ্ন চট্টগ্রাম বন্দরের স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সর্বোচ্চ রাজস্ব আহরণকারী নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক অপারেটর কোম্পানির ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে? তাদের মতে ‘বন্দরে বিদেশি বিনিয়োগ এলে সেটা সুখের খবর। কিন্তু যখন কোনো কিছু নিয়ে তড়িঘড়ি করা হয় তখন তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগ সরকার এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। আবার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও সেই একই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে। চুক্তির শর্ত নিয়ে যদি লুকোচুরি করা হয়, সেটা যদি জাতির সামনে পরিষ্কার করা না হয়-তাহলে এ নিয়ে সন্দেহ থাকবেই বলে অনেকে মনে করেন। তাই অভিজ্ঞদের মতে, সরকারের উচিত চুক্তির শর্তগুলো কী, এতে দেশের স্বার্থহানি হবে কিনা-তা পরিষ্কার করা।
নতুন চুক্তি রহস্য কি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের মাত্র দিন তিনেক আগে অন্তবর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি খবর নিয়ে সারা দেশে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এ চুক্তি সই হওয়ার কথা। সরকারের বিদায়বেলায় চুক্তিটি করা নিয়ে সব মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এর কারণ, চুক্তির খসড়ায় কী আছে, তা কেউ জানে না বা জানানোই হচ্ছে না। চুক্তির সবকিছু গোপন রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগেই নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট বা এনডিএ সই করে ফেলেছে বাংলাদেশ, যা রহস্যজনক। একিই বিষয় বন্দর নিয়ে বন্দরের বেলায়ও ঘটেছে। যেহেতু কদিন পরই জাতীয় নির্বাচন-তাই স্পর্শকাতর এই চুক্তির বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। কিন্তু তা না করা হলে বন্দর নিয়ে সামনের দিনে দাবানল পরিস্থিতি আসলে কোন দিকে যায় যায় কেবল সময়ই বলে দেবে। ঘুরিয়ে দিতে পারে রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ। এমনই আশংকার আভাস মেলে অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদেও বক্তব্যে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতার দায়ে’ অভিযুক্ত করেছেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। তাঁর অভিযোগ, যে চুক্তিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজ ৩০, ৪০, ৫০ বা ৬০ বছরের জন্য বাঁধা পড়ে যাবে, সে ধরনের চুক্তি করার কোনো অধিকার বা এখতিয়ার একটা অন্তর্বর্তী সরকারের না থাকলেও বর্তমান সরকার জোরজবরদস্তি ও তড়িঘড়ি করে তা করতে যাচ্ছে।