অবৈধ অভিবাসীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের মধ্যে ফ্লোরিডার করা একটি বহুল আলোচিত মামলা খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটনে অবৈধভাবে দেশে থাকা ব্যক্তিদের কমার্শিয়াল ট্রাক চালানোর লাইসেন্স দিচ্ছে, এমন অভিযোগ এনে ফ্লোরিডা সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করেছিল। সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার, ২৬ মে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের করা মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে। মামলায় ফ্লোরিডা অভিযোগ করেছিল, ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের কমার্শিয়াল ট্রাক চালানোর লাইসেন্স দিয়ে ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করছে।
সুপ্রিম কোর্ট কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ফ্লোরিডার আপিল আবেদন নাকচ করে দেয়। তবে আদালতের রক্ষণশীল বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস পৃথক মতামতে জানান, তিনি মামলাটি শুনানির পক্ষে ছিলেন। তার সঙ্গে একমত হন আরেক রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো। বিচারপতি থমাস তার মতামতে লেখেন, ফ্লোরিডার দাবিগুলো শোনার মতো আর কোনো আদালত নেই, তবুও এই আদালত মামলাটি শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মামলাটি গত বছরের একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার পর ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই দুর্ঘটনায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত ট্রাকচালক হারজিন্দার সিং জড়িত ছিলেন। ফ্লোরিডায় সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষের দাবি, সিংয়ের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ছিল না, তবুও তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটন থেকে কমার্শিয়াল ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি এ ঘটনায় ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি।
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়ার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি দায়ের করেন। সাধারণত এ ধরনের মামলা নিম্ন আদালত হয়ে সুপ্রিম কোর্টে আসে। তবে অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যকার বিরোধে বিশেষ পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে, যদিও এমন ঘটনা খুবই বিরল। ফ্লোরিডার অভিযোগ ছিল, ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটন ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন অমান্য করে এমন ব্যক্তিদের লাইসেন্স দিচ্ছে, যাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ বা ইংরেজিতে রাস্তার সাইনবোর্ড বোঝার সক্ষমতা নেই। এর ফলে আন্তঃরাজ্য মহাসড়কে জননিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে দাবি করে ফ্লোরিডা। আইওয়াসহ আরও ১৬টি অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডার পক্ষে সমর্থন জানায়।
অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটনের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, মামলাটির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। ওয়াশিংটনের অ্যাটর্নি জেনারেল নিকোলাস ব্রাউন তার লিখিত বক্তব্যে এটিকে বাস্তব আইনি দাবি নয়, বরং রাজনৈতিক স্টান্ট বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল ফক্স নিউজ উপস্থাপক শন হ্যানিটির অনুষ্ঠানে গিয়ে মামলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বর্তমানে পূর্ণ মেয়াদের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেমস উথমেয়ার। গত বছর ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডি স্যান্টিস তাকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি বরাবরই ইমিগ্রেশনসহ বিভাজনমূলক রক্ষণশীল ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত।
এদিকে দুর্ঘটনার পর অবৈধ ইমিগ্রেশন নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর ইমিগ্রেশন নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ও নিউ মেক্সিকোকে সতর্ক করে জানায়, কমার্শিয়াল চালকদের জন্য ইংরেজি ভাষার বাধ্যতামূলক শর্ত কার্যকর না করলে তাদের ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।