কর ব্যবস্থাপনার অত্যাবশ্যক সংস্কার না করে কর জিডিপি অনুপাত না বাড়িয়ে বিশাল বাজেট প্রণয়ন এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী হবে। বাস্তব পরিস্থিতিতে সরকারকে জ্বালানি বিদ্যুৎ খাত, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাখাতে বড় বরাদ্দ দিতে হবে, সোশ্যাল সেফটি নেটেও বড় বরাদ্দ প্রয়োজন। সবাই জানে কর কাঠামোর দুর্বলতার কারণে অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে রাজস্ব আয়ে প্রতি বছর ঘাটতি থাকে। রফতানিমুখী শিল্পগুলো জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকটে প্রতিযোগিতায় ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে। ভূরাজনীতির কারণে রেমিট্যান্স আয় কমে আসতে পারে। এমতাবস্থায় সরকারকে বাজেট প্রণয়নে কৌঁসুলি এবং বাজেট বাস্তবায়নে প্রো-অ্যাকটিভ হতে হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সূচিত মেগাপ্রকল্পগুলো শেষ করে এগুলো পরিচালনার পেশাদারি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্প খাতের সমস্যাগুলো সমাধান করে শিক্ষিত বেকারদের চাকরির সংস্থান করা প্রাধিকার হওয়া উচিত। অন্তত দুই বছর কোনো মেগা প্রকল্প গ্রহণ করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।
দেখছি সরকারের মন্ত্রীরা সমস্যায় পড়লেই সমস্যা সমাধানের বাস্তব কার্যক্রম গ্রহণ না করেই পূর্ববর্তী সরকারগুলোকে দোষারোপ করছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকট। নিজেদের জ্বালানি আহরণ এবং উন্নয়নের কার্যক্রম গুলো গতিময় করতে সংস্থাগুলোর সংস্কার করা জরুরি। পেট্রোবাংলা এবং কোম্পনিগুলোতে সঠিক পেশাদারদের দায়িত্ব দিয়ে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। সাগরে এবং স্থলভাগে তেল গ্যাস অনুসন্ধান গতানুগতিক ধারায় চলতে থাকলে ২০২৭-২০২৮ মহাসংকটে পড়বে জ্বালানি বিদ্যুৎ খাত। সরকারের সৌর বিদ্যুৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে স্রেডাকে ঢেলে সাজাতে হবে। বেসরকারি খাতকে যথাযথ প্রণোদনা দিতে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিদ্যমান অবস্থায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে বলে মনে হয় না। সরকার বাধ্য হয়েই গ্যাস বিদ্যুৎ, জ্বালানি মূল্য বাড়িয়েছে, হয়তো আরো বাড়াতে হবে। ফলশ্রুতিতে মুদ্রাস্ফীতি আর দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাবে। এমতাবস্থায় সরকারি ব্যয়ে সর্বোচ্চ কৃচ্ছ্রতা আনতে হবে।
আশা করছি, ভাবাবেগ বা ভুল পরামর্শে প্রভাবিত হয়ে বিশাল বাজেট প্রণয়ন করে বিপদ ডেকে আনবে না সরকার। সুষম বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ বান্ধব বাজেট প্রণয়ন করাই হবে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত। কর ব্যবস্থার যথাযথ সংস্কার করে কর আহরণ প্রয়োজনীয় মাত্রায় বাড়াতে হবে।
বাজেট অধিবেশন শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (২০২৬ সালের বাজেট অধিবেশন) শুরু হয়েছে। গত ৭ জুন বেলা ৩টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রথম বাজেট অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম দিনে সংসদে একটি শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়। এতে তোফায়েল আহমেদসহ ১৬ জন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক দিলারা হাফিজ (স্পিকারের স্ত্রী), পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
আগামী বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করবেন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করার পর এটিই হবে প্রথম বাজেট। এর আগে গত ৭ মে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেন। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয় গত ৩০ এপ্রিল। ওই অধিবেশনে ২৫ কার্যদিবসে মোট ৯৪টি বিল পাস হয়।