বিশাল নয়, চাই সুষম বাজেট


সালেক সুফী , আপডেট করা হয়েছে : 13-05-2026

বিশাল নয়, চাই সুষম বাজেট

নতুন বিএনপি জোট সরকার নানা চলমান সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রণয়ন করছে। মন্ত্রী-সাংসদরা নানা আলোচনায় বড় বাজেট প্রণয়ন করার কথা বললেও বাস্তবতার ভিত্তিতে একটি সুষম বাজেট প্রণয়নের পরামর্শ দিচ্ছেন বিভিন্ন বিষয়ে আয়ে বিশেষজ্ঞরা। এমন বাজেট প্রয়োজন যা ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতিটিকে স্থিতিশীল ভিত্তি দিতে পারবে। পুঞ্জীভূত দেনার সিংহভাগ পরিশোধের পাশাপাশি অত্যাবশ্যকীয় খাত কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, পরিবেশের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিল্প, বাণিজ্য এবং যোগাযোগ খাতে সংস্কারমূলক উন্নয়ন করা সম্ভব হয়।

সরকারকে অবশ্যই অভ্যন্তরীণ খাত অর্থাৎ ট্যাক্স, শুল্ক থেকে আহরণ পদ্ধতি জোরদার করে ট্যাক্স : প্রবৃদ্ধি অনুপাত বাড়াতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কিন্তু রেমিট্যান্স আয়ে প্রভাব পড়তে পারে। বৈশিক কারণে সংকটে থাকা জ্বালানি সরবরাহ মহামারিতে রূপ নেওয়ায় রফতানি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সরকারকে অবশ্যই জ্বালানি বিদ্যুৎ খাতকে প্রাধিকার দিতে হবে। আর সে কারণে জ্বালানি আমদানির ওপর থেকে শুল্ক কর কমানো বা পরিহার করতে হতে পারে। আর সব ক্ষেত্রেই পরিবেশকে গুরুত্ব দিতে হবে।

কিন্তু বাংলাদেশের প্রাধিকার খাতগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি আর খাদ্য। সঙ্গে যোগ করুন পরিবেশ। পরস্পর নির্ভরশীল এ খাতগুলোকে সমন্বিত করেই সুষম বাজেট সংস্থান করতে হবে। ভেঙে পড়া শিক্ষা আর স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নকে বাস্তবসম্মত করতে হবে। আর কৃষি, খাদ্য আর পরিবেশ খাত একই সঙ্গে এগিয়ে না গেলে শিক্ষা আর স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন টেকসই হবে না। দেশের প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আদর্শ মানব সম্পদ সৃষ্টি করতে পারছে না। শিক্ষক এবং শিক্ষার মান নিয়ে নানা কথা বলা হলেও শিক্ষকদের জীবন মান উন্নয়ন না হলেও শিক্ষার উন্নয়ন হবে না। পাশাপাশি শিক্ষাক্রম যুগোপযোগী এবং আধুনিক হতে হবে। কারিগরি শিক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। প্রাথমিক পর্যায় থেকেই ছেলে মেয়েদের স্বাস্থ এবং পরিবেশ সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে। 

শিক্ষার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত স্বাস্থ্য। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উন্নয়ন প্রয়োজন। সাধারণ জনসাধারণের জন্য সরকারি হাসপাতালগুলোর নিজেদের স্বাস্থ্যই রুগ্ণ জরাগ্রস্ত। ক্ষণে ক্ষণে দূরারোগ্য ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। আশা করি, সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে মৌলিক পরিবর্তন এনে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে। দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

কৃষি ও খাদ্য খাত বাংলাদেশের পরিশ্রমী আর উদ্যমী কৃষকদের অবদানে অনেক এগিয়েছে। প্রয়োজন কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ, সেচ, বীজ, সার সরবরাহ ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা, কৃষির আধুনিকায়ন। হাওর অঞ্চলে স্বল্প সময়ে চাষ উপযোগী ধানের উদ্ভাবনে প্রণোদনা দেওয়া। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কৃষিপণ্যের সাপ্লাই চেইন থেকে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নির্মূল।

উপরের সবকিছুর সঙ্গেই জড়িত বিদ্যুৎ আর জ্বালানির উন্নয়ন। বিগত সময়ের ভ্রান্ত নীতির কারণে দেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ কয়লা গ্যাসের ন্যূনতম আহরণ আর উন্নয়ন হয়নি। ক্রমাগত আমদানিনির্ভর হয়ে পড়া জ্বালানি বিদ্যুৎ খাত সংকটে ফেলেছে শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সব ক্ষেত্রে। বাজেটে অবশ্যই নিজেদের জ্বালানিসম্পদ আর উন্নয়নকে প্রাধিকার দিতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নকে ব্যাপক প্রণোদনা দিতে হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে হবে।

চাহিদা বহুমুখী এবং ব্যাপক কিন্তু সামর্থ্য সীমিত। বৈশ্বিক কারণে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সহায়তার সম্ভাবনা উৎসাহ ব্যঞ্জক নয়। একটা বস্তায় একটি সুষম বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়ন করে বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা আশা করছি।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)