আপনাদের মধ্যে অনেকেই বসুন্ধরার বিরুদ্ধে প্লট বা জমি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। আপনাদের মন্ত্রী বা প্রবাসীদের মন্ত্রী হিসাবে আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বসুন্ধরার মতো একক ব্যক্তিগত রাজত্ব আর বাংলাদেশে থাকবে না-এটা আপনাদের সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই। আমাদের আরো কিছুদিন সময় দিতে হবে। গত ১০ মে সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সোসাইটি আয়োজিত উডসাইডের গুলশান টেরেসে এক মতবিনিময় সভায় প্রবাসী কল্যাণ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ সব কথা বলেন।
বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, ডা. ওয়াদুদ ভূঁইয়া, ডা. হামিদুজ্জামান, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রানা ফেরদৌস চৌধুরী, মোহাম্মদ হোসেন খান, বংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আজিমুর রহমান বোরহান, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাঈম টুটুল, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য আতোয়ারুল আলম, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য আব্দুর রহিম হাওয়লাদার,, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য কাজী আজহারুল হক মিলন, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য আহসান হাবিব, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, সোসাইটির সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের (একাংশ) সভাপতি বদরুল হোসেন খান, বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরি কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর সরওয়ার্দী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বিশ্বাস, বেদারুল ইসলাম বাবলা, বাবরুল হোসেন বাবরুল, আলী ইমাম শিকদার, জসীম ভূঁইয়া, বাসিত রহমান, এমএ বাতিন, সাইফুর খান হারুণ, ফয়েজ চৌধুরী, আবু সাঈদ আহমেদ, সন্দ্বীপ সোসাইটির সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, শেকিল চৌধুরী, ব্যারিস্টার মাহবুবার রহমান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি নিজেও একজন প্রবাসী। সুতরাং প্রবাসীদের সুবিধা- অসুবিধার কথা আমি জানি। আগে যে অবস্থা ছিল এখনো একই অবস্থা। তবে আমি আপনাদের ভাই। ভাই হিসেবে বলতে পারি আমাদের কিছুদিন সময় দেন, আপনারা পরিবর্তন দেখতে পাবেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতে না আসতেই মধ্যপাচ্যে যুদ্ধ লেগে গেল আমাদের পরিস্থিতি সামলাতে হচ্ছে। আপনারা জানেন, মধ্যপাচ্যে আমাদের শ্রমিক মারা গেল, অনেক বিপদে পড়লো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের ডেকে মৃতদের লাশ এনে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দিতে বললেন, সেই সঙ্গে দেওয়া হলো আর্থিক অনুদান। তিনি বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। প্রবাসীদের এনআইডি দেওয়া হচ্ছে, প্রবাসী কার্ড দেওয়া হবে। এ কার্ড দিয়ে আপনারা এয়ারপোর্ট দিয়ে বিনা বাধায় চলে যেতে পারবেন। প্রবাসীদের জন্য তিনটি এয়ারপোর্টে আলাদা লাউঞ্চ করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের সরকার বিদেশে লোক পাঠানোর জন্য কয়েকটি ভাষা ও কাজ শেখানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, আপনাদের মধ্যে অনেকেই বসুন্ধরার বিরুদ্ধে প্লট বা জমি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। আপনাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের কিছুদিন সময় দেন আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে। তবে এককথা পরিষ্কারভাবে বলতে পারি, বাংলাদেশে বসুন্ধরার মতো এক রাজত্ব থাকবে না। নিউ ইয়র্ক-ঢাকা-নিউ ইয়র্ক রুটে বিমান নিয়ে তিনি বলেন, এটার জন্য আরো সময় প্রয়োজন। আমরা এ নিয়ে কাজ করছি। প্রবাসীদের সম্পত্তি নিয়ে তিনি বলেন, এটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হয়। তারপরও কেউ আত্মসাৎ করতে চাইলে আমাকে ই-মেইল করবেন। আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তিনি বলেন, আমাকে ফোন দেবেন না, কারণ ফোন ধরার সময় নেই। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রবাসী ব্যাংক গঠনের কথা বলেছেন, যাতে আপনারা অ্যাকাউন্ট করতে পারেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করবো। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ পথে অর্থ প্রেরণ করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষে যে ৯টি দাবি দেওয়া হয়, তা নিয়ে কাজ করার অশ্বাস প্রদান করেন মন্ত্রী।
বাংলাদেশে সোসাইটির পক্ষে দাবিনামা তুলে দেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীসহ অন্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের সদস্য ছাড়া ওবিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষে মন্ত্রীকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। ক্রেস্ট প্রদান করেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ অন্য অতিথিরা।