বরাবরের মত এবারেও নিত্যপণ্যের বাজারে লেগেছে আগুন। দেশের সকল এলাকায় পেঁয়াজ, মরিচ, লেবু, বেগুনসহ সকল ধরনের সবজি, ফল, মাছ, মাংস সব পণ্যের এবং ইফতারি সামগ্রী মূল্য বেড়েছে। নতুন সরকার মাত্র ক্ষমতায় এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদায় নেয়ার আগে সব ধরনের পণ্যের যথেষ্ট মজুদ এবং সরবরাহ থাকার বিষয়ে জনগণকে আস্বস্থ করলেও মজুদদারি এবং অধিক মুনাফা লাভের কারণে মূল্যবৃদ্ধি বলে মনে করেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। অনেকের ধারণা পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও সাপ্লাই চেনে নানা সংকট থাকায় এবং অশুভ বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাজার অস্থির হয়েছে। নতুন সরকার বাজার তদারকি ব্যবস্থা দ্রুত গুছিয়ে নিয়ে পণ্য বাজারে স্বস্তি আনবে বলে দেশবাসী মনে করে। রোজার মাসে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা নতুন সরকারের জন্য অগ্নিপরীক্ষা।
দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে উৎসব আর পার্বনের সময় বাজারে বিভিন্ন পণ্যের উপর ব্যাবসায়ীরা বিশেষ ছাড় দিয়ে থাকেন। প্রতিবেদক নিজে আফগানিস্তান, বিভিন্ন আরব দেশ, দক্ষিণ এশিয়া, পশ্চিম ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন দেশে মূল্য ছাড় দেখেছে। দুর্ভাগ্য বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশিদের। মূল্যবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশিদের অজুহাতের অভাব হয় না। দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজি, ফলমূলের বাম্পার উৎপাদন এবং আমদানি প্রক্রিয়া সাবিক থাকলেও সাপ্লাই চেনের বিভিন্ন সেগমেন্টে চাঁদাবাজি এবং বাজার তদারকিতে দুর্বলতার কারণে মূল্য বৃদ্ধি ঘটে। নতুন সরকার জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে আসলেও বিরুদ্ধ মত কিন্তু সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য সক্রিয় আছে। আমি নতুন সরকারকে অনুরোধ করবো সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিত করে পণ্য সরবরাহ আর বাজার ব্যবস্থা তদারকি করার। এই রমজানে বাজারে স্বস্তি এবং জ্বালানি বিদ্যুৎ সরবরাহ যতটা সম্ভব না রাখতে পারলে সরকার কিন্তু দ্রুত আস্থা হারাবে।
সবাই জানে বাংলাদেশ এখনো সকল কৃষি পণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। বেশ কিছু পণ্য প্রতিবেশী দেশ এবং অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিশেষ মহলের অশুভ প্রভাবে ভারতের সঙ্গে শীতল সম্পর্ক গড়ে তোলায় ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্যে জটিলতা দেখা দিয়েছিলো। চট্টগ্রম বন্দরের কয়েটি টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে ইজারা দেয়ার তৎপরতার কারণেও বন্দরের কার্যক্রম স্থবির থাকায় পণ্য ছাড় করণে স্থবিরতা ছিল। কেন একটি অনির্বাচিত সরকার বন্দর ইজারা দেয়া প্রাধিকার করেছিল সেটি নিয়ে নানা জনের নানা মত আছে। এগুলো খতিয়ে দেখার দাবি সুধীজনের। বন্দরগুলো পরিচালনায় দক্ষতা বাড়ুক এটি সবাই চায়, কিন্তু বিষয়টি স্বচ্ছভাবে দেশের স্বার্থ সুনিশ্চিত করে সম্পদায়িত করা হোক সেটি সবাই চায়। বন্দরগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে বাজারে পণ্য পরিস্থিতির উপর এর প্রভাব থাকবে। এর পর আসে ব্যাবসায়ী মহলের সততা, মজুতদারী এবং অধিক মুনাফা লাভের মাধ্যমে কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি না করা। বিএনপি, আওয়ামী লীগ সহ কোনো সরকার ইতিপূর্বে কিন্তু বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আবার সদ্য বিদায় নেয়া অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাবসায়ী মহলকে ঢালাওভাবে শত্রু বিবেচনা করে ব্যাবসার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে। তারেক জিয়া সরকারের হয়তো যথেষ্ট হোমওয়ার্ক আছে। তবে অনেকেই মনে করেন কৃষি, বাণিজ্য, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে অভিজ্ঞ দক্ষ রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বকে দায়িত্ব দেয়া অধিকতর ফলপ্রসূ হতো। যাহোক নতুন সরকারকে ১০০ দিন সময় দেয়ার আগে পর্যালোচনা করা বিবেচনা প্রসূত হবে না।
শুনছি বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহ আপাতত স্বাভাবিক আছে। গ্যাসের সংকট স্বল্প সময়ে সমাধান করা যাবে না। তবে গ্যাস বিদ্যুৎ ব্যাবহারে সংযমী হয় এবং অপচয় রোধ করা এখন প্রাধিকার হতে হবে। সরকারকে নিজেদের জ্বালানি সম্পদ আহরণ এবং উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।