ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের বেলায় একটা বড়ো নাগরিক সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়েছিল। সমস্যাটি আর কিছু না। সে-টি ছিল বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী কিংবা সর্বস্তরের চাঁদাবাজ থেকে দেশকে রেহাই দেবে কি-না? অবারো ঘাটে ঘাটে চাঁদা দেওয়া লাগবে কি-না? নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থীরা কমবেশি এমন প্রশ্ন সবাইকেই হজম করতে হয়েছে। এসব মন্তব্য আর নেতিবাচক প্রচারণার জবাবে বিএনপির সর্ব্বোচ পর্যায়ে পুরো দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছিল। বলা হয়েছিলো তাদের দল ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী কিংবা সর্বস্তরের চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল জয় নিয়ে বিএনপি ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত তা সেই ব্যাবস্থা গ্রহণ দৃশ্যমান হচ্ছে না।
কি বলছেন দায়িত্বশীলরা
পুলিশের নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির রমজান মাসে বলেছেন, চাঁদবাজদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে চাঁদাবাজ যেই হোক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযানের ক্ষেত্রে দলীয় কোনো বিবেচনার সুযোগ নেই।
মব ও সন্ত্রাস প্রসঙ্গে বলেছেন
পুলিশের নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির তার পুলিশ বাহিনী যে অতীতের মতো দলবাজি কররেব না তা আভাস দিয়েছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘একটি বিষয় আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অতি উৎসাহী ভূমিকা পালন করা হবে না। কিন্তু নাগরিককে আইন মানতে হবে, আইন নিজের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ বিভিন্ন অজুহাতে’ রাস্তায় নেমে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটালে এবং সন্ত্রাসকে ‘উসকে দিলে’ মেনে নেওয়া হবে না। ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অপরাধ কি-না জানতে চাইলে পুলিশ প্রধান এসব কথা বলেন।
অন্যদিকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন- কিশোর গ্যাং একটি, অলরেডি তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা শুরু করেছি। বিশেষ করে মাদকের সাথে রিলেটেড লোকজনই এসবে বেশি জড়িত। কিছু লোক ফায়দা লোটার জন্য লুটপাট এবং বিভিন্ন রকমের অপকর্মের জন্য মব করে-এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, মূল মব তৈরিকারী যারা, তাদেরও লিস্ট তৈরি করছি। যে যত ক্ষমতাবানই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
রাজনৈতিক নেতারা কি বললেন
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও এখনো বলে যাচ্ছেন, কোনো চাঁদাবাজদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নেই। এলাকায় কেউ যদি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করে তাহলে তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে বলে যাচ্ছেন। বলেছেন বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার মতো খবর প্রকাশ হচ্ছে। এসব কর্মকান্ডের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, দলের কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজি বা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ‘ডাবল অ্যাকশন’ নেওয়া হবে।
বাস্তবে কি দেখা যাচ্ছে
এদিকে সরকারের উপরের মহল যখন এসব বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন তখন মাঠে দেখা যাচ্ছে অন্যরকম পরিস্থিতি। দেখা যাচ্ছে, কক্সবাজারের রামুর একটি ফিলিং স্টেশনে চাহিদামতো জ্বালানি তেল না পেয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে কর্মচারিকে মারধর ও তান্ডব চালানোর ঘটনা। অবশ্য অভিযোগে বি কে আজম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি ‘বি কে আজম ব্রিকফিল্ড’ নামের স্থানীয় একটি ইটভাটার মালিক। প্রশ্ন হচ্ছে এই ব্যক্তি এধরনের ঘটনা ঘটাতে সাহসী হয়ে উঠলো কিভাবে?
অন্যদিকে খোদ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিব হত্যাকান্ডের ঘটনা সবাইকে বলা চলে বিচলিত করে তুলে। এই ঘটনায় অবশ্য জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিডিও কনটেন্ট তৈরির সূত্রে পরিচিত এক বিবাহিত তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে খুলনার চিহ্নিত সন্ত্রাসী সাজিদের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ‘বি কোম্পানি’র শীর্ষ সন্ত্রাসী সালাউদ্দিন ওরফে সাগর, সিহাব, রাফিন, জয় ও সাগর ফকির। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাফিনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত মূল হোতা কিংবা ওই নারীর সম্পৃক্তা নিয়েও কোনো বর্ননা পাওয়া যায়নি পুলিশের তরফ থেকে। তাছাড়া যার নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড তাকেও গ্রেফতার করা হয়নি।
এতিকে কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে। উঠেছে। তাঁর শাস্তি চেয়ে বিক্ষোভ মিছিলও করতে হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ওই ছাত্রদল নেতার নাম ইয়াছিন আরাফাত। মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদে রয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছেন ইয়াছিন। এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আবারও আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার বাদল গ্রুপের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ফুটপাতের চাঁদা নিয়ে দ্বন্দকে কেন্দ্র করে দুইজনকে কুপিয়ে জখম এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খলিলকে কোপানোর ঘটনায় এই গ্রুপের নাম উঠে এসেছে। দুটি ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে কিলার বাদলের অন্যতম সহযোগী মোল্লা কাওসার ও গ্যারেজ সোহেলসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। তবে জানা গেছে এখনো অধরা রয়েছে কিলার বাদল। আর গণমাধ্যমে র্যাব জানিয়েছে, আত্মগোপনে থাকা বাদলের একাধিক আস্তানায় অভিযান চালানো হয়েছে। তবে কবে কাকে গ্রেফতার করে আইনের আশ্রয়ে নেওয়া হবে তা জানা নেই।
ঈদে থেমে নেই
এদিকে ঈদযাত্রায় বাসে ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। আর একারণে সরকারের মনিটরিং প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করা হয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে। এতে বলা হয় সরকারি ঘোষণা বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বিভিন্ন শ্রেণীর বাস-মিনিবাসে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীর সিটিবাসেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। নৌ-পথের বেশিরভাগ রুটে এমন নৈরাজ্যের চিত্র দেখা গেলেও সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে মালিকদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী গণমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছে। এতে করে এবারের স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য গত বিশ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি পর্যবেক্ষণের এক সংক্ষিপ্ত সমীক্ষা তুলে ধরে ১৮ মার্চ বুধবার দেশের গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী এমন অভিযোগ করেন। সংগঠনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের ঈদে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লাার বাস-মিনিবাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীর সিটি সার্ভিসের বাসে আরো প্রায় ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াত হতে পারে বলে সংগঠনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। গত ১৪ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের যাতায়াত, ঈদের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা, সরকারের নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক কার্যক্রম, পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের গৃহীত ঈদযাত্রা সংশ্লিষ্ট নানান কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করে এই প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় যা লেখা হচ্ছে
এদিকে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার ভাষ্য হচ্ছে ‘কোনো রাখঢাক নেই। রাজধানীর ঘাটে ঘাটে অনেকটা ওপেন সিক্রেট স্টাইলে চাঁদাবাজি চলছে। বাসটার্মিনাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, ফুটপাত, কিংবা কাঁচা পণ্যের আড়ত-সবখানেই চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য। অন্তর্বতী সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান বিএনপি সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও পুলিশ প্রশাসন বরাবরের মতোই মস্তান, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এর প্রভাব পড়ছে না। সবকিছুই যেন চলছে আগের মতোই। ভোল পালটে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে মাঠে নেমেছেন ফ্যাসিস্টের সুবিধাভোগীরা। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বরাবরের মতোই অভিযোগ করে যাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ-রোজার ঈদ উপলক্ষ্যে সালামি-বকশিশ এবং বছরের অন্য সময় মালিক-শ্রমিক-হকার সমিতির নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে নানা ধরনের চাঁদাবাজির তথ্য উঠে এসেছে ওই পত্রিকাতে। বলা হচ্ছে খোদ রাজধানীতে বেশি যন্ত্রণায় আছেন শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ মেডিসিন মার্কেট, বিপণিবিতান মেডিসিন মার্কেট, পরীবাগ চাঁদ মসজিদ মার্কেট, পরীবাগ সুপার মার্কেট এবং শাহবাগ ফুলের মার্কেটের দোকানিরা। একেক গ্রুপ একেক সময় চাঁদা নিতে আসে।
প্রশ্ন হচ্ছে এখন চাঁদাবাজ কারা?
পত্র-পত্রিকা ছাড়াও সরজমিনে যে চাঁদাবাজদের প্রকাশ্যে মহড়া ও তৎপরতা চলছে তাতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে দেশে এখন এসব অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত কারা? এধরনের ঘটনায় প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে সবাই একবাক্যে স্বীকার করে নেবে যে এর সাথে সরকারি দলেরই সম্পৃক্ততাই বেশি। মাঠে নে-ই আওয়ামী লীগ। রাজনীতির মাঠে অন্য যার সক্রিয় তাদের বিরুদ্ধে চাদাবাজি কিংবা সহিংসতার অভিযোগ খুব একটা উচ্চারিত হচ্ছে না। বা তাদের দোষারোপ করলেও হাস্যরসের সৃষ্টি হবে।
শেষ কথা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়েছিল তারা দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী কিংবা সর্বস্তরের চাদাবাজ থেকে দেশকে রেহাই দেবে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় বসার পর থেকে মাঠ পর্যায় সেই আশ্বাসের মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে। গণমাধ্যমে যখন এসব খবর প্রকাশিত হয় তখন উপর থেকে বলা হচ্ছে প্রমান দিতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে কার ঘাড়ে কয়টা মাথা আছে যে এখন ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমান নিয়ে থানা পুলিশ করবে? তাছাড়া কেনোই-বা এখনো চাদাবাজদের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যেতে জনগণ বিভিন্ন জায়গায় অবস্থানরত সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে হাজির হচ্ছেন। কেনোই বা এখন পর্যন্ত পুলিশ শক্ত হাতে সন্ত্রাসী কিংবা সর্বস্তরের চাদাবাজ থেকে দেশকে রেহাই দিতে পারছে না। কখনো বলে যাচ্ছেন তারা ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন। আবার কখনো বলছেন তালিকা প্রণয়ন শেষ, দ্রুতই ব্যবস্থা? জনগণের প্রশ্ন তাহলে এবারের ঈদে কয়টা চাঁদাবাজ তারা হাতে নাতে কব্জা করতে পেরেছেন? রাজনৈতিক মহল মনে করেন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিশেষ করে পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের মতো ব্যক্তিরা যখন দাবি করে বসেন যে, ‘সড়ক পরিবহনে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেওয়া টাকা চাঁদা নয়, বরং সমঝোতা। তখন সত্যিকারভাবে চাদাবাজ কিংবা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন বিএনপি আসলে কতটা তৎপর হবে তা নিয়ে এখন জনগণের নানা প্রশ্ন।