বিএনপির ইশতেহার, মুক্তিযুদ্ধ-জুলাই চেতনায় দেশ গড়াসহ যুগোপযগী সহ নানা প্রতিশ্রুতি


বিশেষ প্রতিনিধি , আপডেট করা হয়েছে : 07-02-2026

বিএনপির ইশতেহার, মুক্তিযুদ্ধ-জুলাই চেতনায় দেশ গড়াসহ যুগোপযগী সহ নানা প্রতিশ্রুতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়, ‘‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে। ৭৫ সালে সিপাহী জনতার বিপ্লব ও ১৯৯০ সালে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছিল। রক্তার্জিত সেই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং বিপ্লব ও অভ্যুত্থানে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত সেই গণতন্ত্র আবারও রক্ষার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে।’’


‘‘তাই বিএনপি দেশ গড়তে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে প্রাধান্য দেবে।’’



শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে তিনি রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।



‘করবো কাজ গড়বো দেশ’ এই প্রতিপাদ্য ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—রাষ্ট্র পরিচালনার এই মূলনীতিকে ইশতেহারে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।


এতে দেশ গঠনের পরিকল্পনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের চেতনায় দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


তারেক রহমান জানান, এবারের ইশতেহারটি তৈরি করা হয়েছে বিএনপির ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’, জিয়াউর রহমানের ‘১৯ দফা’, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সমন্বয়ে।


এর বাইরে ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও পররাষ্ট্র নীতি, প্রতিরক্ষা খাত, পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার ও বিগত দিনে শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির তদন্তকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।




ইশতেহারে থাকা প্রধান প্রধান প্রতিশ্রুতি


প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়।


কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ফার্মার্স কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষিবিমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।


দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।


তরুণদের উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণসহ মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।


 


কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা ও ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।


ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।


ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।


পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ১০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন, ৫ বছরে ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।


ইশতেহারে পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখা তুলে ধরেন তারেক রহমান। এতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির অঙ্গীকার করা হয়, যেখানে সব আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততায় জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের সীমান্তের বাইরে রয়েছে ‘বন্ধু, প্রভু নয়’। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের কল্যাণ—এই বিষয়গুলোই পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে।




ইশতেহারে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের বার্ধক্যকালীন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ‘জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড’ গঠন করা হবে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করার জোরালো অঙ্গীকার করেছে দলটি। এছাড়াও বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ) পুনঃনিরীক্ষণ করা হবে এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা দিতে একটি ‘বিশেষ সেল’ গঠন করা হবে। এ ছাড়া সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অবসান ঘটিয়ে সুষম বণ্টন নীতি অনুসরণ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন ও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রফতানি সম্প্রসারণ করা হবে।


এছাড়াও নির্বাচিত হতে পারলে ন্যায়পাল গঠন, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ, সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের পুনঃসংযোজন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের চেতনায় দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। 


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)