ঈদুল আজহার ছুটির আমেজ কাটেনি এখনো। উৎসবের এ আবহে মুখোমুখি হওয়া গেল হালের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাজিফা তুষির। তবে আর দশটা চেনা ঈদের আলাপ নয়, নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত পাঠকপ্রিয় দেশ পত্রিকার কাছে তিনি ধরা দিলেন একদম ভিন্নরূপে, অকপট ও স্পষ্টভাষী হিসেবে। সমসাময়িক ক্যারিয়ার, ব্যক্তিজীবন এবং ঈদ উদযাপনের খবরের পাশাপাশি কথা বললেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রূঢ় বাস্তবতা নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলমগীর কবির
প্রশ্ন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই আপনার পোশাক, লুক কিংবা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নানা মন্তব্য ও সমালোচনা হয়। বিষয়গুলোকে আপনি কীভাবে দেখেন বা সামলান?
নাজিফা তুষি: সত্যি কথা বলতে, আমি ফেসবুকটা ডিলিট করে দিতে চাই! কারণ এই প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছুই এখন আর আমার ভালো লাগে না। প্রতিনিয়ত এতো জাজমেন্ট বা বিচার-বিশ্লেষণ নেওয়াটা কঠিন।
প্রশ্ন: একজন অভিনেত্রী হিসেবে সমাজের যে একটা চেনা দৃষ্টিভঙ্গি আছে, সেটিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
নাজিফা তুষি: আমি অভিনয় করি, মানুষ আমাকে অভিনেত্রী বা নায়িকা বলে এটা আনন্দের। কিন্তু আমাদের সমাজে একটা ধারণা প্রচলিত আছে যে, নায়িকাদের সবসময় একটা নির্দিষ্ট ছাঁচে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে। সব সময় তৈরি হয়ে থাকতে হবে, একদম পুতুলের মতো পরিপাটি থাকতে হবে এই বিষয়গুলো আমার মোটেও ভালো লাগে না। সত্যি বলতে, এগুলোকে অনেক সময় এক ধরনের বোঝা মনে হয়।
প্রশ্ন: তার মানে কি আপনি সাজগোজ বা নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার বিরোধী?
নাজিফা তুষি: একদমই তা নয়। নিজের ইচ্ছায় সাজতে বা নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আপত্তিটা হলো সমাজের তৈরি করে দেওয়া নিয়মে। আমার যখন সাজতে ইচ্ছা করবে, আমি সাজব। সেটা একান্তই আমার নিজের ইচ্ছা হওয়া উচিত। কিন্তু অনেক সময় মনে হয়, মানুষ একজন নারীকে সবসময় নির্দিষ্ট একটা ফ্রেমের মধ্যেই দেখতে চায়। এই চাপটাই আমি পছন্দ করি না।
প্রশ্ন: সমাজের এই দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মাঝে কোনো পার্থক্য কি আপনার চোখে পড়ে?
নাজিফা তুষি: অবশ্যই পড়ে। নারীদের চেহারা, পোশাক ও উপস্থিতি নিয়ে সমাজে যে পরিমাণ বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়, পুরুষদের ক্ষেত্রে তা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। একটা ছেলেকে তো এতশত নিয়মের চাপ আর জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় না!
প্রশ্ন: এই সামাজিক চাপ বা ট্রোলিং আপনার ব্যক্তিগত জীবন ও ঈদ উদযাপনের আনন্দে কোনো প্রভাব ফেলে কি?
নাজিফা তুষি: কিছুটা তো ফেলেই, কারণ দিনশেষে আমরাও মানুষ। তবে আমি চেষ্টা করি এই উৎসবের দিনগুলোতে নেতিবাচকতা থেকে দূরে থাকতে। নিজের মতো করে, নিজের কাছের মানুষদের সাথে আনন্দ ভাগ করে ঈদ উদযাপন করতেই আমি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
প্রশ্ন: এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী বলে আপনি মনে করেন এবং অন্য নারীদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?
নাজিফা তুষি: আমার মনে হয়, এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের মেয়েদের আরো বেশি কথা বলা উচিত। সমাজে চাপিয়ে দেওয়া ফ্রেমের বাইরে গিয়ে নিজের মতো থাকার আত্মবিশ্বাসটা অর্জন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অন্য কে কী ভাবল তা নিয়ে না ভেবে, নিজের কমফোর্ট বা স্বস্তিটাকেই সবার আগে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।