বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টরে অসহায়ত্বের পরও কিঞ্চিৎ স্বস্তির আশ্বাস


বিশেষ প্রতিনিধি , আপডেট করা হয়েছে : 11-02-2026

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টরে অসহায়ত্বের পরও কিঞ্চিৎ স্বস্তির আশ্বাস

আওয়ামী সরকারের আমলে দুর্নীতির সবচেয়ে বড় খাত বিদ্যুৎ জ্বালানি সেক্টর। লোডশেডিংয়ে অতীষ্ঠ হয়েছিল মানুষ কিছু কিছু সময়। আওয়ামী সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গত দেড় বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে মেয়াদের অন্তিমলগ্নে এসে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছেন, মেয়াদের স্বল্পতার কারণে অনেক বিনিয়োগ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যায়নি। অনেক সংস্কার উদ্যোগ ও সফলতাও দেখানো যায়নি। 

গত রোববার বিদ্যুৎ ভবনে জ্বালানি বিভাগের পাঁচটি অ্যাপ উদ্বোধন ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি সংক্রান্ত মাস্টার প্লান নিয়ে পর্যালোচনা করেন জ্বালানি উপদেষ্টা। পরে বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিদায়ী বক্তব্য দেন তিনি। 

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘দুই বছরে বিদ্যুৎ জ্বালানির কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় না। এ খাতে বিনিয়োগ দরকার ছিল, যেটা আমরা পাইনি সরকারের স্বল্পমেয়াদের কারণে। সৌদি আরবের রাজপরিবারের একজন সদস্য বিনিয়োগসংক্রান্ত আলোচনায় আমাদের সরকারের মেয়াদ জানতে চাইল। সরকারের মেয়াদটা আরেকটু দীর্ঘ হলে বিনিয়োগটা আসতো। আরেকটা এফএসআরইউ দরকার ছিল। কিন্তু সরকার স্বল্পমেয়াদি হওয়ার কারণে সেটা হয়নি।’

নিজেদের সম্পদের হিসাব প্রসঙ্গে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘সম্পদের হিসাব দিয়ে রেখেছি। আমার কোনো অভিলাষ নেই। আমার সম্পদ একটু বাড়তে পারে। কারণ আমার একটা গাড়ি ছিল সেটা বিক্রি করে দিয়েছি। এখন দায়িত্ব ছাড়লে আরেকটা গাড়ি কিনতে হবে। তখন সম্পদ আবার কমবে।’

 বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দুর্নীতিতে যুক্ত কারো শাস্তি হয়েছিল কি না-এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন অনিয়ম চিহ্নিত করে দিয়েছি। এখন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ। আমরা একটা জাতীয় কমিটি এবং একটা ট্যারিফ কমিটি করে বেশ কিছু সুপারিশ প্রস্তুত করেছি। পরবর্তী যে সরকার আসবে তারা এগুলো দেখবে।’

বিদেশি কোম্পানিগুলোর বকেয়া আগে পরিশোধ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক বিদেশি কোম্পানি বকেয়া না দিলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। এসব কারণে তাদের বকেয়া আগে দিতে হয়েছে।’ বিগত সরকারের সময় দেওয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব প্রকল্পের কোনোটারই ক্যাবিনেট কমিটির অনুমোদন নেওয়া হয়নি। অর্থ বিভাগ বলছে, এসব প্রকল্পের কোনো অনুমোদনই দেওয়া হয়নি।’ 

আদানির বিদ্যুৎ প্রসঙ্গে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘আদানির বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিয়ে সরকার তার নিজের ইচ্ছার বাস্তবায়ন করছে এমন কিছু আমরা দেখাতে চাইনি। সেজন্য আমরা একটি পর্যালোচনা কমিটি করেছি। আন্তর্জাতিক চুক্তি ইচ্ছা মতো বাতিল করা যায় না।’ 

রোজার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি দাবি করছি না যে সামনে একদম লোডশেডিং হবে না। তবে আগামীতে যে সরকারই আসুক না কেন, একদম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়বে না বলে আমি দাবি করছি। এলপি গ্যাসের সমস্যাটি বুঝতে সরকারের কিছুটা সময় লেগে গেছে। এখন যেভাবে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে কোনো সংকট হবে না বলে মনে করি।’

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিমসহ দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন। 


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)