স্তন ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 13-05-2026

স্তন ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো

যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি ফাইজার স্তন ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন প্রজন্মের পরীক্ষামূলক ওষুধ অ্যাটিরমোসিক্লিব নিয়ে দ্বিতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আশাব্যঞ্জক ফলাফল ঘোষণা করেছে। গত ২৭ এপ্রিল প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওষুধটি উন্নত বা মেটাস্টেটিক স্তন ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে রোগের অগ্রগতি বা মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম হয়েছে। ফোরলাইট-ওয়ান নামের এ র‌্যান্ডমাইজড ট্রায়ালটি পরিচালিত হয়েছে ১৪টি দেশে এবং এতে মোট ২৬৪ জন রোগী অংশ নেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন হরমোন রিসেপ্টর পজিটিভ (এইচআর+) এবং এইচইআর টু নেগেটিভ স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী, যাদের আগে সিডিকে ফোর/সিক্স ইনহিবিটর ভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। এ রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণত রোগ দ্রুত অগ্রসর হয়, তাই এটি চিকিৎসার দিক থেকে একটি উচ্চ ঝুঁকির রোগী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত। 

গবেষণায় দেখা যায়, অ্যাটিরমোসিক্লিব ও ফুলভেস্ট্র‍্যান্টের সমন্বিত চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে রোগের অগ্রগতি ধীর করেছে এবং প্রগ্রেশন-ফ্রি সারভাইভাল (পিএফএস) ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখিয়েছে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা শুরুর তিন মাসের মধ্যেই অধিকাংশ রোগী ৯০ শতাংশের বেশি আগের সিডিকে ফোর/সিক্স থেরাপি থেকে সরাসরি এ নতুন চিকিৎসায় স্থানান্তরিত হন, যা দ্রুত ক্লিনিক্যাল গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত দেয়। 

ওষুধটির কার্যকারিতার পাশাপাশি নিরাপত্তা প্রোফাইলও সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। মাত্র ৬ দশমিক ৪ শতাংশ রোগী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে চিকিৎসা বন্ধ করেছেন। গবেষণায় নতুন কোনো গুরুতর নিরাপত্তা সংকেত পাওয়া যায়নি, যা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। ফাইজারের অনকোলজি বিভাগের প্রধান জেফ লেগোস বলেন, এ ফলাফল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ গবেষণাটি এমন রোগীদের ওপর করা হয়েছে যাদের রোগ আগের সিডিকে ফোর/সিক্স ইনহিবিটর চিকিৎসার পরও দ্রুত অগ্রসর হয়েছিল। তিনি বলেন, অ্যাটিরমোসিক্লিব ভবিষ্যতে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় একটি নেক্সট-জেনারেশন ব্যাকবোন থেরাপি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। 

অ্যাটিরমোসিক্লিব হলো একটি মুখে খাওয়ার পরীক্ষামূলক ওষুধ, যা সিডিকে ফোর নামের সেল সাইকেল নিয়ন্ত্রণকারী এনজাইমকে লক্ষ্য করে কাজ করে। এ এনজাইম ক্যানসার কোষের বিভাজন ও বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রচলিত সিডিকে ফোর/সিক্স ইনহিবিটরের তুলনায় এটি আরো নির্দিষ্টভাবে সিডিকে ফোর লক্ষ্য করে কাজ করতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা, যা কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। 

গবেষকরা আরো জানান, এ ওষুধটি এইচআর, এইচইআর টু নেগেটিভ স্তন ক্যানসারের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ ধরনের ক্যানসার বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং সময়ের সঙ্গে চিকিৎসা প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তাই নতুন প্রজন্মের ওষুধের প্রয়োজন দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। বর্তমানে অ্যাটিরমোসিক্লিব নিয়ে একটি বড় আকারের ফেজ ৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে, যেখানে প্রথম ধাপের মেটাস্টেটিক রোগীদের ওপর এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ের স্তন ক্যানসারেও এর ব্যবহার নিয়ে আলাদা গবেষণা চলছে, যার ফলাফল ভবিষ্যতে প্রকাশ করা হবে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের ফলাফল, তবুও এই ধরনের সাফল্য ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। কারণ সিডিকে ইনহিবিটর শ্রেণির ওষুধ ইতিমধ্যেই চিকিৎসার মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মের এ ওষুধ সেই ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করতে পারে। তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে বড় পরিসরের ফেজ ৩ ট্রায়ালের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে ফলাফলের ওপর নির্ভর করেই নির্ধারণ হবে অ্যাটিরমোসিক্লিব ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় কতটা কার্যকরভাবে যুক্ত হতে পারবে। সব মিলিয়ে, ফাইজারের এ নতুন গবেষণা স্তন ক্যানসার চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে রোগীদের জন্য আরো কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। 


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)