মুসলিম নারীকে নগ্ন করে তল্লাশির অভিযোগে শেরিফের বিরুদ্ধে মামলা


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 19-03-2026

মুসলিম নারীকে নগ্ন করে তল্লাশির অভিযোগে শেরিফের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেটের বারটো কাউন্টিতে ২১ বছর বয়সী আটলান্টার মুসলিম নারী ইভানা এলিয়টের ওপর হিজাব সরিয়ে নগ্নভাবে তল্লাশি অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি গত ৯ মার্চ ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ফর দ্য নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব জর্জিয়া সিভিল রাইট ডিভিশনে দায়ের করেছেন সিভিল রাইটস আইনজীবী এবং জর্জিয়ার কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস। তারা অভিযোগ করেছেন, বারটো কাউন্টি শেরিফ ক্লার্ক মিলসাপ এবং এক ডিটেনশন অফিসার ইভানা এলিয়টের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করেছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ইভানা এলিয়টকে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল ইন্টারস্টেট ৭৫-এ ট্রাফিক স্টপের সময় গ্রেফতার করা হয়। এরপর তিনি বারটো কাউন্টি জেলে পৌঁছলে, শেরিফের অফিসের কর্মকর্তারা তাকে তার হিজাব তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। হিজাবের নিচের আন্ডারক্যাপ রাখার অনুরোধ করা হলেও, তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, তিনি কোন শারীরিক প্রতিরোধ না করলেও তার আশেপাশের কয়েকজন পুরুষ কর্মকর্তা তাকে ঘিরে ধরে এবং ভয় দেখিয়ে তাকে আন্ডারক্যাপ খুলতে বাধ্য করে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এলিয়টকে পরে একটি জেল সেলে নিয়ে নেকেড সার্চ বা নগ্ন করে অনুসন্ধান করা হয়। এ সময় তার শরীরের স্প্রে ব্যবহারের হুমকিও দেওয়া হয়। তিনি জেল সেলে ৩২ ঘণ্টা আটকিত থাকেন, এবং এ সময় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপের পাশাপাশি পুনরাবৃত্তি ঘটে, এমন প্যানিক অ্যাটাক হয়। তার আইনজীবীরা বলেন, এই সময়ে তিনি গুরুতর শারীরিক আঘাত ও মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হন।

এলিয়টের বুকিং ফটোগ্রাফে, যেখানে তার হিজাব নেই, তা এখনো সরকারি ডাটাবেসে আছে। স্থানীয়, স্টেট এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থাগুলোসহ জর্জিয়ার ওপেন রেকর্ডস অ্যাক্টের আওতায় যে কেউ এই ছবি দেখতে পারে। মামলার দাবি অনুযায়ী, এটি এখনও এলিয়টের প্রথম সংশোধনী অধিকার এবং রেলিগিয়াস ল্যান্ড ইউজ অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনালাইজড পারসন্স অ্যাক্ট-এর অধিকার লঙ্ঘন করছে।

কেয়ার জর্জিয়ার নির্বাহী পরিচালক আফাফ নাশের বলেন, আমাদের আইন স্পষ্টভাবে বলে যে, গ্রেফতারের সময় মানুষের ধর্মীয় অধিকার মুছে যায় না, এবং বুকিংয়ের সময় মানুষ তার ধর্ম ত্যাগ করে না। এই মামলা দায়েরের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, কোনো ব্যক্তিকে এমন বেদনাদায়ক, লজ্জাজনক এবং ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের সম্মুখীন হতে হবে না যেমনটি ইভানা এলিয়টের সঙ্গে ঘটেছে। এলিয়টের হিজাববিহীন ছবি প্রতিদিন সরকারি ডাটাবেসে থাকা মানে তার ধর্মীয় অধিকার প্রতিদিন লঙ্ঘিত হচ্ছে। কো-কাউন্সেল অ্যাটর্নি জেরি ওয়েবার বলেন, আমরা চাই, আমাদের সংবিধান অনুযায়ী ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হোক। কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কো-কাউন্সিল অ্যাটর্নি জেমস স্লেটার বলেন, আমরা বারটো কাউন্টি শেরিফ এবং তার স্টাফদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই মামলার মাধ্যমে আমরা চাই আমাদের ক্লায়েন্টের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের ন্যায্য প্রতিকার হোক এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

মামলায় চারটি মূল দাবি করা হয়েছে, ইভানা এলিয়টের হিজাব উধাও করানো তার ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট এবং রেলিগিয়াস ল্যান্ড ইউজ অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনালাইজড পারসন্স অ্যাক্ট অধিকার লঙ্ঘন করেছে। বারটো কাউন্টি শেরিফের অফিসকে নির্দেশ দেওয়া হোক যেন ভবিষ্যতে মুসলিম নারীদের বুকিং ফটোগ্রাফের সময় হিজাব সরাতে বাধ্য করা না হয়। ডিটেনশন অফিসার এবং স্টাফদের বাধ্য করা হোক যে, মুসলিম নারীরা প্রাইভেসিতে নগ্ন করে অনুসন্ধান চাইলে তা মহিলা কর্মকর্তার মাধ্যমে করা হবে।

ভবিষ্যতে কোনো মুসলিম বন্দীকে তার ধর্মীয় পোশাক খোলা বা ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের সম্মুখীন হতে বাধ্য করা হবে না। মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, এলিয়ট ৩২ ঘণ্টা জেলে থাকার সময় শারীরিক আঘাত ও মানসিক যন্ত্রণার পাশাপাশি পুনরাবৃত্তি ঘটে এমন প্যানিক অ্যাটাকে ভুগেছেন। তার বুকিং ফটোগ্রাফ এখনো সরকারি ডাটাবেসে থাকা মানে প্রতিদিন তার ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে।

বারটো কাউন্টি শেরিফের অফিস এই মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তারা বলেছে, চলমান মামলার প্রসঙ্গে তারা মন্তব্য করতে পারবে না। আইনজীবীরা বলছেন, মুসলিম বন্দিদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্মান করা দরকার। কারাগারে বা জেলে থাকাকালীন সময়ে বন্দিদের ধর্মীয় পোশাক ও অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। বইচিং এবং অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় মুসলিম নারীদের জন্য প্রাইভেসি এবং মহিলা কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।

আইনজীবীরা আশা করছেন, এই মামলা মাধ্যমে তারা শুধুমাত্র এলিয়টের অধিকার রক্ষা করবেন, বরং বারটো কাউন্টি জেলের নীতি পরিবর্তন নিশ্চিত করবেন। তারা চাইছেন ভবিষ্যতে কোনো মুসলিম নারীর ওপর এ ধরনের লাঞ্ছনা আর ঘটবে না। মামলার প্রেক্ষিতে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ও উদ্বিগ্ন। তারা বলেন, কারাগারে এবং গ্রেফতার প্রক্রিয়ায় মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করা না হলে তা মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ভয় এবং অনিশ্চয়তার বার্তা দেয়। এ মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইভানা এলিয়টের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনা মুসলিম নারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার গুরুত্বকে সামনে এনেছে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)