লং আইল্যান্ডের সাফোক কাউন্টির ডিক্স হিলসের হাফ হলো হিলস সেন্ট্রাল স্কুল ডিস্ট্রিক্ট একটিএক মুসলিম শিক্ষার্থীর ফিলিস্তিন-থিমযুক্ত শিল্পকর্ম স্কুল কর্তৃপক্ষ মুছে ফেলে ছাত্রীর প্রথম সংশোধনী অধিকার লঙ্ঘন এবং ধর্ম, পরিচয় ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগে হাফ হলো হিলস সেন্ট্রাল স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারের সমঝোতা হয়েছে। উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী জেইন খানের (ছদ্মনাম) ফিলিস্তিন-সংক্রান্ত শিল্পকর্ম মুছে ফেলার ঘটনায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারের সমঝোতায় পৌঁছেছে। ঘটনাটি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঘটে এবং পরে এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক প্রতীক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সীমা নিয়ে বড় বিতর্কে রূপ নেয়।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, হাফ হোলো হিলস হাই স্কুল ওয়েস্টে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর আঁকা ছবিটি আংশিকভাবে মুছে ফেলা হয়, যখন সেটির একটি ছবি অনলাইনে একটি প্রো-ইসরায়েল ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে ব্যবহারকারীরা স্কুল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তা সরিয়ে ফেলার জন্য। হাফ হোলো হিলস হাই স্কুল ওয়েস্টের সিনিয়র ছাত্রী জেইন তার স্নাতকোত্তর বছরের অংশ হিসেবে স্কুলের পার্কিং লটে নির্ধারিত স্পটটি ব্যক্তিগতভাবে সাজান। সেখানে তিনি আঁকেন একটি তরমুজ (ওয়াটারমেলন) এবং কেফিয়েহ নকশা, যা আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিনি সংহতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া তিনি আরবি ভাষায় নিজের নাম ও ‘পিস বি আপন ইউ’ বাক্যও লেখেন। তার পরিবার জানায়, তিনি এটি করতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় ব্যয় করেছিলেন এবং এতে তার এক ঘনিষ্ঠ ইহুদি বন্ধু ও তার মাও সহায়তা করেন।
২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর একটি ফেসবুক পোস্টে নেভার ফরগেট জিউইশ লাইভস ম্যাটার নামের একটি গ্রুপে জেইনের পার্কিং স্পটের ছবি শেয়ার করা হয়। পোস্টে স্কুল প্রশাসনের কাছে এটি অপসারণের দাবি জানানো হয়। এর পরের সোমবার স্কুল প্রশাসন জেইনকে ডেকে পাঠায়। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তার শিল্পকর্ম সমস্যাজনক কিনা তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়। শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং জানান যে এটি তার পরিচয় ও সাংস্কৃতিক সংহতির প্রকাশ। পরবর্তী সময়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ তার ডিজাইনের একটি অংশ,বিশেষ করে তরমুজের কেফিয়েহ নকশা, রঙ করে ঢেকে দেয়।
স্কুলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এ চিত্রটি ঘৃণামূলক বক্তব্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে এবং এটি স্কুল পরিবেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। স্কুলের আইনজীবী বলেন, এটি ইসরায়েলবিরোধী বা সন্ত্রাসবাদ-সমর্থনকারী বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা হতে পারে। তারা যুক্তি হিসেবে এনপিআরের একটি নিবন্ধও উপস্থাপন করে, যেখানে কেফিয়েহের রাজনৈতিক প্রতীকী অর্থ আলোচনা করা হয়েছিল।
শিক্ষার্থী ও তার পরিবার পরে কেয়ারের সহায়তায় মামলা দায়ের করে। তাদের আইনজীবীরা দাবি করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মামলায় উল্লেখ করা হয় যে, একই স্কুলে আগে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ফিস্ট, প্রাইড ফ্ল্যাগ এবং অন্যান্য জাতীয় বা রাজনৈতিক প্রতীক রাখা হলেও সেগুলোতে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।
ফেডারেল বিচারক কিও এ মাতসুমোতো শুনানিতে মন্তব্য করেন যে স্কুল কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ আচরণ করেনি এবং এখানে মতাদর্শভিত্তিক বৈষম্যের প্রমাণ রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি প্রাইড ফ্ল্যাগ বা ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার গ্রহণযোগ্য হয়, তবে কেন ফিলিস্তিন-সংক্রান্ত প্রতীককে আলাদা করে দেখা হবে।
প্রাথমিকভাবে আদালত উভয় পক্ষকে সমঝোতার পরামর্শ দেন। দীর্ঘ আলোচনার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি খসড়া সমঝোতায় ১ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ এবং একটি প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার কথা ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে বিতর্ক দেখা দেয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শব্দটি নিয়ে স্কুল প্রশাসন দাবি করেছিল যে ক্ষমাপত্রে উল্লেখ থাকতে হবে শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করা। শিক্ষার্থীর আইনজীবীরা এটিকে ভবিষ্যতে দমনমূলক পদক্ষেপের সুযোগ হিসেবে দেখেন। অবশেষে ক্ষমাপত্র বাতিল হয় এবং স্কুল জেলা নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের শর্তও দেয়, যা পরিবার প্রত্যাখ্যান করে।
শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারের চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছে। যেখানে কোনো ক্ষমা প্রার্থনা, দোষ স্বীকার বা এনডিএ ছিল না। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটে যখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছিল বলে আইনজীবীরা উল্লেখ করেন। শিক্ষার্থী বর্তমানে কলেজে পড়ছেন এবং পরিবার বিষয়টি পেছনে ফেলতে চাইলেও এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। তার মা বলেন, এ ঘটনা ভবিষ্যতে সংখ্যালঘু এবং মুসলিম ও ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়কে তাদের মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় সাহস দেবে। আইনজীবীদের মতে, এ সমঝোতা ইঙ্গিত করে যে স্কুল জেলা সম্ভাব্যভাবে মামলা হারানোর ঝুঁকি বুঝতে পেরেছিল এবং সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ এড়াতেই বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছে।