রাজনীতির মাঠে সক্রিয় নানান ধরনের খেলোয়াড়। এদের রয়েছে নানামুখী তৎপরতা। প্রতিনিয়ত চলছে শলাপরামর্শ। তবে এসব খবরে ক্ষমতাসীন বিএনপি চুপচাপ বসে নেই। মাঠের যড়যন্ত্র আর গোপন খেলা রুখতে বিএনপি এখন দলকে নিয়ে মাঠে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে চায়। রাজনৈতিকভাবেই এমন ষড়যন্ত্র বা খেলা মোকাবেলার পাশাপাশি মাঠেও দলকে চাঙ্গা রাখতে চায়। এসব তথ্য পাওয়া গেছে মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সূত্র থেকে।
কি করবে বিএনপি
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বর্তমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছে বিএনপি এখন ক্ষমতায়। কিন্তু ক্ষমতায় বসতে না বসতে দলটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নানান ধরনের খেলাধুলার গন্ধ পাচ্ছে বলে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে। এসব মোকাবেলা প্রথমে বিএনপি বেশ নমনয়ীয়তায় ছিল। কিন্তু দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিতে থাকে যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির (১/১১) সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে পর্দার আড়ালে থাকা কুশীলবদের পাকড়াও করে ফেলা। কারো কারো মতে এদেরকে আসলে নব্য ষড়যন্ত্র পাকানোর অভিযোগে পাকড়াও করা হয়েছে। বিএনপির মধ্যে নানা প্রশ্ন কেনো এদেরকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কিছুই করা হয়নি। আর একারণেই ক্ষমতায় বসে ভবিষ্যতের ষড়যন্ত্রের ছক আঁকাদের চক্রান্ত থামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বলা হচ্ছে।
মাঠে নতুন কর্মসূচি নিয়েও ভাবনা
এদিকে এসবের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় প্রধান বিরোধী দলের কর্মসূচিও ভাবনায় ফেলেছে ক্ষমতাসীন দলটিকে। কেননা জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোট দেশব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে গত মাসের শেষের দিকে। কর্মসূচির মধ্যে রযেছে আগামী ১৬ মে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ। এর পরে ১৩ জুন চট্টগ্রামে এই কর্মসূচি পালিত হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে ২৭ জুন ময়মনসিংহ, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল এবং সর্বশেষ ২৫ জুলাই সিলেট বিভাগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এরপরে একটি মহাসমাবেশের কথা রযেছে যেটি ঢাকায় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। এছাড়াও দাবির মধ্যে রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, দখলদারিত্ব, স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা সমাধান, স্বাস্থ্য-শিক্ষায় দুর্নীতি ও শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে এসব কর্মসুচি দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি প্লান
তবে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সাথে দেশ প্রতিনিধির সাথে কথা বলে জানা গেলো ভিন্ন তথ্য। তারা জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোট দেশব্যাপী লম্বা কর্মসূচি ঘোষণাকে সহজভাবে নিতে নারাজ। এর মধ্যে তারা নানান ধরনের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে, যখন কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা দেখা যায়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চট্টগ্রামের রাজনীতি মাঠের ‘রহস্যময় ব্যক্তি’ বলে পরিচিত সাবেক সিটি মেয়র এম মনজুর আলমের বাসায় জুলাই যোদ্ধা যিনি এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর উপস্থিতি। হাসনাত আবদুল্লাহ যিনি একজন কট্টর আওয়ামী লীগ বিরোধী নেতা বলে পরিচিত। অথচ প্রহেলা বৈশাখের দিন এনসিপির এই নেতা এম মনজুর আলমের বাসায় গিয়েছে। তার যাওয়াসহ আরও কয়েকটি কারণে বিএনপি এখন জামায়াত এবং এনসিপির ব্যাপারে সর্তক অবস্থানে চলে গেছে।
কিছু পদক্ষেপ
জানা গেছে, সর্তকতার মধ্যে রযেছে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ যা বেশ দৃশ্যমান। এর প্রথম পর্যায়ে রয়েছে বেশ কিছু প্রশাসনি পদক্ষেপ। কেননা বিএনপি মনে করে মাঠে জামায়াত ও এনসিপি হঠাৎ করে লম্বা কর্মসূচি ও লম্বা লম্বা বক্তব্য এমনিতেই দিচ্ছে না। বিএনপি মনে করে অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়টা জামায়াত ও এনসিপি মিলে জুলাই ইমেজকে পুঁজি করে দেশের প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে স্তরে নিজেদের রাজনৈতিক আর্দশে বিশ্বাসী লোককে বসিয়ে ফেলে। এমনটি বিএনপি’র ছাতায় নিচে থাকার দলটির বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনেও তারা ঢুকে পড়েছে ছদ্মবেশে। জামায়াত ও এনসিপির এই কৌশল টের পেয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কঠোরভাবে নজর দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। এতে কোনঠাসা হয়ে মাঠ গরম করছে এই দল দুটি, ১১ দলের জোটের নামে-এমনটা মনে করে অনেকেই। জানা গেছে, বিএনপি এখন প্রশাসনিকভাবে যেমন নিজেদের গোছাচ্ছে, তেমনি মাঠ পর্যায়ে সুসংগঠিতভাবে তৈরি করছে দলকে। এর লক্ষণ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপে দেখা যাচ্ছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করে মাঠের বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা। বিএনপি চায় এখন রাজনীতিতে নিজেদের সক্রিয় করতে। ইতোমধ্যে সারা দেশের সাংগঠনিক নেতাদের নিয়ে মতবিনিময়ও করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর লক্ষ্য সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করা।
শেষ কথা
বিএনপি প্রথমেই ভেবেছিল যে তারা ক্ষমতায় বসে অন্তত বেশ বছর নিবিগ্নে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। ধারণা করে যে, দীর্ঘ সতের বছর ধরে একটি দেশের মধ্যে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চা হয়নি। সংসদ বলা চলে অকার্যকরই ছিল। তাই বিরোধী দল এই বিষয়টির দিকে নজরে নিয়ে কাজ করবে। অন্যদিকে বিএনপির হাই কমান্ড মনে করেছিল যে, জাতীয় সংসদকে বিরোধী রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে বর্তমান বিরোধীদল বেশ আন্তরিকতা দেখাবে। ধারণা করেছিল যে, শুধু সংসদীয় বিতর্ক, নোটিশ কিংবা ওয়াকআউটের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখবে। কিন্তু তা যখন দেখছে না সেক্ষেত্রে বিএনপি সক্রিয় হয়েছে। কারণ বর্তমানে পুরো পরিস্থিতি বিএনপি অন্যভাবে দেখছে বা ভাবতে শুরু করেছে। দলটি এখন মাঠের খেলোয়ারদের মোকাবেলায় সর্তক অবস্থান নিয়েছে, যেনো কোনো পক্ষ বলতে না পারে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে দলের দিকে নজর নেই। অভিযোগ আসে না যেনো সে-কারণে মাঠের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা বিএনপি ব্যর্থ হচ্ছে।