নিউইয়র্কের অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩০ থেকে প্রার্থী সাবেক এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা শামসুল হক


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 25-02-2026

নিউইয়র্কের অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩০ থেকে প্রার্থী সাবেক এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা শামসুল হক

কম্যুনিটির প্রিয় মুখ নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট-এর সাবেক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশনের সহ প্রতিষ্ঠাতা শামসুল হক এবার নিউইয়র্কের অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩০ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন। নির্বাচিত হলে তিনি হবেন প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে নিউ ইয়র্ক স্টেটের আইনসভায় দায়িত্ব পালন করবেন। দীর্ঘ ২১ বছর নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট-এ কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে দশ বছর ছিলেন অভ্যন্তরীণ তদন্ত বিভাগে। গত বছর অবসর নেওয়ার পর তিনি রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নেন। মূলত তিনি অনুপ্রাণিত হন নিউইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানির রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে। পরে মামদানি মেয়র হিসেবে জয়ের পর কমিউনিটি সেফটি ট্রানজিশন কমিটিতেও কাজ করেন তিনি।

এবার তিনি অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩০ এ প্রার্থী হিসেবে নাম লিখিয়েছেন যেখানে উডসাইড, এলমহার্স্ট এবং ম্যাসপেথ এলাকা অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান অ্যাসেম্বলি সদস্য স্টিভেন রাগা এবার সিনেটের দৌড়ে নামায় আসনটি খালি হচ্ছে। হক নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন,ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধি, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় সংস্কার এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন-মুক্ত শিক্ষার পক্ষে তিনি। তার বক্তব্য, আমি মমদানির কর্মসূচির শক্তিশালী সমর্থক হতে চাই এবং আলবানিতে সেই এজেন্ডা বাস্তবায়নে অংশীদার হতে চাই।

অনেকের মতে এটি সেই রাজনৈতিক ধারা যেখানে অর্থনৈতিক সমতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রার্থী দাঁড়াচ্ছেন যেমনটি সমর্থন করে আসছে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা। যদিও হক সংগঠনের সদস্য নন তিনি ধনীদের ওপর অধিক কর আরোপ বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ার এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে টিউশনমুক্ত শিক্ষার মতো প্রস্তাব সমর্থন করেন। নির্বাচনে হক জিতলে তিনিই হবেন প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান আইনপ্রণেতা। ডিস্ট্রিক্ট ৩০এ প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি আমেরিকান ভোটার রয়েছেন যাদের মধ্যে তিন হাজারের বেশি নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট।

হকের জীবন কাহিনি অনেকের কাছে আমেরিকান ড্রিমের উদাহরণ। প্রায় ৩৫ বছর আগে মাত্র ২০০ ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তিনি ইংরেজি খুব কম জানতেন। দোকানের কর্মী বাসবয় ডেলিভারি কর্মী বিভিন্ন কাজ করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। পরে জিইডি তারপর লা-গার্ডিয়া কমিউনিটি কলেজ থেকে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি এবং বারুচ কলেজথেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর তিনি দেশপ্রেম ও সেবার অংশ হিসেবে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টএ যোগ দেন। সেখানে টহল কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা হিসেবে কাজের পর অভ্যন্তরীণ তদন্তে যুক্ত ছিলেন যেখানে পুলিশি অসদাচরণ ও শক্তি প্রয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতেন।

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় তার অবস্থান কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ। তিনি পুলিশ ব্যবস্থার গুরুত্ব স্বীকার করেন তবে অতিরিক্ত কারাবন্দিত্বের সমালোচনা করেন এবং সীমিত সংস্কারের পক্ষে। সাম্প্রতিক জেবেজ চাকরাবর্তী নামের এক বাংলাদেশি আমেরিকান তরুণ পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার ঘটনায় হক বলেন অফিসাররা নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করলেও ব্যবহার শক্তি নীতিতে সংস্কার দরকার।

নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বীও রয়েছে নেপালি আমেরিকান কমিউনিটি নেতা সোমনাথ ঘিমিরে ডেমোক্র‍্যাটিক প্রাইমারিতে প্রার্থী হয়েছেন। পাশাপাশি রিপাবলিকান প্রার্থী ব্র‍্যান্ডন কাস্ত্রোও দৌড়ে আছেন যিনি আগেও পরাজিত হয়েছিলেন। বর্তমান আসনটি খালি হচ্ছে কারণ স্টিভেন রাগা এবার সিনেটের দৌড়ে নামছেন। এই নির্বাচন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রশ্ন নয় নিউইয়র্কের রাজনীতিতে বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরও পরীক্ষা। হক বলছেন নিউইয়র্ক আমাকে সুযোগ দিয়েছে এবার আমি সেই শহরের জন্য কিছু করতে চাই।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)