নিউ ইয়র্ক সিটিতে হাউজিং ভাউচার কর্মসূচি সম্প্রসারণকে ঘিরে সিটি হলে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে উঠেছে। মেয়র জোহরান মামদানি এ কর্মসূচির সম্প্রসারণ ঠেকাতে উদ্যোগ নিয়েছেন, যদিও এর আগে তিনি এটি সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মেয়রের এ সিদ্ধান্তে আবাসন অধিকারকর্মী ও সিটি নেতাদের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাদের দাবি, এটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল এবং নিম্নআয়ের ভাড়াটিয়াদের জন্য জরুরি সহায়তা পেতে বিলম্ব ঘটাতে পারে।
যা জানা যাচ্ছে
এই বিরোধের সূচনা দুই বছর আগে, যখন সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস সিটি কাউন্সিলের হাউজিং ভাউচার সম্প্রসারণের উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ করেন। অ্যাডামসের দাবি ছিল, এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে এবং কাউন্সিলের এ ধরনের অনুমোদনের ক্ষমতা নেই। এখন মামদানির প্রশাসনও আদালতে একই যুক্তি তুলে ধরছে। শহর কর্তৃপক্ষ নিউ ইয়র্ক স্টেট কোর্ট অব আপিলসকে অনুরোধ করেছে এ সম্প্রসারণ স্থগিত রাখতে। মেয়রের মতে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে আগামী পাঁচ বছরে শহরের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। তিনি বলেন, শহরের আর্থিক পরিস্থিতি ক্রমেই চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, গৃহহীনতার সংকট মোকাবিলায় আমি সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে চাই। তবে একই সঙ্গে নিউ ইয়র্কবাসীকে আমাদের আর্থিক চ্যালেঞ্জের বাস্তবতাও জানাতে হবে।
পটভূমি : গত বছরের মেয়র নির্বাচনী প্রচারণার সময় মামদানি এ মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তার প্রশাসন ঠিক উল্টো পথে হাঁটছে এবং কর্মসূচির সম্প্রসারণ ঠেকাতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আবাসন অধিকারকর্মী ও সাবেক সিটি কাউন্সিল স্পিকার ক্রিস্টিন কুইন এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এটা বিশ্বাসঘাতকতার মতো মনে হচ্ছে-নির্বাচনের সময় একটি প্রতিশ্রুতি, আর ক্ষমতায় এসে তা ভঙ্গ।
অন্যদিকে মেয়র আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা যেতে পারে। তবে কাউন্সিল নেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক আদালতের পদক্ষেপ সে সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলেছে। সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনন প্রশাসনকে মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকলে সমঝোতায় পৌঁছানো বিলম্বিত হবে।
এনওয়াইসি হাউজিং ভাউচার কর্মসূচি কী?
নিউ ইয়র্ক সিটির হাউজিং ভাউচার কর্মসূচি দেশের অন্যতম বৃহৎ। বর্তমান ব্যবস্থায় ভাড়াটিয়ারা তাদের আয়ের ৩০ শতাংশ ভাড়া হিসেবে দেন, বাকি অংশ বহন করে শহর কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবিত সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরো বেশি মানুষকে এ সুবিধার আওতায় আনা এবং যোগ্যতার শর্ত শিথিল করার পরিকল্পনা ছিল। সমর্থকদের মতে, শহরের আবাসন সংকট ও গৃহহীনতার সমস্যা সমাধানে এ পরিবর্তনগুলো অত্যন্ত জরুরি।
আগামী দিনে কী হবে
সম্প্রসারণ না হলেও আগামী বছরগুলোতে এ কর্মসূচির ব্যয় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা শহরের বাজেটের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি করবে। আইনি লড়াই চলতে থাকায়, এ কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং এর ফলে হাজারো নিউ ইয়র্কবাসীর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।