কেমন ছিল তারেক রহমান সরকারের প্রথম ১০০ দিন


বিশেষ প্রতিনিধি , আপডেট করা হয়েছে : 27-05-2026

কেমন ছিল তারেক রহমান সরকারের প্রথম ১০০ দিন

১০০ দিনে তারেক রহমান সরকারের মন্ত্রিসভার নেওয়া ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ৬২ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। গত ২৫ মে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে করবী সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র এ তথ্য দেন। 

তিনি বলেন, সরকার একদিকে মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যার প্রতিফলন গত ১০০ দিনের উদার ও সহিষ্ণুতার নতুন মানদণ্ডে বারবার প্রতীয়মান হয়েছে। অন্যদিকে বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার, বিদ্বেষ বা বিষোদগারের যে রাজনীতি একটি গোষ্ঠীর অপকৌশলে পরিণত হয়েছে, সে চর্চা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গুম-খুন, হামলা-মামলা এবং দমনপীড়নের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি কেবিনেট সভা সম্পন্ন করেছে। এসব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত, অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ, ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সরকার গঠনের পর এতো স্বল্প সময়ে মন্ত্রিসভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের উল্লেখযোগ্য অংশ কার্যকর করতে সক্ষম হওয়া সরকারের দ্রুততা, কার্যকারিতা ও আন্তরিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। 

সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সফলতা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মাত্র ১০০ দিনের পথচলায়ই দেশের নানা ক্ষেত্রে দৃশ্যমান, সুস্পষ্ট ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। একই সঙ্গে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষমতায়ন, আশা-আকাঙ্খা ও প্রত্যাশার এক নতুন, দৃঢ় ও ইতিবাচক মেলবন্ধন। 

গৃহীত বহুমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে জনজীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও শৃঙ্খলা। সরকারের রূপকল্পে দেশের ২০ কোটি মানুষ যদি একসঙ্গে কাজ করে, তরুণ ও নারীরা যদি ক্ষমতায়িত হন, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা অবশ্যই একটি মর্যাদাশীল ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হব। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করে, গণতন্ত্র সুসংহত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এমন নীতিগত সহায়তা প্রদান করা, যেখানে দলমত-ধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক বৈষম্যহীনভাবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ পান এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে পারেন। 

জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ১৬ বছরের গণতান্ত্রিক পথচলায় শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অঙ্গীকারবদ্ধ। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত- এ সম্মিলিত শক্তিই দেশের অগ্রগতির মূলভিত্তি। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। 

গত ১২ ফেব্রুয়ারির এয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন হয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে কার্যালয়ের করবী হলে। আগামী ২৭ মে সরকারের বয়স ১০০ দিন হবে। 

‘১০০ দিনে অনেক মানুষের সমস্যার সমাধান হয়েছে’

মাহদী আমিন বলেন, সরকারের ১০০ দিনের কর্মসূচিকে মোটা দাগে মূল্যায়নে এতটুকুই বলব, প্রথম ১০০ দিনে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর যে দ্রুত দৃশ্যমান এবং কার্যকর বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন.. খুব স্বল্প সময়ে তাতে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে, সমস্যার সমাধান হচ্ছে। খেটে খাওয়া প্রান্তিক তৃণমূলের মানুষ আরো বেশি স্বাবলম্বী স্বনির্ভর হয়ে উঠছেন বলে আমি মনে করি।

 ‘হামের টিকা প্রসঙ্গে’

মাহদী আমিন বলেন, আমরা ইতিমধ্যে দেখেছেন যে, হামের টিকা বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছি এবং গত তিন মাসে প্রায় শতভাগ শিশুকে হামের টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। অ্যাজ অ্যা ফরওয়ার্ড লুকিং গভর্নমেন্ট আমরা নিশ্চিত করতে চাচ্ছি ভবিষ্যতে যেন আর কখনো এ বিষয়টি না ঘটে। 

ব্যাকওয়ার্ড লুকিং ইনভেস্টিগেশনের যে প্রশ্নটা করেছেন, সেটা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, যারা নীতিনির্ধারক রয়েছেন তাদের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য রয়েছে। আমার কাছে সে তথ্যটা নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সবাই মিলে যেন হাম থেকে শিশুদের রক্ষা করা যায় এবং সবার জন্য টিকার ব্যবস্থা করা যায়, আমাদের ডিপ্লোমেসির পার্ট হিসেবেও আমরা সে টিকাগুলোকে দ্রুতভাবে এনে সবার জন্য নিশ্চিত করছি। আমরা এতোটুকু কথা দিতে পারি ইনশাআল্লাহ সামনের দিনগুলোতে বা অন্য যেকোনো রোগ থেকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, কীভাবে প্রতিটি পরিবারের নিশ্চয়তা নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে পারি সেগুলো নিয়ে আমাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ চলমান রয়েছে। 

‘অপতথ্যে চরিত্র হনন প্রসঙ্গে’

মাহদী আমিন বলে, ঐতিহ্যগতভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সময় প্রতিটি নির্বাচিত বিএনপি সরকার কিন্তু সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিল, সে ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিএনপি সরকারও কিন্তু বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য অনেকেই সে বাকস্বাধীনতাকে অপব্যবহার করছে। আপনি যেটা বললেন, অশালীন আচরণ করা, সংবেদনশীলভাবে অপপ্রচার করা কিংবা চরিত্র হনন করা সুনির্দিষ্টভাবে এগুলো কখনোই বাক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত না। আমরা একই সঙ্গে যেমন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তেমনি প্রতিটি মানুষের কিন্তু সম্মান মর্যাদা সুরক্ষা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। মাত্র তিন মাস সময় হলো স্বাভাবিকভাবেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এখন এ বিষয়গুলো নিয়ে ডিটেইল কাজ শুরু হয়নি। তবে অনেক ভুক্তভুগী রয়েছেন যারা চরিত্র হননের শিকার হচ্ছেন, যারা মিসই ইনফরমেশন ডিসইনফরমেশনের ভিকটিম হচ্ছেন এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যারা রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও অপরাজনীতি বা অপকৌশলের মাধ্যমে যেভাবে বিষোক্তি এবং বিষোদগার করা হচ্ছে সেটি গণঅভ্যুত্থানে কোনোভাবে কাম্য নয়। 

তিনি বলেন, একটি স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার অংশ হিসেবে জনগণের অধিকার এবং স্বাধীনতা যদি আমাদের সুরক্ষিত রাখতে হয় সেটি যেমন শারীরিকভাবে প্রয়োজন সেটি যেমন বাস্তব জীবনে প্রয়োজন, সাইবার স্পেস বা অনলাইনেও কিন্তু সরকারের দায়িত্ব প্রত্যেককে সুরক্ষা দেওয়া। সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি এবং ইনশাল্লাহ সামনের দিনগুলোতে আমরা দেখব যতটা সম্ভব কিভাবে প্রতিটি মানুষের মর্যাদা সম্মানকে অক্ষুণ্ন রাখা যায়, কিভাবে যারা এ ধরনের বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার এবং লিপ্ত তাদের কীভাবে বাকস্বাধীনতা হরণ করা, যেভাবে তারা করছেন সেখান থেকে একটা প্রক্রিয়ার ভেতর আনা যায় সেগুলো হয়তো সামনের দিনগুলোতে কাজ করা হবে। তবে এ মুহূর্তে আমি বরং আপনাদের কাছে প্রশ্ন করছি বাকস্বাধীনতা বলতে আসলে আমরা কি বুঝি? চরিত্র হন করা অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলা, অশালীন আচরণ করা এটা কি বাকস্বাধীনতা হতে পারে?

বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার রোধে আইনি সংস্কারের অংশজনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মূখপাত্র। 

বাকস্বাধীনতা নামে যে অপপ্রচার করছে এটা নিয়ে তো আমরা সবাই কমবেশি অবহিত রয়েছি এজন্য স্বাভাবিকভাবে কিছু আইনি সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে এগুলো নিয়ে হয়তো সামনের দিনগুলোতে অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে সমন্বিত একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে, এটি জনগণের দ্বারা ক্ষমতায়িত সরকার। জনগণ যদি প্রত্যাশা করে সেই ধরনের আইন আসবে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে। অবশ্যই সেই ধরনের আইন নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করা হবে। তবে কোন আইন বিএনপি সরকার কখনোই ওপর থেকে চাপিয়ে দেয়নি। ঐতিহ্যগতভাবে কিন্তু বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের মাধ্যমে সেটি সম্পন্ন হয়েছে। আজকে যেন জনআকাক্সক্ষা সেটা সবাই সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিত করছেন, আজকে যেন জন আকাক্সক্ষা সেটি সাইবার স্পেসে নারীরা ওনাদের সম্মান এবং মর্যাদা ধরে রাখতে চান, আজকে যে জন আকাক্সক্ষা সেখানে সমাজের প্রতিটি মানুষ চান যেন চরিত্রহরণ তাদের না করা হয়, যেমন কোনো অপপ্রচারের শিকার তারা না হতে চান। সুতরাং জনগণের সরকার হিসেবে ভবিষ্যতে এ নিয়ে যদি অংশীজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে হয়, সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারের মাত্র তিন মাস সময় হলো সেভাবে দৃশ্যমান অগ্রগতি এখানে এখন পর্যন্ত করা হয়নি। 

‘সাগর-রুনি হত্যার বিচার সরকারের অগ্রাধিকার’

সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে কথা বলেছেন। আমরাও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষার অংশ হিসেবে এটিকে বড় বাধা হিসেবে দেখছি। সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য আমার কাছে নেই। যারা আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে। সরকারের অংশীদার হিসেবে আমরা সবাই মনে করি, অবশ্যই সাগর-রুনি হত্যার বিচার হওয়া উচিত। এটা আমাদের অগ্রাধিকার। এটা আমরা নির্বাচনের সময়েও বলেছি, এখনো বলছি। আমার ধারণা সামনের দিনগুলো এখানে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চয়ই আপনারা দেখতে পারবেন। 

‘ঈদযাত্রায় প্রাণহানি প্রসঙ্গে’

মাহদী আমিন বলেন, দেখুন, যে কোনো মৃত্যুই তো অত্যন্ত দুঃখজনক। দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে আমাদের সর্বোচ্চ প্রাধান্যই থাকবে যেন নিরাপদ সুরক্ষিতভাবে আমাদের মানুষ যার যার এলাকায় ফেরত যেতে পারেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদটা উচ্চমুক্তভাবে পালন করতে পারেন। এবার কিন্তু ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে, বগির সংখ্যা নারীদের জন্য আলাদাভাবে বাড়ানো হচ্ছে। উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কিভাবে আমরা বাস এবং ট্রেনের শিডিউলগুলাকে ম্যানেজ করতে পারি। যে টাইমগুলো আছে সেগুলোকে এডজাস্ট করার কোন সুযোগ আছে কিনা? যেখান থেকে ছেড়ে যাচ্ছে সেখানে কি নিরাপত্তা বেষ্টনি বাড়ানোর সুযোগ আছে কিনা? অবশ্যই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা এবং আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী ঈদ তো আরো কয়েকটা দিন আছে এর মাঝে ইনশাআল্লাহ অবস্থা দৃশ্যমান উন্নতি আপনাদের চোখে পড়বে। 

সরকারের ১০দিনের কর্মসূচির মধ্যে শ্রমবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে দেশব্যাপী শ্রমিকদের ঈদের আগে বেতন, ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ, সাধারণ হজযাত্রীদের বিমানভাড়া কমানো, বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আনতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করা, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু করা, বিমানবন্দর ও ট্রেনে হাই-স্পিড ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যখাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিতের উদ্যোগ, গ্রহণ শিশু রামিসার হত্যাকারীর বিচার দ্রুত করার উদ্যোগ,বাংলাদেশি পাসপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা, অর্থনৈতিক খাত, ব্যাংকিং, ও সামগ্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সফলভাবে জব্দ করা, সফলভাবে ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে ১০টি দেশের মধ্যে ৩টি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত এবং বাকি দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায় নিয়ে আসা, সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং রফতানি আয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি, প্রায় দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া, বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ, সংসদ কার্যকর করা, জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ গ্রহন প্রভৃতি পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। 

তিনি বলেন, আসুন, আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গড়ে তুলি একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও স্বচ্ছল বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা নিজেদের ও পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাই, সমস্যার সমাধান করি এবং উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিই। আর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করে, আমাদেরকে অবশ্যই একই সঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, এবং জনগণের সর্বাঙ্গীন কল্যাণকে। 

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সূচনা বক্তব্যে দেশকে সবুজায়ন করতে প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, বিএনপি সরকার বৃক্ষ প্রেমী সরকার। 

উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, মো. ‍সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, সহকারি প্রেস সচিব আশরোফা ইমদাদ, নাজমুল হক খান ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার। 


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)