পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতকে সুবিধা দেয়া হবে


বিশেষ প্রতিনিধি , আপডেট করা হয়েছে : 10-06-2026

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতকে সুবিধা দেয়া হবে

পদ্মা ব্যারেজও কোনো সুফল আনবে না। বরং গঙ্গা ব্যারেজের পরিবর্তে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নেয়ার মাধ্যমে ভারতকে সুবিধা দেয়া হবে। পদ্মা ব্যারেজ দেশের জন্য আরেকটি বিষফোঁড়া হতে যাচ্ছে শিরোনামে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভায় আলোচকরা এসব তথ্য তুলে ধরেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডীর সদস্য তুষার কান্তি দাসের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য আনু মুহাম্মদ, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি এসএম কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের আহ্বায়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমিরুল আলম খান, শিক্ষাবিদ আফজালুল বাসার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির উপদেষ্টা খোরশেদ আলম, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার আহবায়ক জাফর হোসেন, বাংলাদেশ জাসদের সহ-সম্পাদক ডা. মুশতাক হোসেন, তিস্তা রক্ষা কমিটির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সংগঠক রঘু অভিজিৎ রায়, কৃষিবিদ হারুন অর রশীদ, কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার ভূতত্ত্ব ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও পানি বিশেষজ্ঞ ড. মো. খালেকুজ্জামান এর ভিডিওকৃত বক্তব্য প্রচার করা হয়।জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণা বিভাগের ফেলো ড. নজরুল ইসলামের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ও সভা সঞ্চালনা করেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নজরুল ইসলাম।

আনু মুহাম্মদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৫৪ সালে ক্রুগ মিশন যে দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রণয়ন করা হয়েছিল যার মাধ্যমে বাঁধ, ব্যারেজ, স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছিল। আশির দশকের ফ্যাপ, তারপর ১০০ বছরের ডেল্টা প্লান ইত্যাদি একটা আরেকটার সাথে সম্পর্কিত। পাকিস্তান থেকে আলাদা হলেও আসলে আমরা পাকিস্তানের এক্সটেনশন হিসেবেই আছি। জনগণের কাছে নীতি নির্ধারণের কোন ভূমিকা থাকে না। তথ্য প্রকাশ করা হয় না, ইংরেজি ভাষায় করা হয় সম্ভাব্যতা যাচাই। সাধারণ জনগণ যা বোঝেন না। রাষ্ট্র ও আমলাতন্ত্র অনেক গোপনীয়তা রক্ষা করে। প্রকল্প নেয়া হয় পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। আবার নতুন কোন প্রকল্প নেয়ার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী প্রকল্পসমূহের ভাল-মন্দ বিশ্লেষণ করার কোন নজির সরকারের নেই। ইউএনডিপির একটা মূল্যায়ন করেছিল যাকে নেতিবাচক হিসেবে উত্থাপন করা হয়। আনু মুহাম্মদ তিস্তা ও পদ্মা ব্যারেজ, ইউএসএর সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি যাবতীয় তথ্য বাংলাভাষায় প্রকাশ করা হোক। জনগণকে অবহিতকরণ ছাড়া কোন চুক্তি বা প্রকল্প নেয়া যাবে না।

সভায় মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের মাধ্যমে যা কিছু করার চেষ্টা করছে সরকার তা সম্পূর্ণ দেশের স্বার্থ বিরোধী। আন্ত:দেশীয় নদীর ক্ষেত্রে অববাহিকাভিত্তিক আন্ত:দেশীয় প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। প্রকৃতির উপর ইঞ্জিনিয়ারিং করে বাঁধ, ব্যারেজ নির্মাণ না করে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতির সাথে সহাবস্থানের নীতি গ্রহণ করতে হবে। কমরেড সেলিম অবিলম্বে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প স্থগিত করে সার্বিক পর্যালোচনার মাধ্যমে সমন্বিত প্রকল্প চালু করার আহবান জানান।

কৃষিবিদ হারুন অর রশীদ বলেন, সরকারের দাবিকৃত সুবিধা জনগণ পাবে না। পদ্মার দুইপাড়ের কৃষি জমির শতকের ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ সেচাধীন। ১৫ লক্ষাধিক স্যালো টিউবওয়েলের মাধ্যমে ভূর্গস্থ পানি সেচের কাজে লাগানো হয়।কৃষকদের নিজেদের উদ্যোগে এই সেচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে সরকারের কোন ভূমিকা নেই। জনগণের সম্পৃক্ততাহীন এই প্রকল্প কোন কাজে আসবে না।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)