নতিপত্রহীন আটক অভিবাসীদের প্রতি অমানবিক আচরণ ও কঠোর পরিস্থিতির প্রতিবাদে নিউ জার্সির নিউয়ার্কে অবস্থিত আইস পরিচালিত ডিলানি হল অভিবাসন আটক কেন্দ্রকে ঘিরে ২৯ মে শুক্রবার থেকে বিক্ষোভের শুরু হলে বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি পাল্টা বিক্ষোভ শুরু করেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সমর্থক। চলমান বিক্ষোভের মুখে ৩০ মে শনিবার কেন্দ্রটির বাইরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সমর্থক ও বিরোধী দুই পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এলাকাজুড়ে রাতের কারফিউ জারি করেছে। নিউয়ার্কের মেয়র রাস বারাকা ঘোষণা দেন যে ডিলানি হল কেন্দ্রের আশপাশে রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রের চারপাশে আধা মাইল এলাকাজুড়ে এ কারফিউ প্রযোজ্য হবে।
মেয়র বারাকা এক বিবৃতিতে বলেন, ডিলানি হলকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান অবনতি এবং পুলিশের বারবার হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কারণে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকে তুলে ধরে। নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্ট অভিযোগ করেন, ৩০ মে শনিবার রাতে কিছু বিক্ষোভকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আন্দোলনকারীদের মাঝে স্থাপিত ব্যারিকেডে হামলা চালায়, পুলিশ সদস্যদের দিকে ধেয়ে যায়, বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে তিনি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সমর্থন জানিয়ে সহিংস কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেন।
এদিকে ডিলানি হলের বাইরে শনিবার সকাল থেকেই ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামসহ পুলিশ সদস্যরা কেন্দ্রের প্রবেশপথ ঘিরে রাখে। এক পর্যায়ে দীর্ঘ আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী ফেডারেল এজেন্ট এবং একটি সাঁজোয়া যানও সেখানে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
গত শুক্রবার নিউ জার্সির গভর্নর মাইকি শেরিল কেন্দ্রটির বাইরে একটি নিরাপদ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এলাকা গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ডিলানি হলে আটক ব্যক্তিদের অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন অধিকাংশ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের মত প্রকাশ করছেন এবং পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত না করার আহ্বান জানান।
গভর্নর শেরিল জানান, গত ২৯ মে রাতে পুলিশের ছত্রভঙ্গের নির্দেশ অমান্য করায় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজনই নিউ জার্সির বাইরের রাজ্য থেকে এসেছিলেন। তিনি বলেন, যারা বাইরে থেকে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চান, তারা এই পরিস্থিতির সমাধানে কোনো সহায়তা করছেন না।
নিউ জার্সি স্টেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খল আচরণ, অন্যের নিরাপত্তা বিপন্ন করা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে চারজন নিউ ইয়র্ক, একজন পেনসিলভানিয়া এবং একজন নিউ জার্সির বাসিন্দা।
গত কয়েকদিন ধরে ডিলানি হলকে ঘিরে উত্তেজনার মূল কারণ হলো আটক ব্যক্তিদের অভিযোগ। বিক্ষোভকারীরা দাবি করছেন, কেন্দ্রটির ভেতরে অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশ বিরাজ করছে এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)।
গত শনিবার বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ‘ডিলানি হল বন্ধ করো, সবাইকে মুক্তি দাও এবং বর্ণবাদী ব্যবস্থা বন্ধ করো’ স্লোগান দেন। অনেকের হাতে আইসিই আউট নাউ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি দল ডিপোর্টেশনের বিরুদ্ধে চিকিৎসক এবং ডিপোর্টেশনের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যকর্মী লেখা ব্যানার নিয়ে অংশ নেয়।
বিক্ষোভকারী ডানা নামের এক নারী বলেন, অনেক আটক ব্যক্তি কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত নন, তবুও তারা দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছেন। তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে এভাবে আচরণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। অভিবাসন নিয়ে আপনার মতামত যাই হোক না কেন, সবাই মানুষ।
আরেক বিক্ষোভকারী জ্যাকুলিন কালদেরোনে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এমন মানুষকে চেনেন যাদের সম্প্রতি আইসিই আটক করেছে। তার মতে, অধিকাংশ অভিবাসী উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে আসে এবং তাদেরও ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
অন্যদিকে আইসিই সমর্থকরা মার্কিন পতাকা নিয়ে ইউএসএ, ইউএসএ স্লোগান দেন এবং সাপোর্ট আইসিই ও মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন লেখা ব্যানার বহন করেন। তাদের বক্তব্য, আইসিই কর্মকর্তারা শুধু তাদের দায়িত্ব পালন করছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।