ভুল কৌশলে জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ


খন্দকার সালেক , আপডেট করা হয়েছে : 01-04-2026

ভুল কৌশলে জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের সূচনায় প্রকৃত চ্যালেঞ্জ অনুধাবন করার আগেই বিএনপি জোট সরকার তড়িঘড়ি কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করায় আতঙ্কিত জনসাধারণ আতঙ্ক ক্রয় শুরু করে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশুভ মহল জ্বালানি মজুত করে কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করায় দেশব্যাপী জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঢাকাসহ সারা দেশে পাম্প স্টেশনগুলোতে জ্বালানির জন্য এখন রীতিমতো হাহাকার। সরকার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ চেইনন সঠিকভাবে তদারকি করলে এতো শিগগির জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করতো না। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল যৌথভাবে ইরান আক্রমণ থেকে সূচিত যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের অশুভ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশেষ করে পারস্য মহাসাগরীয় অঞ্চলের তেল, গ্যাস নির্ভর দক্ষিণ, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং পশ্চিম ইউরোপ সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্বে এসেই পড়েছে মহাসংকটে। এমনিতেই বাংলাদেশ ১০০ ভাগ ক্রুড অয়েল এবং ৮০ ভাগ এলএনজি সৌদি আরব, ইউএই এবং কাতার থেকে আমদানি করে। ইরান আত্মরক্ষার অন্যতম বিকল্প হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় মিসাইল আক্রমণ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, উপরন্তু গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়েছে।

এটা স্বাভাবিক যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি মূল্যে আগুন লেগেছে, জ্বালানি সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়েছে। বাংলাদেশে কিন্তু পেট্রোল, অকটেন নিয়ে এতো আতঙ্কিত হবার কারণ ছিল না। মূল সংকট ডিজেল আর এলএনজি নিয়ে। সংকট মুহূর্তে সর্বস্তরে কৃচ্ছ্রতার মাধ্যমে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করলে অন্তত এপ্রিল মাস পর্যন্ত আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ সরকার কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। কিন্তু সম্পূর্ণ সাপ্লাই চেইনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগেই যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করার ঘোষণা দেয়ায় জনগণ আতঙ্কিত হয়ে প্যানিক বায়িং শুরু করে। আর এমনিতেই অসাধু মহল যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে ব্যস্ত তারা জ্বালানি মজুত করে সংকট ঘনীভূত করেছে।

সরকারের উচিত ছিল শুরুতেই জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরের চাকরি অ্যাসেনশিয়াল ঘোষণা করে ২৪/৭ জ্বালানি সাপ্লাই চেইনের কার্যক্রম চালু রাখা। ঈদের ছুটির সময় এবং ব্যাংক ব্যবস্থার সঙ্গে সমঝোতা রেখে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে জ্বালানি ডিপোগুলো থেকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বর্তমান সংকট এড়ানো যেত। সরকারের সংস্থাগুলো পাম্পগুলো থেকে জ্বালানি সরবরাহ নজরদারিতে রাখলে অশুভ মহল কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ পেতো না। যাহোক বিলম্বে হলেও সরকারের টনক নড়েছে।

যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশকে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে সংকট মোকাবিলা করতে হবে। বিকল্প সূত্র থেকে অধিক মূল্য দিয়ে হলেও ন্যূনতম পরিমাণ জ্বালানি কিনতে হবে। গভীর সাগর থেকে তরল জ্বালানি চট্টগ্রামে আনার জন্য নির্মিত সিংগেল পয়েন্ট মুরিং ব্যবস্থা অবিলম্বে চালু করতে হবে। গভীর সাগর থেকে পণ্য নিয়ে আশা ছোট ছোট জাহাজগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ করতে হবে।

যেহেতু ডিজেল মূল সংকট, তাই যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ চালু করতে হবে। অ্যাসেনশিয়াল সার্ভিস ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে সীমিত সময়ের জন্য বাসা থেকে কাজ করার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসগুলো সীমিত সময়ের জন্য অনলাইন করা যায় কি না বিবেচনা করতে হবে। কোরবানির ঈদের সময় জনসাধারণকে যথাসম্ভব নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ঈদ পালনে উৎসাহিত করতে হবে। ঈদের সময় বাড়তি আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে এবং শপিং ঘণ্টা সীমিত করার বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।

স্মরণে রাখতে হবে, সীমিত জ্বালানি দিয়ে আসন্ন গ্রীষ্মের চাহিদা কোনোভাবে মেটানো সম্ভব হবে না। দেশব্যাপী সর্বোচ্চ ৫-৬ ঘণ্টা লোডশেডিং এড়ানো যাবে না। সার সংকট এড়ানোর জন্য সার কারখানাগুলোতে অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। দেশব্যাপী খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে হবে। পানির পাম্পগুলোতে বিদ্যুৎ জ্বালানি সরবরাহ চালু রাখতে হবে।

সংকট সারা বিশ্বজুড়ে। তাই সংকট সময় জাতি একতাবদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে সংকট মোকাবিলা করতে হবে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)