আবারও মাঠে নেমেছে বট বাহিনী। একটি রাজনৈতিক দলের কথিত সাইবার যোদ্ধা বলে পরিচত এই বট বাহিনী এখন নানান কায়দা নিয়েছে। ভার্চুয়াল জগতে বিএনপির বিরুদ্ধে নানান ধরনের প্রপাগান্ডায় লিপ্ত হওয়ার মতো প্রজেক্টে তারা মাথা ঘামাচ্ছে।
বট বাহিনী হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একযোগে পরিচালিত কৃত্রিম অ্যাকাউন্টের একটি দল, যা কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে। এটি মূলত কম্পিউটার প্রোগ্রাম (রোবট), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অর্থ দিয়ে পরিচালিত কিছু মানুষের সমন্বয়ে গঠিত হয়। এর আগে দেশের একটি রাজনৈতিক দল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে মারাত্মকভাবে ব্যবহার করেছিলো এই বট বাহিনী। যেনো ভার্চুয়াল প্রপাগান্ডায় নির্বাচনের আগে ও পরের চিত্র ঘুরিয়ে দেওয়া যায়। কোনো মিথ্যা খবর বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যকে অনেক বেশি মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে একযোগে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে ভার্চুয়াল জগতে এই বট বাহিনী কাজ করে। এর পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণাত্মক মন্তব্য ও গালিগালাজ করে। এরা বিএনপির কোনো ইতিবাচক বিষয়কে দাবিয়ে রাখতে নেতিবাচক মন্তব্য ও রিপোর্ট করে। আবার কোনো বিশেষ মতবাদকে জনপ্রিয় দেখাতে হাজার হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের মন্তব্য করা। এছাড়া নির্দিষ্ট কোনো কী-ওয়ার্ড (Key-word) ব্যবহার করে সেকেন্ডের মধ্যে হাজার হাজার কমেন্ট বক্সে একই লেখা বা পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিএনপির বিভিন্ন ইতিবাচক ইস্যুগুলিকে বটবাহিনী প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে যাচ্ছে। সূত্র জানায়, তারা এখন এই বট বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সাথে কোন কোন দেশের সাথে সখ্যতা বেশি দেখলে সাইবার বুলিং এর পাশাপাশি নানান রকম মন্তব্য করে পরিস্থিতি জটিল করে তুললে।
প্রতিদিনই লাইব চ্যাট
এদিকে বট বাহিনী প্রতিদিনই বিভিন্ন আইডিতে লাইব চ্যাট করে যাচ্ছে। এতে প্রথমে একটি রেকডিং করা কিছু বক্তব্য শোনানো হয়। যুক্তি দিয়ে দেখানো হয় বট বাহিনীর পেছনে থাকা রাজনৈতিক দলটির সাখে বিএনপি বাড়াবাড়ি করলে জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি ক্ষমতাচ্যুত হবে। তারা বোঝাতে চেষ্টা করে ওই দলটির সাথে যারা জোটে আছে সবাই ভয়ংকর এবং রাজনৈতিক মাঠকে যে কোনো সময় গরম করে দিতে পারে।
বিএনপি কি করছে?
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই বট বাহিনীর বিরুদ্ধে বিএনপির শক্ত কোনো প্রচারণা বা কার্যক্রম দৃশ্যমান হচ্ছে না। বা তারা এখন অন্য কাজে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছে। তারা কেউ পতিত ফ্যাসিবাদীদেও রক্ষায়, কেউবা তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা ঠুকে দিয়ে বিশাল বাণিজ্যে নেমেছে। অন্যদিকে বিএনপি গণমাধ্যমও এই ব্যপারে খুব সক্রিয় না। কারণ হিসাবে কারো কারো অভিমত একটি রাজনৈতিক দল বটবাহিনীকে বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগান সৃষ্টি করে লালন পালন করে যাচ্ছে। একিই কায়দায় এই বটবাহিনীর অন্যতম পৃষ্ঠপোষক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঢুকে পড়েছে জাতীয়তাবাদী দলের ব্যানারে। তারা বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনেও জাতীয়তাবাদী ঘরনার লোক বলে বিভিন্ন পদপদবি বাগিয়ে নিচ্ছে। আর প্রকৃত জাতীয়তাবাদী কোনঠাসা হয়ে পড়ছে। অথবা ক্ষমতা বা বিপুল পরিমাণ টাকার মোহে আছে। এসব কাজে বিএনপির পরিচয় ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন অনলাইন সোচ্চার রাখে। আর বট বাহিনীর নেতিবাচাক প্রচারাণাকে কাজে লাগিয়ে তাদের সমর্থিত ওইসব গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করে তথ্যের সত্যতা প্রতিষ্ঠা করে ফেলে।
শেষ কথা
ক্ষমতায় মোহে বিএনপি এখন দিশেহারা। দীর্ঘ ত্যাগ, জেল-জুলুমের পরও দলের একটি অংশ আওয়ামী লীগের একশ্রেণীর নেতাকর্মীদের মতো খাই খাই ভাব নিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ দেখছে। এতে দীর্ঘদিন লড়াই সংগ্রাম করে আবারও নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পরেও দলটির এক শ্রেণীর নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো ধরনের সহনশীলতা বা পরিশুদ্ধতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বিএনপির এই ধরনের নেতাকর্মীদের গভীর নিদ্রায় থাকার কারণে সাইবার জগতে বট বাহিনী একচেটিয়া যড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। কারো কারো মতে, এই বট বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঢুকে পড়া এদের সহযোগি রাজনৈতিক দলের মতাদর্শে বিশ্বাসীদের এই যড়যন্ত্র কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে তা সময় বলে দেবে।