ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বৈষম্যে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস স্টেটে নতুন শিক্ষা ভাউচার কর্মসূচি থেকে ইসলামিক স্কুলগুলোকে বাদ দেওয়ার অভিযোগে তিনটি ইসলামিক স্কুল ও একদল মুসলিম অভিভাবক স্টেটের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ইসলামিক স্কুলগুলোকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা ধর্মীয় বৈষম্যের শামিল।
মামলাটি গত ১১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়। এতে টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন, কম্পট্রোলার কেলি হ্যানকক এবং ভাউচার কর্মসূচির পরিচালক মেরি ক্যাথরিন স্টাউটকে বিবাদী করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ইসলামিক স্কুলগুলোকে টেক্সাস এডুকেশন ফ্রিডম অ্যাকাউন্টস কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমান অধিকারের নীতির লঙ্ঘন।
টেক্সাস স্টেটের আইনসভা ২০২৫ সালে টেক্সাস এডুকেশন ফ্রিডম অ্যাকাউন্টস কর্মসূচি চালু করে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হয়। অভিভাবকদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া ৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ১৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে। তবে অভিযোগ রয়েছে, রাজ্যের স্বীকৃত কোনো বেসরকারি ইসলামিক স্কুলই এ কর্মসূচির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
মামলার অন্যতম বাদী ফারহানা কুরেশি, যার সন্তান হিউস্টন কোরআন একাডেমিতে পড়ে। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ইসলামিক স্কুলগুলোকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত মুসলিম শিক্ষার্থী ও সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে। তার ভাষায়, কোনো অভিভাবকেরই যেন সরকারি শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচির সুবিধা নেওয়া ও নিজের ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুযায়ী সন্তানকে বড় করার মধ্যে বেছে নিতে না হয়। এর আগে গত সপ্তাহেও মেহদি চেরকাউই নামে এক আইনজীবী ও মুসলিম অভিভাবক একই অভিযোগে টেক্সাসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। তার সন্তানদের স্কুলও এই কর্মসূচির বাইরে রয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজ্যের কম্পট্রোলার কেলি হ্যানকক আগে ইসলামিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোকে এ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ফলে ইসলামিক স্কুলগুলোকে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই বাদ দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করে বলেন, রাজ্যের শিক্ষা তহবিল যেন উগ্র ইসলামি মতাদর্শ প্রচারে ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। তবে এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাক্সটন বা কম্পট্রোলার হ্যানককের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাদীপক্ষের দাবি, ইসলামিক স্কুলগুলোকে ভাউচার কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার এবং চতুর্দশ সংশোধনীর সমান সুরক্ষার নীতির লঙ্ঘন। তারা আদালতের কাছে আবেদন করেছেন, আবেদন শেষ হওয়ার সময়সীমার আগেই ইসলামিক স্কুলগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে নির্দেশ দেওয়া হোক।
মামলায় আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে অনেক মুসলিম পরিবার আবেদন পোর্টালে তাদের সন্তানদের প্রকৃত স্কুল নির্বাচনই করতে পারছেন না। ফলে অন্য বেসরকারি স্কুলের নাম দিতে বাধ্য হচ্ছেন বা আবেদনই করছেন না। আবেদন সময়সীমা শেষ হলে যারা নিবন্ধন করবেন না তারা টেক্সাস এডুকেশন ফ্রিডম অ্যাকাউন্টস কর্মসূচির লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগও হারাবেন।