নিজেকে ভাঙার নেশাতেই শাহজাহান নূর হওয়া


আলমগীর কবির , আপডেট করা হয়েছে : 01-04-2026

নিজেকে ভাঙার নেশাতেই শাহজাহান নূর হওয়া

ঈদে মুক্তি পেয়েছে জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশোর নতুন সিনেমা ‘দম’। রেদওয়ান রনি পরিচালিত এই সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন ‘শাহজাহান নূর’ চরিত্রে। সিনেমাটির নেপথ্যের গল্প, শারীরিক রূপান্তর এবং শুটিংয়ের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে নিশো কথা বলেছেন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত পাঠকপ্রিয় দেশ পত্রিকার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলমগীর কবির 

প্রশ্ন: ‘দম’ সিনেমার মূল সুর আসলে কী? এটি কি কেবলই একটি সারভাইভাল ড্রামা?

আফরান নিশো: ‘দম’ সিনেমার কাঠামোকে শুধু ‘বেঁচে থাকার লড়াই’ বললে এর গভীরতাটা ঠিক বোঝা যাবে না। এটি মূলত একটি বহুস্তর বিশিষ্ট সারভাইভাল-ড্রামা। সিনেমার কেন্দ্রে থাকা শাহজাহান নূর একজন অতি সাধারণ মানুষ। কিন্তু পরিস্থিতি তাকে এমন এক দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায় নিয়ে যায়, যেখানে টিকে থাকাই দায়। এখানে লড়াইটা শুধু শারীরিক নয়, বরং মানসিক ও নৈতিক। তাকে এমন সব সিদ্ধান্ত নিতে হয় যা তার মানবিকতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়।

প্রশ্ন: শাহজাহান নূর হয়ে ওঠার জন্য আপনার এই অভাবনীয় শারীরিক পরিবর্তনের পেছনের গল্পটি কেমন ছিল?

আফরান নিশো: এটি ছিল নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ার এক প্রক্রিয়া। এক সময় আমার ওজন ৯৬ কেজিতে পৌঁছেছিল। কিন্তু পরিচালক যখন বললেন এই চরিত্রের জন্য ওজন ৭৫-এ নামাতে হবে, তখন জানতাম লড়াইটা কঠিন হবে। এটি শুধু ডায়েট বা ওয়ার্কআউট ছিল না, বরং প্রতিদিন নিজের ইচ্ছাশক্তির সঙ্গে যুদ্ধ করা। শাহজাহান নূর চরিত্রের যে অনিশ্চয়তা ও ভয়, সেই মানসিক চাপটা নিজের মধ্যে ধারণ করার জন্যই আমি এই ঝুঁকিটা নিয়েছিলাম।

প্রশ্ন: কাজাখস্তানের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

আফরান নিশো: আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা এটি। কাজাখস্তানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মাইনাস ৮ ডিগ্রি (যা অনুভূত হতো মাইনাস ১৫ ডিগ্রির মতো) তাপমাত্রায় কাজ করাটা ছিল রীতিমতো অগ্নিপরীক্ষা। সেই প্রচণ্ড ঠান্ডায় সংলাপ বলা বা শরীর সচল রাখাই ছিল চ্যালেঞ্জ। পুরো টিম মিলে আমরা শুধু একটা সিনেমা বানাইনি, বরং প্রকৃতির প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক ধরনের সারভাইভালের মধ্য দিয়ে গেছি।

প্রশ্ন: ‘সুড়ঙ্গ’ বা ‘দাগি’র চেয়ে ‘দম’ কোথায় আলাদা?

আফরান নিশো: আগের সিনেমাগুলোতে মূলত চরিত্র এবং ন্যারেটিভই প্রধান ছিল। কিন্তু ‘দম’-এর ক্যানভাস অনেক বিশাল। এখানে ভৌগোলিক পরিবেশ, বিশাল পরিসর এবং চরিত্রের ভেতরের দীর্ঘ জার্নি সবকিছুই অনেক বেশি বিস্তৃত। একজন অভিনেতা হিসেবে এটি আমাকে নিজের সীমানাকে অতিক্রম করতে সাহায্য করেছে।

প্রশ্ন: রেদওয়ান রনির সঙ্গে কাজের রসায়নটা কেমন ছিল?

আফরান নিশো: রনি ভাই প্রচণ্ড নিবেদিতপ্রাণ একজন নির্মাতা। তিনি প্রতিটি মুহূর্তকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য কাজ করেন। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি অভিনেতার ভেতর থেকে সেরাটা বের করে আনতে জানেন। শাহজাহান নূর চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে তিনি আমাকে বারবার চ্যালেঞ্জ করেছেন, যা আমি ভীষণ উপভোগ করেছি।

প্রশ্ন: দীর্ঘ বিরতির পর ঈদে বড় পর্দায় ফেরা এবং দর্শকদের সরাসরি প্রতিক্রিয়া-সব মিলিয়ে অনুভূতি কী?

আফরান নিশো: সিনেমা মুক্তির পর আমি নিজে বিভিন্ন হলে গিয়েছি, দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি। তাদের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের ভেতরের লড়াইটা যখন দর্শকদের স্পর্শ করে, তখন মনে হয় আমাদের পরিশ্রম সার্থক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মানুষ সিনেমাটির নির্মাণশৈলী আর ট্রিটমেন্ট নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা করছেন। দর্শকদের এই ভালোবাসা আমাকে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।

প্রশ্ন: ‘শাহজাহান নূর’ কি আফরান নিশোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন চরিত্র? ভবিষ্যতে দর্শক আপনার কাছ থেকে এমন আর কী কী চমক আশা করতে পারে?

আফরান নিশো: অবশ্যই শাহজাহান নূর আমার অন্যতম চ্যালেঞ্জিং চরিত্র, কারণ এতে শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমের চূড়ান্ত সমন্বয় ছিল। আমি আসলে সবসময়ই নিজেকে ভাঙতে পছন্দ করি। গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেওয়াতেই আমার আনন্দ। ভবিষ্যতে দর্শকরা এমন সব চরিত্রে আমাকে দেখবেন, যেখানে আমি নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলার সুযোগ পাব। আমি চাই প্রতিটি কাজেই দর্শক নতুন এক নিশোকে আবিষ্কার করুক।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)