নিউ ইয়র্কে ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের এক সিনিয়র বাংলাদেশি আমেরিকান কর্মীকে সাবওয়ে ট্রেনে এক নারীর সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত তৌহিদ দেওয়ান (২৮), যিনি ওই অফিসে সিনিয়র ইনভেস্টিগেটিভ অ্যানালিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল ব্যস্ত সময়ে কুইন্সের ৭ সাবওয়ে ট্রেনে ঘটনাটি ঘটে। ট্রেনটি জংশন বুলেভার্ড স্টেশনের কাছে পৌঁছলে ৪০ বছর বয়সী এক নারীকে লক্ষ্য করে অনুচিত শারীরিক আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত একে অপরের অপরিচিত ছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানায়, অভিযোগ পাওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ট্রানজিট ব্যুরোর পুলিশ সদস্যরা অভিযুক্তকে আটক করে। তাকে ঘটনাস্থল বা তার আশপাশ থেকেই গ্রেফতার করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির করাহয়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তৌহিদ দেওয়ানের বিরুদ্ধে ফোর্সিবল টাচিং, তৃতীয় ডিগ্রির যৌন নির্যাতন, শারীরিক ফিজিক্যাল কন্ট্যাক্টসহ হয়রানি এবং জনপরিবহনে অনুচিত আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া আরো একটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ঘটনাটি এমন পরিস্থিতিতে ঘটেছে যাতে ১৭ বছরের কম বয়সী একজন নাবালক ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, অভিযুক্ত তাদের একজন কর্মী এবং ঘটনার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অফিসের এক মুখপাত্র জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় তারা বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সরকারি নথি অনুযায়ী, তৌহিদ দেওয়ান ২০২২ সালের জুলাই থেকে ম্যানহাটন ডিএ অফিসে কাজ করছেন এবং প্রায় চার বছর ধরে সিনিয়র ইনভেস্টিগেটিভ অ্যানালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার কোনো পূর্ব অপরাধমূলক রেকর্ড নেই বলে আইনশৃঙ্খলা সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো আরো জানায়, ঘটনাটি ঘটার সময় তিনি সম্ভবত কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে ছিলেন। নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশের ট্রানজিট ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাকে আটক করে।
এই ঘটনার পর নিউ ইয়র্কে সরকারি সংস্থার কর্মীদের আচরণ ও জনপরিবহনে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে, পাশাপাশি তার পেশাগত অবস্থানও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের প্রধান অ্যালভিন ব্র্যাগের দফতর বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় এখনো আদালতে চূড়ান্ত রায় বা দোষ নির্ধারণ হয়নি। এই ঘটনায় নিউ ইয়র্ক সিটির সাবওয়ে ব্যবস্থায় নিরাপত্তা, বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।