মার্কিন শেয়ারবাজারে হঠাৎ করে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে, যেখানে স্বল্প সময়ের মধ্যে তিন ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য ওঠানামা করেছে। ২৩ মার্চ সোমবার সকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দিলে বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সকাল ৭টা ৪ মিনিট নাগাদ এই ঘোষণার পরপরই শেয়ারবাজারে দ্রুত উত্থান শুরু হয়। পরবর্তী কয়েক মিনিটে মার্কিন শীর্ষ ৫০০ কোম্পানির সূচক এসএন্ডপি ৫০০ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং বাজারে আনুমানিক প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্য সংযোজন হয় বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে সকাল ৭টা ৩১ মিনিটের দিকে ইরান পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করা হলে বাজারের ধারা দ্রুত পাল্টে যায়। এর ফলে পরবর্তী সময়ে শেয়ারদরে বড় ধরনের পতন ঘটে এবং প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য কমে যায়।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ ধরনের দ্রুত ওঠানামা মূলত বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা, গুজব এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে ঘটে। বাস্তবে এই স্বল্প সময়ে কোনো নতুন উৎপাদন বা সম্পদের পরিবর্তন না হলেও বাজারমূল্যে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।
এই ঘটনার সময় প্রি-মার্কেট বা প্রি-ট্রেডিং পর্যায়ে বড় বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় থাকায় তারা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেতে পারেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ সীমিত থাকে।
এদিকে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ-এর শেয়ারদরও একই সময়ে প্রায় ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায় বলে জানা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা আবারও দেখিয়েছে যে বৈশ্বিক শেয়ারবাজার অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বার্তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং তথ্যপ্রবাহের ওপর অত্যন্ত সংবেদনশীল।