যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জোরদার অভিবাসন অভিযান : স্টেট, সিটি ও কমিউনিটি সংগঠনগুলোও করণীয়


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 11-02-2026

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জোরদার অভিবাসন অভিযান : স্টেট, সিটি ও কমিউনিটি সংগঠনগুলোও করণীয়

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী অভিবাসন অভিযান নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহর এ অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পের পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার এক বছরের মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, নিউ অরলিন্স, পোর্টল্যান্ড, শার্লট এবং মেইনের লিউইস্টনসহ একাধিক শহরে বিপুল সংখ্যক অভিবাসন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে মোতায়েন করা হয়েছে।

এ অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট স্টেট ও স্থানীয় সরকারগুলো বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একাধিক নীতিগত ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ফেডারেল অভিবাসন অভিযান উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে এবং কমিউনিটির নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে। এসব উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, ওরেগন ও মিনেসোটা স্টেট ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে, যাতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন ও নির্বিচারে বেসামরিক অভিবাসন প্রয়োগ সীমিত করা যায়।

একই সঙ্গে কিছু রাজ্য আদালত, স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মতো সংবেদনশীল স্থানে বেসামরিক অভিবাসন অভিযান নিষিদ্ধ করেছে। ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয় এ সংক্রান্ত আইন পাস করেছে আর শিকাগো, মিনিয়াপোলিস ও সান হোসে শহর ফেডারেল এজেন্টদের নির্দিষ্ট সিটি সম্পত্তি ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন স্থানে অভিযান সীমিত করতে অনেক শহরে বিনামূল্যে সাইনেজ সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে এলাকাগুলোকে নন-পাবলিক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

গত বছর বিভিন্ন অভিবাসন অভিযানে ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বর্ণগত প্রোফাইলিং ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইলিনয় স্টেট ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইলিনয় বিবেন্স অ্যাক্ট প্রণয়ন করে, যার মাধ্যমে বেসামরিক অভিবাসন প্রয়োগে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেওয়ানি মামলা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া, মেইন ও ম্যাসাচুসেটসেও অনুরূপ আইনি কাঠামো কার্যকর রয়েছে।

ফেডারেল অভিযানে সম্ভাব্য অনিয়ম নথিভুক্ত করতে বিভিন্ন স্টেট ও সিটি তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার শিকাগো এলাকায় নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে একটি বিশেষ কমিশন গঠন করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর অনলাইনে একটি পোর্টাল চালু করেছে, যেখানে সাধারণ মানুষ ফেডারেল এজেন্টদের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য জমা দিতে পারছেন। নিউ অরলিন্স সিটি কাউন্সিলও নাগরিকদের ভিডিও প্রমাণ জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে জনগণের কাছে নির্ভুল ও সময়োপযোগী তথ্য পৌঁছে দিতে স্টেট ও স্থানীয় প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সিয়াটল সম্ভাব্য ফেডারেল মোতায়েনের প্রস্তুতিতে একটি রেজিলিয়েন্স টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে পুলিশ বিভাগ, মেয়রের অভিবাসন বিষয়ক দফতর এবং কমিউনিটি সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইলিনয়, ওরেগন, শিকাগো ও পোর্টল্যান্ডে অনলাইনে নিজের অধিকার জানুন তথ্যভাণ্ডার চালু করা হয়েছে, যাতে অভিবাসী ও সাধারণ বাসিন্দারা আইনি সহায়তা ও জরুরি তথ্য সহজে পেতে পারেন।

এদিকে স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠনগুলোও অভিবাসী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। মিউচুয়াল এইড কর্মসূচি, দ্রুত সাড়া দেওয়ার হটলাইন এবং প্রতিবেশী পর্যায়ের নজরদারি কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা সহায়তা প্রদান করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের আরো অনেক শহর ভবিষ্যতে একই ধরনের অভিযানের মুখোমুখি হতে পারে, ফলে আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)