সদ্য অনুষ্ঠিত গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা বিএনপি জোট সরকারের সামনে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া ১৩৩টি অর্ডিন্যান্স সংসদে আলাপ করে নিষ্পত্তি করা, জুলাই সনদের বিষয়টি নিষ্পত্তি এবং তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলা। সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতিতে প্রথম দুটি নিষ্পত্তি খুব সহজ হবে না। বিশেষত যখন বিষয় দুটি বিদ্যমান সংবিধানের সঙ্গে অনেক অংশে সাংঘর্ষিক। আর জ্বালানি সংকট ইতিমধ্যেই ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে তীব্র আকার ধারণ করেছে। জ্বালানি বিদ্যুৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অতীতের বিএনপি সরকার আমলের অভিজ্ঞতা খুব সুখকর না। ১৯৯০-৯৬ বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার কারণে ১৯৯৬ তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছিলো। ২০০১-০৬ বিএনপি-জামায়াত সরকারের আনাড়িপনার পরিণতিতে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। এবারের সংকটের গতি প্রকৃতি ভিন্নমাত্রার। ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ বাহিনীর চলমান যুদ্ধ সারা বিশ্বের জ্বালানি সংকটকে তীব্র থেকে তীব্রতর করছে। জ্বালানির মূল্য আকাশছোঁয়ার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়েছে। নিশ্চিত নই বিএনপি জোট সরকার নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে কত দ্রুত জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে পারবে।
এমনিতেই বিদ্যমান সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকার ও গণভোটের বিধান নেই। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অনেক কিছুই আছে ১৩৩ অর্ডিন্যান্সে। তাই বিষয়গুলো নিয়ে অনেক আইনগত জটিলতা আছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের উচিত দেশে দ্রুত রাজনীতিতে পরমত সহিষ্ণুতার পরিবেশ সৃষ্টি করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সৃষ্টি করা। ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনর্গঠন, নাজুক জ্বালানিনিরাপত্তা সঠিক পথে নিয়ে আসা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। তারেক জিয়া সরকারের মন্ত্রীরা নানা কথা বলে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে। বাস্তবতাকে অস্বীকার করে নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে।
২০০৮ থেকে ২০২৫ প্রবাসে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া, একইভাবে দীর্ঘ দিন গুম হওয়া বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন ভারতে। জানি না বিএনপির মতো প্রধান রাজনৈতিক দলে অভিজ্ঞ প্রবীণদের উপেক্ষা করা কতটা শুভবুদ্ধির পরিচয় হয়েছে। অনভিজ্ঞ যোগাযোগমন্ত্রী ইতোমধ্যেই তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে সংকট ঘনীভূত হয়েছে জ্বালানি সরবরাহে। দ্রুত ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন না হলে মে জুন নাগাদ ভেঙে পড়তে পারে জ্বালানি নিরাপত্তা। আইনি ব্যাখ্যা আইনমন্ত্রীর পরিবর্তে দিচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সংসদে এবার অধিকাংশ সদস্য নবীন। অনেকেই সাংসদীয় বিধিবিধান শিখছে। এদের মাধ্যমে খুব দ্রুত সংসদীয় জটিলতা নিরসন হবে মনে হয় না। আসছে গ্রীষ্মকালে প্রণয়ন করতে হবে বাজেট। এমনিতেই বাংলাদেশ একটি সমস্যাসংকুল উন্নতিশীল দেশ। অন্য সমস্যার পাশাপাশি আছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অপশাসন আর দুর্নীতি। দেখতে হবে কিভাবে কত দ্রুত সরকার সংকট কাটিয়ে উঠে ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। আমি ঈশান কোণে মেঘ দেখতে পাচ্ছি।