নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল গত কয়েক সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অন্যান্য গভর্নরের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে বৈঠক করেন এবং ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের আচরণ নিয়ে তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প তখন আশ্বস্ত করেছিলেন যে, হোচুল চাইলে নিউ ইয়র্কে অতিরিক্ত অভিবাসন এজেন্ট পাঠানো হবে না। গত ৬ মার্চ হোচুল হোম্যানের সঙ্গে বৈঠকে পুনরায় নিশ্চিত করেছেন, যে স্টেটে কোনো অতিরিক্ত অভিযান অনুষ্ঠিত হবে না।
গভর্নর ক্যাথি হোচুল গত ৬ মার্চ ট্রাম্প প্রশাসনের বর্ডার জার টম হোম্যানের সঙ্গে আলবানিতে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্প্রতি বাফেলোতে প্রায় অন্ধ বর্মিজ শরণার্থী নুরুল আমিন শাহ আলমের মৃত্যু নিয়ে আলোচনা করা। তিনি মারা যান, যখন নিষ্ঠুর ইমিগ্রেশন এজেন্টরা তাকে ঠান্ডা ও বরফের আবহাওয়ায় বন্ধ একটি কফিশপে নামিয়ে দিয়েছিলেন। গভর্নর হোচুল বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, তিনি স্থানীয় পুলিশকে ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের সঙ্গে কাজ করতে সাময়িকভাবে বাধা দেওয়ার তার নীতি নিয়ে দৃঢ়। তিনি বলেন, আমি খোলা সীমান্তকে সমর্থন করি না। যারা সহিংস অপরাধ করে, তাদের আমাদের স্টেটে রাখার সমর্থন করি না। তবে যারা আইনগতভাবে পথ অনুসরণ করে এসেছেন, তাদের নাগরিকত্ব বা আশ্রয় পেতে সুযোগ দেওয়া উচিত।
গভর্নর হোচুল হোম্যানকে শাহ আলমের পরিবারের সদস্যদের নামের একটি তালিকা দিয়েছেন এবং তাদের প্রত্যেককে ভিসা প্রদানের অনুরোধ করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, বর্মিজ শরণার্থীর পরিবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্টেট আদালতে মামলা করার অধিকার রাখে।
বৈঠকে গভর্নর হোচুলের সঙ্গে ছিলেন ডিরেক্টর অব স্টেট অপারেশনস জ্যাকি ব্রে, যারা আগে নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও এমার্জেন্সি সার্ভিসেসের কমিশনার ছিলেন। কোনো আইনপ্রণেতা ও বাজেট পরিচালক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। হোচুল বৈঠকে হোম্যানকে আভ্যন্তরীণ নীতি, আরো কাজের পারমিট এবং অপরাধমূলক নথিবিহীন অভিবাসীদের জন্য কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে কাজের সুযোগ প্রসঙ্গে বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, নিউ ইয়র্কে নতুন ডিটেনশন সেন্টার স্থাপন বা সম্প্রসারণের তার কোনো সমর্থন নেই। তিনি বলেন, আমরা চাই না নিউ ইয়র্ক স্টেটে কোনো বড় ডিটেনশন সেন্টার বা সম্প্রসারণ হোক, এটি অরেঞ্জ কাউন্টি থেকে সাফলক কাউন্টি, উত্তরাঞ্চল এবং রচেস্টার পর্যন্ত উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
গত কয়েক সপ্তাহ আগে হোচুল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও অন্যান্য গভর্নরের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে বৈঠক করেন এবং ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের আচরণ সম্পর্কে তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প এই সময় জানিয়েছিলেন, হোচুল যদি চায় না, তবে নিউ ইয়র্কে অতিরিক্ত অভিবাসন এজেন্ট পাঠানো হবে না। হোচুল গত শুক্রবার হোম্যানকে পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, নিউ ইয়র্কে কোনো অতিরিক্ত অভিযান হবে না।
হোচুল ও আইনপ্রণেতাদের আলোচনায় স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের মধ্যে সহযোগিতা সীমিত করার আইন প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত। ব্রে বলেন, গভর্নর আমাদের তিনটি নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যার মধ্যে ২৮৭জি চুক্তি বন্ধ করা এবং স্থানীয় জেল ব্যবহারের যেকোনো ফরমাল চুক্তি বন্ধ করা অন্তর্ভুক্ত। হোচুল চায় এ নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী না হয় এবং ২০২৯ সালের জুলাই ১-এ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হওয়ার একটি আইন প্রস্তাব করেছেন, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষের সঙ্গে সম্পর্কিত। আইনপ্রণেতারা হোচুকে এ প্রস্তাবকে আরো দূর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং স্থানীয় সরকার ও আইসের সহযোগিতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।