আইসবিরোধী কর্মী কর্সেলিয়াসের ফেডারেল আদালতে মামলা


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 03-06-2026

আইসবিরোধী কর্মী কর্সেলিয়াসের ফেডারেল আদালতে মামলা

মিনেসোটার টুইন সিটিজ এলাকার শ্রমিক সংগঠক, মুসলিম ও আরব-আমেরিকান অধিকারকর্মী এবং আইস ডাইভেস্টমেন্ট আন্দোলনের সমর্থক জ্যানেট জাহিয়া কর্সেলিয়াসের যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম ও চতুর্থ সংশোধনীসহ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গোপনীয়তা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার দাবিতে ফেডারেল আদালতে একটি নাগরিক অধিকার মামলা দায়ের করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার)-এর মিনেসোটা শাখা এবং কেয়ার লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড মামলাটি দায়েরের ঘোষণা দিয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস), ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই), ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) এবং সংশ্লিষ্ট ফেডারেল কর্মকর্তারা কর্সেলিয়াসের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছেন। মামলায় ডিএইচএস সেক্রেটারি মুলিন এবং অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মামলার নথি অনুযায়ী, মিনিয়াপোলিস সিটি কাউন্সিল সম্প্রতি একটি ভেটো-প্রুফ প্রস্তাব পাস করে, যাতে ইউরোপীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিএইচএস ও আইসিইর প্রধান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল পালান্টিয়ার টেকনোলজিস, জিও গ্রুপ, কোরসিভিক এবং কেসিআই ইন্টারন্যাশনাল।

জ্যানেট কর্সেলিয়াস ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ইউরোপ সফরে যান এবং সেখানে মিনিয়াপোলিস সিটি কাউন্সিলের গৃহীত একটি ডাইভেস্টমেন্ট প্রস্তাবের পক্ষে প্রচারণা চালান। ওই প্রস্তাবে ইউরোপীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিএইচএস ও আইসিইর সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছিল। সফরের সময় তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক লিফলেট, পুস্তিকা ও প্রচারসামগ্রী সংগ্রহ করেন। ৩০ এপ্রিল মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় ফেডারেল কাস্টমস কর্মকর্তারা তাকে থামিয়ে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তার লাগেজ দুইবার তল্লাশি করেন, তার মোবাইল ফোন জব্দ করেন এবং তার কাছে থাকা সব রাজনৈতিক কাগজপত্র ও প্রচারসামগ্রী নিয়ে নেন। কর্মকর্তারা কেন এসব সামগ্রী জব্দ করা হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি এবং কখন সেগুলো ফেরত দেওয়া হবে তাও জানাননি।

মামলায় বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে কর্সেলিয়াসের বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে তার মোবাইল ফোনে একটি উন্নত ফরেনসিক অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, এ তল্লাশি বা জব্দ কোনো এলোমেলো বা রুটিন সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম ছিল না; বরং ডিএইচএস ও আইসির বিরুদ্ধে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তার সঙ্গে থাকা রাজনৈতিক সাহিত্যই তাকে লক্ষ্যবস্তু করার কারণ ছিল। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকারি কর্মকর্তারা তার রাজনৈতিক মতামত ও কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেন।

কর্সেলিয়াসের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী বা ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট লঙ্ঘিত হয়েছে। কারণ সরকারের সমালোচনা করা, আইস ও ডিএইচএস থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের পক্ষে প্রচারণা চালানো এবং রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করা একজন মার্কিন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। মামলায় বলা হয়েছে, কাস্টমস চেকপয়েন্টকে ব্যবহার করে একজন রাজনৈতিক কর্মীকে তার মতপ্রকাশের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত।

একই সঙ্গে মামলায় সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী বা ফোর্থ অ্যামেন্ডমেন্ট লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে। বাদীপক্ষের বক্তব্য, কর্সেলিয়াসের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ ছিল না এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত কোনো অপরাধে জড়িত থাকার যৌক্তিক সন্দেহও দেখানো হয়নি। তারপরও তার মোবাইল ফোন জব্দ করা এবং ব্যক্তিগত তথ্য অনুসন্ধান করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি অযৌক্তিক তল্লাশি ও জব্দের শামিল এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সাংবিধানিক সুরক্ষা লঙ্ঘন করে।

মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়েছে যে, কর্সেলিয়াসের রাজনৈতিক সাহিত্য জব্দ করা এবং তার রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা ছিল রাজনৈতিক বৈষম্যের একটি উদাহরণ। বাদীপক্ষের দাবি, সরকার তার মতাদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যা নাগরিক অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার নীতির পরিপন্থী। এছাড়া জব্দকৃত সম্পত্তির বিষয়ে কোনো লিখিত কারণ না দেওয়া এবং ফেরতের কোনো সময়সীমা না জানানোকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া বা ডিউ প্রসেস লঙ্ঘন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

কেয়ার লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ডের আইনজীবী জন ফসাম বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের ক্ষমতা ব্যবহার করছে এবং সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করছে। তার মতে, কর্সেলিয়াসের মামলা শুধু একজন ব্যক্তির অধিকার রক্ষার বিষয় নয়, বরং সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর লড়াইয়ের অংশ। কেয়ার মিনেসোটার সিভিল রাইটস পরিচালক অ্যালেক শ বলেন, সরকারের সমালোচনা করা একটি গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ এবং মুসলিম ও আরব-আমেরিকানদের রাজনৈতিক মতপ্রকাশকে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

মামলায় আদালতের কাছে ডিএইচএস ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা, জব্দকৃত সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে আদালতের আদেশ, ক্ষতিপূরণ এবং আইনজীবী ফি প্রদানের আবেদন জানানো হয়েছে। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মামলাটির ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দর ও সীমান্তে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ডিজিটাল গোপনীয়তা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)