প্রবাসে মাদার সংগঠন হিসাবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটির বিশেষ সাধারণ সভা গত ১৫ ফেব্রুয়ারি উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর পরিচালনায় বিশেষ সাধারণ সভায় মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, সংবিধান সংশোধনী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন খান, বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সংবিধান সংশোধনী কমিটির সদস্য তাজুল ইসলাম, সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ, এসএমএ রহমান সেলিম, রিজু মোহাম্মদ।
সাধারণ সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। তিনি তার বক্তব্যে সবাইকে ধন্যবাদ জানান বিশেষ সাধারণ সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য। তিনি বলেন, এ সাধারণ সভা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আজকে সভায় আমাদের সংবিধান সংশোধন করা হবে। এজন্য কমিটি করা হয়েছে। তারা তাদের সংশোধনী উপস্থাপন করবেন। তিনি বলেন, সংগঠনের স্বার্থেই আমরা সংশোধনীগুলো এনেছি। আশা করি, আপনারা সংশোধনীগুলোতে মতামত প্রদান করবেন। তবে আজকের সভায় যা পাশ হবে তা আগামী কমিটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। আমাদের কমিটি ২ বছরের জন্যই থাকবে।
ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি আপনাদের বলেছিলাম আমরা সোসাইটির জন্য ভবন ক্রয় করতে যাচ্ছি। যে ভবনের জন্য আমরা চুক্তি করতে যাচ্ছিলাম। আমাদের আইনজীবীর মাধ্যমে দেখতে পাই সেই ভবনে ভায়োলেশন রয়েছে, যা আমাদের জন্য সুখকর নয়। আমরা ওই ভবন ক্রয় প্রক্রিয়ায় না গিয়ে আমাদের অর্থ ফেরত এনেছি। এখন আমরা অন্য ভবন দেখছি।
সংবিধান সংশোধনী কমিটির চেয়ারম্যান বক্তব্য রাখার পূর্বেই বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা তপন জামান প্রশ্ন তোলেন কোরাম পূর্ণ নিয়ে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান সদস্য অনুযায়ী ১৯১ জন সদস্য প্রয়োজন, কিন্তু উপস্থিত রয়েছে ১৪৪ সদস্য। কিন্তু সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম সে ক্ষেত্রে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এটা বিশেষ সাধারণ সভা, আগের সাধারণ সভার এক্সটেনশন। এখানে কোরামের কোনো বিষয় নেই। এ বক্তব্যের পর আর কেউ প্রতিবাদ করেননি, তবে বর্তমান কমিটির সমর্থক কিছু সদস্য না বুঝেই হাততালি দিতে থাকেন। যারা হাততালি দিয়ে সভাপতিকে সমর্থন জানিয়েছেন তারা কোনদিন সোসাইটির গঠনতন্ত্র পড়েছেন বলে মনে হলো না, কিন্তু সাবেক কর্মকর্তা অনেকেই উপস্থিত ছিলেন, তারা মুখে কুলপ লাগিয়ে বসেছিলেন।
মোহাম্মদ হোসেন খান তার বক্তব্যে ধন্যবাদ জানান সংবিধান সংশোধনী কমিটির সদস্যদের। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশ সোসাইটির ৬ষ্ঠ সংবিধান সংশোধনী। আমরা মোট ৪৩ ক্লজে সংশোধনী করেছি। যার মধ্যে ২৪টি মত উপস্থাপন করছি। এক এক করে তিনি সংশোধনী উপস্থাপন করেন। অধিকাংশ সংশোধনীর সঙ্গে সবাই একমত থাকলেও কার্যকরি কমিটির মেয়ার তিন বছরের বিপক্ষে ছিলেন অনেকে। কিন্তু কৌশলী অবস্থানে পাস করা হলো সব সংশোধনী। ভুয়া ব্যাখ্যায় পাস হয়ে গেল সংবিধান সংশোধনী। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- কার্যকরি কমিটির মেয়াদ ২ বছরের পরিবর্তে ৩ বছর। তিন বছরের জন্য চাঁদা ধার্য করা হয়েছে ৩০ ডলার। কার্যকরি পরিষদের ১৯ পদের স্থলে করা হয়েছে ২১ পদ। নতুন পদের মধ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও ইয়ুথ এবং আইটি বিষয়ক সম্পাদক। আরো একটি বিতর্কিত সংশোধনী করা হয়েছে। বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকান্ড নিয়ে কেউ মামলা করতে পারবে না। তবে এই সংশোধনী যেকেউ অধিকার হরণ উল্লেখ করে মামলা করতে পারে। যিনি কোর্টে মামলা করবেন তাকেই খর বহন করতে হবে। তবে নির্বাচন নিয়ে মামলা করতে পারবে।