যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডের ডিয়ার পার্ক এলাকায় ইসলামবিরোধী গ্রাফিতির ঘটনা স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। কার্টো সার্কেল এলাকায় অন্তত আটটি স্টপ সাইনে ‘স্টপ’ শব্দের নিচে ‘ইসলাম’ লেখা দেখা যায়, যা ঘৃণামূলক বার্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইসলামিক সেন্টার অব ডিয়ার পার্ক মসজিদের আশপাশে একাধিক স্টপ সাইনে এই ধরনের লেখা পাওয়ায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাওয়াদ খান জানান, প্রথমে একজন প্রতিবেশী বিষয়টি তাকে জানান। পরে তিনি নিজে গিয়ে একাধিক স্টপ সাইনে একই ধরনের ঘৃণামূলক লেখা দেখতে পান। তিনি বলেন, “প্রথমটা দেখে মনে হয়েছিল কেউ হয়তো মজা করেছে। কিন্তু এরপর আরো একাধিক সাইন দেখে বুঝলাম এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, তিনি ২০১১ সাল থেকে এলাকায় বসবাস করছেন, কিন্তু এমন ঘটনা আগে কখনও দেখেননি। এটি দুঃখজনক এবং ঘৃণার প্রকাশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একাধিক স্টপ সাইনে একই ধরনের লেখা পাওয়া গেছে এবং এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে মুসলিম পরিবারগুলোর মধ্যে। স্থানীয় বাসিন্দা আলী ইমাম বলেন, প্রতিটি স্টপ সাইনেই ‘স্টপ ইসলাম’ লেখা আছে। এটা দেখে আমার সন্তানরা প্রশ্ন করছে কেন এমন লেখা আছে। তিনি আরো জানান, তিনি নিজের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন।
সাফোক কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘৃণামূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং হেট ক্রাইম ইউনিট বিষয়টি দেখছে। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য এবং আশপাশের এলাকার ভিডিও সংগ্রহ করছে যাতে দায়ীদের শনাক্ত করা যায়।
নিউ ইয়র্ক স্টেটের গভর্নর ক্যাথি হোচূল এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, কেউই তার পরিচয় বা বিশ্বাসের কারণে লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, ইসলামফোবিয়ার নিউ ইয়র্কে কোনো স্থান নেই এবং নিউ ইয়র্ক স্টেট পুলিশ তদন্তে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
টাউন অব ব্যাবিলনের কর্মকর্তারা জানান, গ্রাফিতি দ্রুত মুছে ফেলা হয়েছে এবং দায়ীদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। টাউন সুপারভাইজার রিচ শ্যাফার বলেন, আমরা আমাদের টাউনে কোনো ধরনের ঘৃণা বা অসহিষ্ণুতা বরদাশত করব না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেশিরভাগ গ্রাফিতি ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যদিও গত ২৯ এপ্রিল রাত পর্যন্ত একটি ভাঙচুর করা স্টপ সাইন রয়ে গিয়েছিল।
আইন অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কের হেট ক্রাইম আইনে ভাঙচুর বা গ্রাফিতির মতো অপরাধ যদি ধর্মীয় বিদ্বেষ দ্বারা প্রভাবিত প্রমাণিত হয়, তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তির বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
বর্তমানে তদন্ত চলছে এবং পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে অনুরোধ করেছে, কেউ যদি ওই সময়ের আশপাশে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ, ভিডিও বা তথ্য দেখে থাকেন, তাহলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে। এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে পুলিশ জানিয়েছে তারা দ্রুত অগ্রগতি আশা করছে এবং দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।