বাণিজ্যচুক্তিতে গ্রিন সিগন্যালের নেপথ্যে কে?


সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ , আপডেট করা হয়েছে : 11-03-2026

বাণিজ্যচুক্তিতে গ্রিন সিগন্যালের নেপথ্যে কে?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি চুক্তি করার ব্যাপারে প্রকৃত অর্থে গ্রিণ সিগন্যাল দিয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে জোর আলোচনা। এধরনের আলাপ আলোচনার মধ্যে কারো কারো একেবারে চুপ করে থাকাও রহস্যজনক ঠেকছে। কেউ কেউ বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের কাধে বন্দুক রেখে নিরবতা পালন করছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (আর্ট) বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি হয়ে গেছে। এটা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের একেবারে শেষ সময়ে। গণমাধ্যমের খবরে দেখা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর হলে দেশটি থেকে সাড়ে চার হাজার শ্রেণির পণ্য আমদানিতে শুল্ক (কাস্টমস শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক) শূণ্যে নামিয়ে আনতে হবে বাংলাদেশকে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই এই সুবিধা কার্যকর হবে। ধাপে ধাপে বাকি ২ হাজার ২১০ শ্রেণির পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে। আমদানিতে শুল্কছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে মূল্য সংযোজন কর বা মূসক বা ভ্যাট, অগ্রিম কর ও অগ্রিম আয়করে ছাড় দেওয়া হয়নি। কর পরিশোধ করতে হবে আমদানি পর্যায়ে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়া পণ্যে যে রাজস্ব আদায় হয়, তার ৩৮ শতাংশ আমদানি শুল্ক থেকে এবং ৬২ শতাংশ আসে বিভিন্ন কর থেকে। অপরদিকে চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮ শ্রেণির পণ্য রপ্তানিতে ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্ক দিতে হবে না। এসব পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ সুবিধা পাবে। তবে দেশটির স্বাভাবিক আমদানি শুল্ক (এমএফএন) বহাল থাকবে।

এমন চুক্তির লাভ ক্ষতি

২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এবং এর পর থেকে এনিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে এই চুক্তির মাধ্যমে তৈরি পোশাক খাতে শুল্ক বৃদ্ধি (মোট ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত) এবং পারস্পরিক বাণিজ্য সুবিধার বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। একারণে অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো মেনে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অবশ্য সেসময়ে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণার পর, এই চুক্তির লাভ-ক্ষতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ফলে চুক্তির শর্তগুলো পুনর্মূল্যায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি দেখে হতভম্ব, স্তম্ভিত বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। চুক্তির পরপর খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তিটি চরমভাবে বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেন । তিনি বলেন, ‘চুক্তির শর্ত দেখে আমরা হতভম্ব, স্তম্ভিত। সরকারের উচিত এই চুক্তি থেকে সরে আসা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তিকে অসম ও অনৈতিক বলে মন্তব্য করেছেন নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি এই চুক্তি পর্যালোচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের চুক্তিকে অনৈতিক আখ্যা দিয়ে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘চুক্তিতে বলা আছে, যুক্তরাষ্ট্র কোথাও নিষেধাজ্ঞা দিলে, তা আমাদের মানতে হবে। এখন তারা আর ইসরায়েল মিলে মধ্যপ্রাচ্যে অত্যাচার চালাচ্ছে। আবার তারা যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে উঠিয়ে নিয়ে এসেছে, সেটাও কি আমাদের মানতে হবে।’ তাঁর মন্তব্য, এটা অনৈতিক। মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক বাতিল হওয়ায় এখন সবার ওপর সমান ১৫ শতাংশ শুল্ক। তাঁর প্রশ্ন, তাহলে এখানে আমাদের বাড়তি সুবিধা কোথায়। কেবল দেশটি থেকে সুতা আমদানি করলে সুবিধা আছে; কিন্তু এই সুবিধার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় শর্ত মানব কেন। তাই নতুন সরকারের চুক্তি পর্যালোচনা করা উচিত।’

রাজনৈতিক দলগুলি কি বলছে

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হওয়া বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি বলে দাবি করেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন তিনি। পোস্টে জামায়াতের আমির লেখেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকার কয়েকটি চুক্তি সম্পাদন করেছে; কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ধরনের কোনো চুক্তি নিয়ে সরকার আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।’ শফিকুর রহমান লেখেন, ‘আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছিলাম যে সংসদ না থাকার কারণে সরকার বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছে, ঠিক সেভাবেই আন্তর্জাতিক চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলোতেও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।’

এনসিপি নিশ্চুপ

এদিকে আধ্যিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের ইমেজে গড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (আর্ট) বা পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি চুক্তি নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য করছেন না। তবে বাণিজ্য চুক্তিটি নিয়ে বড়ো দুই রাজনৈতিক দলের সাথে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের বৈঠক হলেও এনসিপির কারো সাথে হয়নি। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টায় মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এনসিপি নেতৃবৃন্দের যে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করা হয়। 

থলের বেড়াল বেড়িয়ে গেলো

এদিকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বিএনপি-জামায়াত নেতারা যখন চুক্তির ব্যপারে মাসুম বাচ্চার মতো কথা বলে যাচ্ছিলেন তখন আসল কথা বলে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন যে, দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা হয়নি। নির্বাচনের আগে দেশের মানুষকে অন্ধকারে রেখে চুক্তি করা হয়েছে-এমন ধারণা পুরোপুরি ভুল। দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী থেকে ‘সম্মতি’ আসার পরই চুক্তি হয়েছে। ৪ মার্চ বুধবার ঢাকায় মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আসল সত্য কোনটি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (আর্ট) বা পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি চুক্তির ব্যাপারে আসলে কারা বেশি উৎসাহী ছিলেন তা নিয়ে নানান ধরনের কথা বাজারে প্রচলিত আছে। কারো কারো মতে, এই চুক্তির ব্যপারে বিএনপি চেয়ে জামায়াত যে একটু উচ্ছ্বসিত ছিল তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জামায়াত নেতাদের কট্টর মন্তব্য উল্লেখ্য যোগ্য। জানুয়ারিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার এবং অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ব্রুস সোয়ার বৈঠক করেছিলেন। পরে ভার্চুয়ালি পৃথকভাবে এই বৈঠক হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত আমির বলেন, আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় যেতে পারলে দেশটির সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন অব্যহত রাখবে। জামায়াতের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব বলা হয়েছিল। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, পারস্পরিক শুল্কহার এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানানো হয়। গত বছরের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্য আমদানিতে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। যা দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তিতে কমে ২০ শতাংশ হয়েছে। শুল্কহার সংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (ডিএফসি) তহবিলে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকারে সমর্থনের জন্য রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারকে ধন্যবাদও জানান শফিকুর রহমান। এখানে প্রশ্ন এসে যায় যে জামায়াত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়ে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে কোনো পক্ষ থেকে নিশ্চিত ছিল বলেই ওই ধরণের আশ্বাস তারা দিয়ে দেয়। 

অন্যদিকে বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (আর্ট) বা পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি ব্যাপাারে ওই সময়ে সরাসরি কিছু বরেনি। তবে ওই সময়ে অর্থ্যাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের শেষের দিকে বিএনপির সেসময়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের বন্দর কিংবা এলডিসি থেকে উত্তরণের মতো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নেই বলে মনে করে স্ট্যাাটাস দেন, যা অনেকের দৃষ্টি কেড়েছিল। তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘একটি দেশ যেই সরকারকে নির্বাচিত করেনি, সেই সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না। ওই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ-পরিচালনা এবং ঢাকার পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনার ভার বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এক ফেসবুক পোস্টে এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে। দুটি টার্মিনাল নিয়ে চুক্তির পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এব্যপারে তারেক রহমান বলেছিলেন, দেশের জনগণের ওপর এসব সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে। অথচ এমন একটি সরকার এসব কৌশলগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যাদের গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই। এতে বোঝা যায় বিএনপি নির্বাচনের আগে এধরনের চুক্তির ব্যাপারে হয়তবা প্রকাশ্যে সম্মতি দেয়নি বা কৌশলে এড়িয়ে গেছে। 

এখন কি হবে ও রাজনৈতিক দরগুলির সচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (আর্ট) বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি হয়ে গেছে। বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যাকে অনেকে প্রচ্ছন্ন কড়া বার্তা বলেও মনে করেছেন। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি দেখে এমনটাই হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। কেননা ওই চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন এবং প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে সৌজন্যমূলক ভাষায় আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। চিঠিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি আরও আশা করি, আপনি প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন, যা শেষ পর্যন্ত আপনার সামরিক বাহিনীকে আমেরিকার তৈরি অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে।’ আবার দেখা গলো যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্ক স্থগিত করার পর, দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ’টালবাহানা করা’ দেশগুলোর উপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে দেখা গেলো এমন অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা পল কাপুরকেও ঢাকায় পাঠিয়ে দেন, যা ছিল বেশ গুরুত্পূর্ণ। দেখা গেলো বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়; প্রয়োজনে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। অবশ্য কারো কারো মতে, সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে-এমন পরিস্থিতিতে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত এ-ই অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (আর্ট) বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজন কতটা সম্ভব সেব্যপারে এমনিতেই অনেকে সন্দিহান। তবে এর পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বিষয় বেশি উচ্চারিত হচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (আর্ট) বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিটি যদি বেশি ক্ষতিকর হয়েই থাকে তাহলে এটি সম্পাদিত করার দায়বার এখন কার কাঁধে যাবে? সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক মাঠে আরেকটি বিষয়-ও আলোচনায় চলে এসে গেছে। তা হলো পতিত ফ্যাসিবাদি সরকারের আমলে এমন চুক্তি না হওয়ার কারণে কি তারা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে? কারো কারো মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিলে এটা অমূলক ভাবা বেঠিক না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তিটি এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন এমন অনেক প্রশ্নের ক্ষেত্র তেরি করে ফেলেছে যা ক্ষমতাসীনদের জন্য বিব্রতকর বলেই অনেকে মনে করেন? আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (আর্ট) বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জুলাই বিপ্লবের চেতনায় গড়ে উঠা জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের নিরবতাও কি রাজনৈতিক অঙ্গনে রহস্যের সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কেনোইবা বিএনপি-জামায়াতের সাথে চুক্তি নিয়ে বেঠকের পরেও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের নির্ধারিত বৈঠকটি স্থগিত করা হলো? কারো কারো কারো মতে, বড়ো দুই দলকে পেয়ে এনসিপির প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলো কি-না তা-ও সময় বলে দেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (আর্ট) বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির নেপথ্যে যে অনেক কিছু রয়েছে বা ঘটে গেছে সে বিষয়টি অনেকের কাছে ধীরে ধীরে পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)