ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান, ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 10-06-2026

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান, ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব জালিয়াতি বা গুরুতর অপরাধের অভিযোগে ১৭ জন ন্যাচারালাইজড নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৮ জুন সোমবার ঘোষিত এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডিন্যাচারালাইজেশন অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় প্রতারণা, অপরাধ গোপন করা এবং ভুয়া তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের বিষয়গুলো কঠোরভাবে দমন করতে চায়।

মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে নাগরিকত্ব বাতিলের এমন মামলা খুবই সীমিত ছিল। ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে মাত্র ১১টি মামলা করা হতো। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রক্রিয়াকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে,যেমন ফৌজদারি অপরাধের ইতিহাস বা ভুয়া পরিচয় তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি সুযোগ রয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল, দীর্ঘমেয়াদি এবং বিরলভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, কারণ সরকারকে আদালতে প্রমাণ করতে হয় যে আবেদনকারী প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন।

জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তারা নাগরিকত্ব বাতিলের লক্ষ্যভিত্তিক শ্রেণি আরো বিস্তৃত করেছে। এর আগে গত মাসেও একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ ছিল।

সর্বশেষ অভিযানে যাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত একজন হাইতিয়ান অভিবাসী, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুকে যৌন নির্যাতনের দায়ে দণ্ডিত সাবেক যুগোস্লাভ নাগরিক, নাবালকের যৌন চিত্র সংক্রান্ত অপরাধে দণ্ডিত মেক্সিকোর একজন অভিবাসী, কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া এক সাবেক ক্যাথলিক যাজক যিনি শিশু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত, এবং ফিলিপাইনে জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তি যিনি শিশু-সংক্রান্ত যৌন অপরাধে দোষ স্বীকার করেছেন।

এছাড়া তালিকায় রয়েছে একজন ভারতীয় অভিবাসী, যিনি ভুয়া এইচ-১বি ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত; একজন কলম্বিয়ান মাদক চক্রের নেতার কন্যা, যার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে; জ্যামাইকা জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তি যিনি ওয়্যার ফ্রডে দণ্ডিত এবং কিউবান বংশোদ্ভূত এক নারী, যিনি একটি আদিবাসী ক্যাসিনোতে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত।

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেছেন, নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যারা অপরাধ ঢেকে রেখে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাগরিকত্ব নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন আইনগত সব পথ ব্যবহার করে নাগরিকত্ব বাতিলের এ অভিযান চালিয়ে যাবে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব একটি অর্জিত অধিকার, যা সততা ও আইন মেনে অর্জন করতে হয়।

প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাগরিকত্ব গ্রহণ করে বা গুরুতর অপরাধ গোপন করে থাকে, তাহলে তার নাগরিকত্ব বাতিলের পর তিনি আবার পূর্বের অভিবাসন অবস্থায় ফিরে যাবেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ডিপোর্টেশনের ঝুঁকিতে পড়বেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিকে আরো কঠোর করার অংশ এবং এটি আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের দিকে যেতে পারে। পাশাপাশি মানবাধিকার ও অভিবাসন অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্কও তৈরি হতে পারে। এ উদ্যোগকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনের বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ইতিমধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)